E-Paper

চার দিন পরেও ‘আড়ালে’ দুই জনপ্রতিনিধি , ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা

তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডের পরেই ‘বেআইনি’ বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়। যদিও ভাঙার উপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। পোড়া কারখানা সংলগ্ন পাশের যে তেতলা বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছিল, তাতেও স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত।

চন্দন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ০৮:৫৭
জাভেদ খান।

জাভেদ খান।

রাতারাতি মাথা গোঁজার ঠাঁই ছেড়ে পরিবার নিয়ে নামতে হয়েছে রাস্তায়! আস্তানার উপরে বুলডোজার চললেও নিরুপায় হয়ে দেখা ছাড়া উপায় ছিল না। পোড়া কারখানা বা সংলগ্ন বাড়ি শুধু নয়, বুলডোজার-আতঙ্ক গোটা তিলজলা জুড়েই। প্রতিবাদে বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে এলেও স্থানীয় বিধায়ক বা পুরপ্রতিনিধিকে ঘটনাস্থলে আসতে দেখা যায়নি গত চার দিনে। বিপদে তাঁদের পাশে না পাওয়ায় বাসিন্দারা প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাঁদের একাংশ ক্ষোভে ফুঁসছেন।

তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডের পরেই ‘বেআইনি’ বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়। যদিও ভাঙার উপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। পোড়া কারখানা সংলগ্ন পাশের যে তেতলা বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছিল, তাতেও স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। শুক্রবার স্থগিতাদেশের প্রতিলিপি হাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সিপিএমের শতরূপ ঘোষ জনপ্রতিনিধিদের না আসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কোনও সময় না দিয়ে পুরসভা বাড়ি ভাঙতে শুরু করলেও কেন জনপ্রতিনিধিদের কেউ ঘটনাস্থলে এলেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শনিবারেও এলাকায় তাঁদের দেখা মেলেনি।

গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কসবার বিধায়ক জাভেদ খান। এক সময়ে তিনি রাজ্যের মন্ত্রীও ছিলেন। জি জে খান রোডের যে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, সেই এলাকা কলকাতা পুরসভার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে, যেখানকার পুরপ্রতিনিধি বিধায়ক জাভেদ খানের ছেলে ফৈয়াজ় আহমেদ খান। যদিও পিতা-পুত্র কাউকেই ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।

গত কয়েক বছরে তিলজলা এলাকায় একের পর এক বেআইনি বহুতল তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘিঞ্জি এলাকায় কারখানাও চলছে। অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই সবটা চলে। উপরন্তু, মদত রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের একাংশের। ফলে প্রশাসনের নির্দেশে পোড়া কারখানা আপাতত ভাঙা শুরু হলেও আগামী দিনে যে ওই সব বহুতলেও ‘হাত’ পড়বে না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হচ্ছেন না বাসিন্দারা। প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়াতে এ দিনও জি জে খান রোডের বাসিন্দা মমতাজ বেগম পোড়া কারখানার সামনে যান। জনপ্রতিনিধিদের না আসা নিয়ে প্রশ্নও তোলেন। তাঁর কথায়, ‘‘সব দোষ তো আর বাসিন্দাদের নয়। রাজনৈতিক মদত না থাকলে এত কিছু হয় না। তা হলে সবাই দায় এড়াচ্ছেন কেন?’’ একই প্রশ্ন এক কাপড়ে ঘর ছাড়া মহম্মদ ইমরানের গলাতেও। তিনি বললেন, ‘‘ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোথায় রাত কাটাব, জানি না। আপাতত আত্মীয়ের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছি। আমাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই।’’

কিন্তু যাঁদের নিয়ে এলাকায় এত প্রশ্ন, তাঁরা কোথায়? শনিবার কসবার বিধায়ক জাভেদ খানের জি জে খান রোডের অফিসে গিয়ে তাঁর দেখা মেলেনি। অফিসে বসা দু’জন সন্ধ্যা সাতটার পরে তিনি আসবেন বলে জানালেন। তবে ফোনে বিধায়ককে পাওয়া গেল। তাঁর দাবি, পুলিশের কাছে এলাকায় যাওয়ার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বিধায়কের কথায়, ‘‘প্রশাসন অনুমতি না দিলে কী ভাবে যাব? নির্বাচনের পরে তপসিয়ায় গোলমাল থামাতে গিয়েছিলাম। দেখলাম, আমার নামেই মামলা হয়ে গিয়েছে। আগুন লাগার পরে ওখানে গেলে জনগণ অতি উৎসাহে কিছু করলে তার দায় তো আমাকেই নিতে হত।’’ ফৈয়াজ়ের কথায়, ‘‘জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলার জন্য আমিই তো এলাকাছাড়া। ঘটনাস্থলে আর কী করে যাব? বাইরে থেকে যতটা সাহায্য করার সবটাই করছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Javed Khan Fire Accident tiljala

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy