Advertisement
E-Paper

প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি গেলেন স্বয়ং মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা! গেলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাও

আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইপ্যাকের দফতর এবং ওই সংস্থার দফতর প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চলছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০৯
প্রতীক জৈনের বাড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে।

প্রতীক জৈনের বাড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে। —নিজস্ব চিত্র।

আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইপ্যাকের দফতর এবং ওই সংস্থার দফতর প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চলছে। দুপুর ১২টা নাগাদ তল্লাশি চলার সময়ে হঠাৎই প্রতীকের বাড়িতে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছোনোর মিনিট পাঁচেক আগেই সেখানে পৌঁছোন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাও।

সকাল থেকেই প্রতীকের বাড়িতে অভিযান চলছিল। খবর ছড়িয়ে পড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই। বেলা ১২টা নাগাদ সেখানে পৌঁছোন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। তার কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বাড়ির বাইরের দেওয়ালের বাইরের রাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে প্রশ্ন করেন, ‘‘বাড়িটা কোথায়?’’ তার পরে গাড়ি থেকে নেমে চলে যান ওই বাড়িতে।

তবে প্রতীকের বাড়ি থেকে কয়েক মিনিটেই বেরিয়ে আসেন মমতা। তখন তাঁর হাতে একটি সবুজ ফাইল। বাইরে এসে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল! আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি। ওই জঘন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ! উনি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন! আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম। ও আমার দলের ইনচার্জ। ওরা হার্ড ডিস্ক, ফোন সব নিয়ে নিচ্ছিল।’’

মমতার লাউডন স্ট্রিটে যাওয়ার প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘ওঁর এই কাজ অনৈতিক।’’ পাশাপাশিই শুভেন্দু বলেন, তিনি তদন্ত এভং ইডি-র তল্লাশি নিয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না। তাঁর কথায়, ‘‘আমি তদন্তের বিষয়ে ঢুকছি না। তবে মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং তদন্তে বাধা দিয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্রের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেসের দফতরে ধর্না দিয়েছিলেন। রাজীব কুমারের বাড়িতে যখন সিবিআই তল্লাশি চালিয়েছিল, তখনও তিনি পুলিশ কমিশনারকে নিয়ে ধর্না দিয়েছিলেন।” আইপ্যাকের কাছে কেন তৃণমূলের নথিপত্র থাকবে, সেই প্রশ্নও তোলেন শুভেন্দু।

মমতা জানান, তিনি এর পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরেও যাবেন। সেই মতো লাউডন স্ট্রিট থেকে তিনি সেখানে রওনা দেন।

মুখ্যমন্ত্রী আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের দফতরে পৌঁছোনোর আগেই সেখানে চলে যান বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। তিনি জানান, ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রচার করতেই সেখানে গিয়েছেন তিনি। ইডি অভিযান প্রসঙ্গে কৃষ্ণা বলেন, “রাজ্য সরকারকে হেনস্থা করতেই এই প্রচেষ্টা। ইতিমধ্যেই আইপ্যাকের দফতরের বাইরে পুলিশি নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। সেখানে পৌঁছেছেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু। পৌঁছেছেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারও। বাইরে স্লোগান দিচ্ছেন তৃণমূলকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে এই লাউডন স্ট্রিটে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাংলোয় হানা দিয়েছিল সিবিআই। তখনও সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা। ওই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ধর্মতলায় ধর্নাও শুরু করেছিলেন। ঘটনাচক্রে, তার পরে আবার একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা হানা দিল মমতার সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থার কর্ণধারের বাড়িতে। তখনও তিনি সেখানে সশরীরের উপস্থিত হলেন!


Mamata Banerjee ED Pratik Jain IPAC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy