রাজ্যে ১১টি জেলা পরিক্রমা করে গত নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’। যে সব জেলায় মূল যাত্রা ঢোকেনি, সেখানে তার পরেও হয়েছে বিভিন্ন উপ-যাত্রা এবং ‘বাংলা বাঁচাও’ সমাবেশ। এ বার আসন্ন বিধানসভা ভোটের জন্য সিপিএমের নির্বাচনী আবেদনের ‘থিম’ও হতে চলেছে ‘বাংলা বাঁচাও’।
প্রায় ১০ বছর পরে রাজ্যে আবার ভোটের ইস্তাহার গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করতে চাইছে সিপিএম। রাজ্যে ২০১৬ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে প্রথম বার সিপিএমের আসন সমঝোতা হলেও নির্বাচনী ইস্তাহার বামেরা পৃথক ভাবেই করেছিল। এ বারও তা-ই হতে চলেছে। লাগাতার নির্বাচনী বিপর্যয়ের জেরে মাঝে সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী আবেদন তৈরি করেই কাজ চালিয়ে নিয়েছিল বামেরা। তবে এ বার ভোটের আগে সাম্প্রতিক ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’-সহ নানা কর্মসূচিতে ভাল সাড়া এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়া থেকে উদ্ভুত পরিস্থিতির জেরে সিপিএম নেতৃত্বের আশা, তীব্র মেরুকরণের আবহ এ বার খানিকটা কাটানোর সুযোগ আছে। সেই মতোই তৃতীয় বিকল্পের কথা বলে নির্বাচনী আবেদন তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সিপিএম সূত্রের খবর, দফায় দফায় সমীক্ষা চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেই ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’র দাবি-দাওয়া চূড়ান্ত করা হয়েছিল। রাজ্যওয়াড়ি বিষয়ের পাশাপাশি জেলাভিত্তিক নানা স্থানীয় প্রশ্নকে সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। একই পথে ইস্তাহারের কাঠামোও তৈরি করতে চাইছে সিপিএম। রাজ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের বেহাল দশা, শিল্পের আকাল এবং কর্মসংস্থানের অভাব, নানা ক্ষেত্রে দুর্নীতি— মূলত এই সব সামনে রেখেই সরকার বদলের ডাক দিতে চাইছে তারা। পাশাপাশিই থাকছে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি রোখার ডাক। মতুয়াদের সমস্যা, নাগরিকত্বের প্রশ্ন, পরিবেশ ধ্বংস, ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের সঙ্কটের মতো বিষয়ও তুলে আনা হবে প্রচারে। সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বাঁচানো যে প্রান্তিক মানুষের স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে বলা হবে সে কথা।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের তরফে ইতিমধ্যেই জেলা নেতৃত্বকে নিজেদের এলাকার বিষয় তথা সমস্যা চিহ্নিত করে প্রচারের গতি বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশিই চলছে এসআইআর-এর শুনানির নামে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির প্রতিবাদ। সিপিএমের রাজ্য কমিটির পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা আগামী ১৯-২০ ফেব্রুয়ারি। বামেদের মধ্যে কে কত এবং কোন আসনে লড়বে, তা ঠিক করে প্রার্থী তালিকার প্রাথমিক কাজ সেই সময়েই সেরে ফেলতে চান সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব। তার পরে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনী ইস্তাহারের কাজ চূড়ান্ত করে মার্চের গোড়া থেকে পুরোদস্তুর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ঢুকে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের। তত দিনে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হোক বা না হোক, এই লক্ষ্য বেঁধেই এগোতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়, ‘‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানই আমাদের মূল কথা। রাজ্যের মানুষের যে অংশ মনে করেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের বিকল্প হবে বিজেপি, তাঁরা এখন বাস্তব দেখতে পাচ্ছেন। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে বিকল্প হতে পারে না, তৃণমূলের অপশাসনের অবসান করতে তারা চায়ও না। এই দুই দলের হাত থেকে বাংলা বাঁচাতে এবং পেটের ভাত, হাতের কাজের দাবিতেই মানুষের কাছে সমর্থনের আহ্বান জানাব আমরা।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)