তিন মাসের ব্যবধানে কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে আবার আইপ্যাক-কর্তার ঠিকানায় হানা দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ বার তাদের নিশানায় ভোটকুশলী সংস্থাটির অন্যতম ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিংহ। পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার আম আদমি পার্টি (আপ)-র নেতা বিজয় নায়ারের বাড়ি ও দফতরেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ইডি-র এই ‘তৎপরতার’ কড়া সমালোচনা করেছে তৃণমূল।
সংবাদসংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের আর এক ডিরেক্টর ঋষিরাজের তিনটি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি অভিযান হয়েছে। ইডি জানিয়েছে, ‘বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন’ (পিএমএলএ)-এর আওতায় বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, মুম্বই এবং দিল্লির বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান চালানো হয়েছে। সূত্রের খবর, গত ৮ জানুয়ারি কলকাতায় আইপ্যাক-কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার দফতরে ইডির যে টিম হানা দিয়েছিল, সেই টিমই এ বার ঋষির হায়দরাবাদের বাড়ি-সহ কয়েকটি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। ২০২০ সালে ওই কয়লা চুরির মামলা দায়ের করেছিল সিবিআই। সেই ঘটনায় বেআইনি আর্থিক লেনদেনের তদন্তে বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে নায়ারের বাসস্থানেও তল্লাশি চালানো হয়।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি ইডি কয়লা মামলায় বয়ান নথিভুক্ত করার জন্য প্রতীককে তলব করেছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে আসন্ন বিধানসভা ভোট সংক্রান্ত কাজের কথা উল্লেখ করে ইডি নোটিস বাতিল করার জন্য দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আইপ্যাক কর্ণধার। ঘটনাচক্রে, তার পরেই হল এই তল্লাশি অভিযান। তৃণমূলের তরফে বৃহস্পতিবার ইডির এই তল্লাশি অভিযানকে ‘বিজেপির হতাশাজনক’ প্রচেষ্টা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রের শাসকদল পরিকল্পিত ভাবে তাদের পরামর্শদাতা সংস্থার কর্তার বাড়িতে ইডি হানার মাধ্যমে রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণ করতে চাইছে। দলের নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির মাধ্যমে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তৃণমূলকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করছে। তারা জানুয়ারিতেও এটা করেছিল এবং আবার তাদের কুৎসিত খেলায় নেমেছে।”
আরও পড়ুন:
পশ্চিম বর্ধমানের কুনুস্টোরিয়া এবং কাজোরা এলাকায় সংলগ্ন ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর খনি সম্পর্কিত বহু কোটি টাকার কয়লা চুরি কেলেঙ্কারির ওই অভিযোগে ইসিএলের কয়েক জন প্রাক্তন কর্তা-সহ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়। ইডির দাবি, কয়লা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক হাওয়ালা অপারেটর আইপ্যাক-‘ঘনিষ্ঠ’ সংস্থা ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন করেছিলেন। কয়লা চুরি থেকে পাওয়া প্রায় ২০ কোটি টাকার হাওয়ালা তহবিল আইপ্যাকের কাছে পৌঁছেছিল বলেও ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে। ইডি সূত্রে আরও দাবি, ওই হাওয়ালা তহবিল যে সংস্থার মাধ্যমে আইপ্যাকের কাছে এসেছিল, সেই সংস্থাটি দিল্লির তথাকথিত আবগারি দুর্নীতির টাকা পাচারেও যুক্ত।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইপ্যাকের দফতর এবং ওই সংস্থার দফতর প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চলছে।
-
ফের কলকাতায় আসছেন ইডির ডিরেক্টর! আইপ্যাকের ঘটনা নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যেই শহরে রাহুল নবীন
-
ইডির বিরুদ্ধে তদন্তে স্থগিতাদেশ, ফুটেজ ও নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলল, দলের কাজকর্মে এজেন্সি-হস্তক্ষেপ নয়
-
কেন তৃণমূলের মামলার নিষ্পত্তি করা হল? কোন যুক্তিতে মুলতুবি ইডির আবেদন? আইপ্যাক নিয়ে শুনানিতে কী বলল হাই কোর্ট
-
ইডি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরে ইডির আইপ্যাক অভিযান নিয়ে মুখ খুললেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার, কী বললেন মনোজ?
-
‘কেন শুধু কলকাতার বাসিন্দা ডিরেক্টরের বাড়িতেই তল্লাশি’? আইপ্যাক-কাণ্ডে ইডির বিরুদ্ধে তথ্যচুরির অভিযোগ অভিষেকের