Advertisement
E-Paper
WBState_Assembly_Elections_Lead0_04-05-26

সরকারি খামারে তৈরি হচ্ছে জৈব স্যানিটাইজ়ার

পঞ্চায়েত দফতরের অধীনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ২২টি খামার রয়েছে।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২০ ০৪:০০
বীরভূমের লাভপুরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা জৈব স্যানিটাইজ়ার তৈরির কাজ করছেন। নিজস্ব চিত্র

বীরভূমের লাভপুরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা জৈব স্যানিটাইজ়ার তৈরির কাজ করছেন। নিজস্ব চিত্র

করোনাভাইরাস নিয়ে দেশজোড়া আতঙ্কের মধ্যেই শহরে দেখা দিয়েছে স্যানিটাইজ়ারের আকাল। যে ক’টি দোকানে আসছে, সেগুলিও মুহূর্তের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্যোগী হয়েছে পঞ্চায়েত দফতরের অধীনস্থ সিএডিসি বা সামগ্রিক এলাকা উন্নয়ন পর্ষদ।

পঞ্চায়েত দফতরের অধীনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ২২টি খামার রয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে থাকা প্রতিটি খামারে কৃষিকাজের পাশাপাশি মাছ চাষ ও বিভিন্ন গবাদি পশুও পালন করা হয়। কৃষিকাজ হয় পুরো জৈব পদ্ধতি মেনে। এ বার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, শিলিগুড়ি, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি ও বর্ধমানে পর্ষদের খামারে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাই তৈরি করছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার। পর্ষদের প্রশাসনিক সচিব সৌম্যজিৎ দাসের দাবি, ‘‘১৫, ৩০ এবং ৬০ মিলিলিটার আয়তনের স্যানিটাইজ়ারের বোতলে থাকছে ৬০ শতাংশ অ্যালকোহল, ৩০ শতাংশ অ্যালোভেরা ক্রিম ও গ্লিসারিনের মিশ্রণ এবং ১০ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় তেল।’’

মূলত তিন ধরনের তেল স্যানিটাইজ়ারে ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে প্রচুর মহুয়া গাছ রয়েছে। সেখানকার কেন্দ্রে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা স্যানিটাইজ়ারে মহুয়া তেল ব্যবহার করছেন। আবার বীরভূমে রয়েছে প্রচুর সোনাঝুরি গাছ। সেখানে স্যানিটাইজ়ারে ব্যবহার করা হচ্ছে সোনাঝুরি গাছ থেকে তৈরি করা তেল। শিলিগুড়ি ও কালিম্পংয়ের মহিলারা স্যানিটাইজ়ারে মেশাচ্ছেন চা গাছের তেল।

রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘পর্ষদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েরা সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে স্যানিটাইজ়ার তৈরি করছেন। সেগুলি যে বাজারের দামি স্যানিটাইজ়ারের থেকে অনেক বেশি কার্যকর, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ওই সমস্ত স্যানিটাইজ়ারের নমুনা পরীক্ষা করে সাফল্যও মিলেছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পুরুলিয়ায় পর্ষদের তিনটি খামারে অ্যালোভেরা চাষ হয়। সেখানেই তৈরি হচ্ছে মহুয়া তেল।’’ তিনি জানান, করোনা-আতঙ্কে এখন বাজারে স্যানিটাইজ়ার মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে স্যানিটাইজ়ার তৈরি করে গ্রামের মেয়েরা যেমন আর্থিক ভাবে উপকৃত হবেন, তেমনই সাধারণ মানুষ সুলভ মূল্যে স্যানিটাইজ়ার পাবেন।

পর্ষদ সূত্রের খবর, নবান্ন, কলকাতা পুরসভা, বিধাননগর পুরসভা-সহ শহরের প্রতিটি সরকারি দফতরে গ্রামের মেয়েদের হাতে তৈরি স্যানিটাইজ়ার দেওয়া হবে। সল্টলেকের পঞ্চায়েত ভবন ও মৃত্তিকা ভবনের মূল গেটে ঢোকা ও বেরোনোর সময়ে কর্মীদের হাতে দেওয়া হচ্ছে পর্ষদের তৈরি স্যানিটাইজ়ার। পর্ষদের প্রশাসনিক সচিব সৌম্যজিৎবাবু বলেন, ‘‘সল্টলেকের পঞ্চায়েত ভবন ও মৃত্তিকা ভবনের স্টলে ন্যায্য মূল্যে স্যানিটাইজ়ার বিক্রিও করা হচ্ছে। এ ছাড়া, সল্টলেকে ই-রিকশায় করেও বিক্রি হচ্ছে স্যানিটাইজ়ার।’’ পর্ষদ জানিয়েছে, ১৫, ৩০ এবং ৬০ মিলিলিটারের স্যানিটাইজ়ারের দাম ধার্য করা হয়েছে যথাক্রমে ২০, ৪০ ও ৬০ টাকা।

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy