পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে শাড়ির স্তূপের মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন তৃণমূল নেতা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না! পুলিশ সেই শাড়ির স্তূপ সরাতেই বেরিয়ে এলেন হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূল নেতা ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তী। সেখান থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে আমতা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসন প্রকল্পের টাকা থেকে ব্রহ্মানন্দ কাটমানি আদায় করেছিলেন। এই নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার পর থেকেই পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল। অভিযোগ, পুলিশের নজর এড়াতে তিনি উদয়নারায়ণপুরের বিলাসপুর এলাকায় একটি কাপড়ের দোকানের গুদামে গিয়ে শাড়ির স্তূপের নীচে লুকিয়ে পড়েন। কিন্তু শেষে সেই শাড়ির গুদামে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে আটক করে।
তৃণমূল নেতাকে আটক করার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (আনন্দবাজার ডট কম তার সত্যতা যাচাই করেনি)। রবিবার ধৃতকে উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়েছে। ভোটের ফলঘোষণার পরে রাজ্যে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতা-কর্মী, কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন বিধায়কও।
সম্প্রতি কাটমানি ফেরত দেওয়ার দাবিতে বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন স্থানীয়দের একাংশ। আতঙ্কে খাটের তলায় লুকিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা। কোচবিহার জেলার মাথাভাঙার জোরপাটকি গ্রামের ঘটনা। কাটমানি নেওয়ায় অভিযুক্ত নেতার নাম সাইদুল মিঞা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার সাইদুল এলাকায় তৃণমূল নেতা হিসাবেই পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রামীণ আবাস-সহ একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর স্থানীয়দের রোষ গিয়ে পড়ে সাইদুরের উপর। তাঁর বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীদের একাংশ। বাইরে বিক্ষোভ শুরু হতেই বাড়ির ভিতরে খাটের তলায় লুকিয়ে পড়েন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। পরে মাথাভাঙা থানার পুলিশ তাঁকে খাটের নীচ থেকে বার করে আটক করে।