কেন এত দিন ধরে খোলা ছিল তার? হাওড়ার শিবপুরে বছর বারোর বালক ইরফান খানের মৃত্যু নিয়ে এই প্রশ্নই তুলছে তার পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে স্থানীয় ক্লাবের সদস্যদেরই দোষারোপ করছেন তাঁরা। যদিও ক্লাব সদস্যরা ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শনিবার বিকেলে হাওড়ার শিবপুরে নবান্নের কাছে কাজিপাড়ার মালিবাগান এলাকায় মৃত্যু হয় ইরফানের। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেলে মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলছিল ইরফান। খেলার মাঝে জল খেতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। তার জেরে মৃত্যু ঘটে। ওই ঘটনায় স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্যদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন ইরফানের পরিবারের সদস্যরা। নাসরিন বেগম নামে ইরফানের এক আত্মীয়ের কথায়, ‘‘ক্লাবের লোকজনই দোষী। ওরা তার কেন খুলে রাখেনি? এত দিন ধরে কেন বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল? ওদের তো এটা দেখা উচিত ছিল। ওরা কি আমাদের বাচ্চাকে আর ফেরত আনতে পারবে?’’
একই সুর ইরফানের কাকিমা ইয়াসিন বেগমের গলাতেও। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমার ছেলে তো চলেই গিয়েছে। ও তো আর ফিরে আসবে না। এখন আর বলে কী লাভ? উৎসব হয়ে গিয়েছে তাও বিদ্যুতের তার খোলা অবস্থায় পড়েছিল। ক্লাবের লোকজন দেখেনি এটা। ওদের তো এটা খেয়াল রাখা উচিত ছিল।’’
আরও পড়ুন:
-
খেলতে খেলতে জল খেতে যাওয়াই কাল হল, শিবপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইরফানের ঘরে ফেরা হল না আর
-
খেলতে খেলতে জল খেতে গিয়ে লুটিয়ে পড়ল ছোট্ট ইরফান, অনুশোচনায় দগ্ধ শিবপুরের পাড়া
-
স্বামী, সৎপুত্র ধর্ষণ করেছেন! নিষ্কৃতি মৃত্যু চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি উত্তরপ্রদেশের মহিলার
-
বায়ুদূষণের নিরিখে বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর কলকাতা! তালিকায় আরও দুই ভারতীয় শহর
শেখ জমির আলি নামে এক ক্লাব সদস্য অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ‘‘ক্লাবের লোকজন বিদ্যুতের তার খুলেই রেখেছিল। এর পর ওরা নিজেরাই তার জুড়েছে। তার জেরেই এমন একটা ঘটনা ঘটেছে। এ বার ক্লাবের লোকজন কী করবে? আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম না। ওখানে যাঁরা ছিলেন, ওখানে তাঁদের মুখেই শুনেছি।’’ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।