১০ মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধা। পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তিনি অচল। নিজে থেকে নড়াচড়া করতেও পারেন না। সেই মাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে নারাজ পুত্র। হাসপাতালের খরচ জুগিয়েই মাকে সেখানে রেখে দিতে চান তিনি। অভিযোগ, চিকিৎসকেরা ছুটি দিয়ে দিলেও রোগীকে তাঁর পুত্র বাড়িতে নিয়ে যাননি। উপরন্তু ফয়সালার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
কলকাতার বাসিন্দা অমিত ভাদুড়ি তাঁর মাকে বালিগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। বৃদ্ধার থাইয়ের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে ছিল বার্ধক্যজনিত একাধিক রোগের উপসর্গ। অভিযোগ, ১০ মাস পরেও মাকে বাড়িতে নিয়ে যাননি অমিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ওই রোগীর চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া যেতেই পারে। সেই অনুযায়ী তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোগীর পরিবার তাতে নারাজ। এ ভাবে হাসপাতালের একটি শয্যা আটকে রাখায় অন্য রোগীকে ভর্তি করানো যাচ্ছে না, দাবি কর্তৃপক্ষের।
আরও পড়ুন:
অমিতের বক্তব্য, তাঁর মা চলতে পারছেন না। তবু কেন তাঁকে ছুটি দিয়ে দিতে চাইছেন চিকিৎসকেরা? পরিবারের তরফে হাসপাতালের খরচ সময়মতো মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তা হলে মাকে হাসপাতালে রাখতে সমস্যা কোথায়? এই প্রশ্ন এবং হাসপাতালের পরিষেবা সংক্রান্ত আরও কিছু অভিযোগ নিয়ে স্বাস্থ্য কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অমিত। কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রোগীর পরিবারের দাবি মেটানো সম্ভব নয়। কারণ, ওই হাসপাতাল জনহিতকর। সকল জনগণকে পরিষেবা দেওয়া হাসপাতালের কর্তব্য। যে রোগীকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, তাঁকে হাসপাতালে ফেলে রেখে শয্যা আটকে রাখা যাবে না। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বৃদ্ধাকে বাড়ি নিয়ে যেতে হবে, জানিয়েছে কমিশন। পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে কমিশনের প্রতিনিধিদল হাসপাতাল পরিদর্শন করবে।