মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিদায়ের দিন আটেকের মধ্যে রাজ্যের কলেজে কলেজে তৃণমূলের ঘাঁটি উৎখাত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। মঙ্গলবার বিকাশ ভবন থেকে প্রকাশিত নির্দেশিকায় রাজ্যের সরকারি অনুদানপুষ্ট কলেজে পরিচালন সমিতির সভাপতি এবং সরকার মনোনীত সদস্যদের কার্যকাল শেষ করার কথা ঘোষিত হয়েছে। এর ফলে, কলেজ প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্তগ্রহণ পর্ব সাময়িক ভাবে থমকাবে। কিন্তু কলেজে কলেজে এত দিনের তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের মৌরসি পাট্টা খর্ব হবে।
বাম আমলেও কলেজের পরিচালন সমিতিতে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। কিন্তু তৃণমূল আমলে তা আরও কয়েক কাঠি বেড়ে যায়। শুরুতেই সরকারি তরফে কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি বাছাই করা হত। এবং সাধারণত তিনি হতেন কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এ ছাড়া, বাকি দু’জন সরকারি প্রতিনিধি এবং উচ্চ শিক্ষা সংসদের প্রতিনিধিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনও জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক রং থাকা শিক্ষক, অধ্যক্ষকে করা হত। তৃণমূল জমানায় রাজ্যের প্রথম সারির মন্ত্রী তো বটেই, বিধায়ক, কাউন্সিলররাও স্থানীয় কলেজের পরিচালন সমিতির সদস্য বা সভাপতি হিসেবে লাগাম ধরে থাকতেন। এমন কলেজও ছিল যেখানে, দু’জন বিধায়ক, এক জন কাউন্সিলর পরিচালন সমিতিতে রয়েছেন।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে শিক্ষাঙ্গন রাজনীতিমুক্ত করার কথা বলেছে। আগের বিধায়করা অনেকেই হেরেছেন। চর্চা চলছে, বিজেপিও নিজেদের লোক বসিয়ে আগের জমানার পথে হাঁটবে কি না। বিকাশ ভবনের এক কর্তা বলেন, ‘‘সভাপতি না-থাকা মানে আগের পরিচালন সমিতি কার্যত নিষ্ক্রিয়।’’ আজ, উচ্চ মাধ্যমিকের ফল বেরোতেই সোমবার থেকে স্নাতকে ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সূত্রের খবর। এর মধ্যে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষা দফতরের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। কলেজে কলেজে দ্রুত নতুন পরিচালন সমিতি তৈরির প্রক্রিয়ার দিকে এখন সকলেই তাকিয়ে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)