আইপ্যাক দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানার বিরুদ্ধে এ বার পুলিশের দ্বারস্থ হলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’টি পৃথক থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর করেছে। ইডি এবং সিআরপিএফের অজ্ঞাতপরিচয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানা এবং শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মমতা।
আইপ্যাক তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। বৃহস্পতিবার সকালে লাউডন স্ট্রিটে ওই সংস্থার কর্ণধার প্রতীকের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। একটি দল যায় সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরেও। শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ শুক্রবার সকালে লাউডন স্ট্রিটে গিয়েছিল। সেখান থেকে আগের দিনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসাবে মমতা থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত করেছেন। জানিয়েছেন, তাঁর দলের নথি থাকে আইপ্যাক দফতর এবং প্রতীকের বাড়িতে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় অনধিকার প্রবেশ, না-বলে জিনিস নিয়ে নেওয়া বা চুরি, হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখানোর মতো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি আইনেও।
বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলার সূত্রে ইডির তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছিল লাউডন স্ট্রিট এবং সল্টলেকে। বেলার দিকে ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। প্রথমে প্রতীকের বাড়ি এবং পরে আইপ্যাকের দফতরে তিনি ঢোকেন এবং ইডির অভিযান চলাকালীনই ভিতর থেকে ফাইল, নথিপত্র, ল্যাপটপ বার করে আনেন। দাবি করেন, তাঁর দলের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কৌশল চুরি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার শেক্সপিয়র সরণি এবং ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় যে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তাতেও এই ধারাগুলি রয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করেছেন তিনি।
আইপ্যাক দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে ইডির অভিযান নিয়ে এর আগে বৃহস্পতিবার পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত একটি মামলা করা হয়েছিল। এ বার নতুন করে অভিযোগ দায়ের হল। অভিযোগকারী খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ইডির তরফে এই ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করা হয়েছে। তার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে যুক্ত করা হচ্ছে। তৃণমূলও পাল্টা একটি মামলা করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করে। তাতে যুক্ত করা হয়েছে আইপ্যাক এবং ইডিকে।