আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির ঘটনায় এ বার অভিযোগ দায়ের হল ইডির বিরুদ্ধে। কলকাতা পুলিশ সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। ইডির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছে কলকাতা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতায় লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। এই এলাকাটি শেক্সপিয়র সরণি থানা এলাকার মধ্যেই। সূত্রের খবর, ওই থানাতেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশের ওই সূত্রের দাবি, সাধারণত এই ধরনের অভিযানের সময়ে স্থানীয় পুলিশকে তা জানানো হয়। অভিযানের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য না জানানো হলেও সাধারণ কিছু তথ্য জানানো হয়ে থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পুলিশকে কিছু না জানিয়েই ইডির অভিযান চলে লাউডন স্ট্রিটে। পরে পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করলে তখনও তাঁদেরও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালের ওই ঘটনার জন্যই ইডির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ।
এই অভিযোগের বিষয়ে কলকাতা পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সরাসরি লালবাজার থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান ইডির আধিকারিকেরা। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। ইডির অভিযানের খবর পাওয়ার পরেই সেখানে পৌঁছে যান পুলিশকর্মীরা। দুপুর ১২টা নাগাদ প্রতীকের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় একই সঙ্গে সেখানে পৌঁছোন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাও।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ কমিশনার সেখানে পৌঁছোনোর আগে থেকেই লাউডন স্ট্রিটের ওই ভবনের নীচে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল। উপস্থিত ছিলেন ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায়-সহ কলকাতা পুলিশের বেশ কয়েকজন পদস্থ আধিকারিকও। ভবনের মূল ফটকের বাইরে রাস্তার ধারের ফুটপাথে এবং ভবন চত্বরে পুলিশের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। ভবনের উপরের দিকে যাওয়ার সিঁড়ির মুখে মোতায়েন ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও।
আরও পড়ুন:
আইপ্যাক বর্তমানে তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা দুপুর ১২টা নাগাদ সংস্থার কর্ণধার প্রতীকের বাড়িতে প্রবেশ করেন। কয়েক মিনিট পরে সবুজ রঙের একটি ফাইল নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। ফাইল হাতে নিয়ে প্রতীকের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে মমতা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে তাঁর দলের সব নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। পরে সেখান থেকে সল্টলেকে আইপ্যাক-এর দফতরের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরেও লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল। সকাল থেকে তল্লাশি চালানোর পরে শেষে দুপুর ৩টের কিছু আগে প্রতীকের বাড়ি ছাড়েন ইডির আধিকারিকেরা। ইডির আধিকারিকেরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরে বেশির ভাগ পুলিশকর্মীরা এলাকা ছাড়লেও কয়েক জন তখনও সেখানে মোতায়েন ছিলেন।