E-Paper

বেসরকারির শয্যা ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত হাসপাতালগুলির

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজ তৈরির জন্য অনেক বেসরকারি সংস্থা বা গোষ্ঠী বিনামূল্যে বা এক টাকায় কিংবা খুব অল্প দামে জমি পেয়েছে। তারই শর্তানুযায়ী মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ুয়াদের অন্তত ৫০টি আসন থাকে সরকারের হাতে।

শান্তনু ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ০৮:৪৪

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সরকারি হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে রোগীদের ঘুরে বেড়ানোর চেনা ছবি বদলাতে কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শয্যার একাংশ নিয়ে ‘জেনারেল পুল’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও সরকারি নির্দেশিকা হাতে না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি শহরের কিছু বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সকলেরই দাবি, ‘‘স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা হাতে পেলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।’’ রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানাচ্ছেন, শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তথ্য একত্রিত করা হচ্ছে। কোন কোন হাসপাতাল সরকারের থেকে কম দামে জমি পেয়েছিল, তা দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসচিব বলেন, ‘‘সরকারের সঙ্গে ওদের চুক্তি অনুযায়ী কতগুলি শয্যা, বহির্বিভাগের কোন পরিষেবা বিনামূল্যে দেবে, সেগুলি দেখে তালিকা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই বৈঠক হতে পারে।’’

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজ তৈরির জন্য অনেক বেসরকারি সংস্থা বা গোষ্ঠী বিনামূল্যে বা এক টাকায় কিংবা খুব অল্প দামে জমি পেয়েছে। তারই শর্তানুযায়ী মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ুয়াদের অন্তত ৫০টি আসন থাকে সরকারের হাতে। পাশাপাশি, মোট শয্যার ১০-১৫ শতাংশ এবং অন্তত ৪০ শতাংশ বহির্বিভাগের পরিষেবা বিনামূল্যে দেওয়ার চুক্তি রয়েছে। বিগত দিনে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ। সাম্প্রতিক অতীতে কোভিডের সময়ে রোগীর চাপ সামাল দিতে বেসরকারি হাসপাতালের কিছু সংখ্যক শয্যা নিয়েছিল রাজ্য সরকার।

বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাসোসিয়েশনের পূর্বাঞ্চলীয় সভাপতি রূপক বড়ুয়া বলেন, ‘‘সরকারি হাসপাতালের বিপুল রোগীর চাপ সামলে কোনও সরকারের পক্ষেই সকলকে শয্যা দেওয়া সম্ভব নয়। বেসরকারি হাসপাতালের শয্যা ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত। এটি আমাদের কর্তব্যও।’’ তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নিশ্চয়ই বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের মউ-চুক্তি হবে। তখনই বোঝা যাবে, কোন কোন হাসপাতাল এই নির্দেশের আওতায় আসবে।

আর এন টেগোর, মণিপাল ও অ্যাপোলো হাসপাতাল এখনই প্রতিক্রিয়া দিতে চায়নি। ডিসান হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর তাপস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কোভিডেও সরকার শয্যা নিয়েছিল। তবে আমরা বিনামূল্যে জমি পাইনি। তাই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।’’ পিয়ারলেস হাসপাতালের তরফে চিকিৎসক সুদীপ্ত মিত্র বলেন, ‘‘সরকারের থেকে জমি পেলে শয্যা ও বহির্বিভাগে সরকারি কোটা থাকে। কিন্তু নিয়ম কেউ মানেনি।’’ তাঁরা জমি পাওয়ার তালিকায় পড়েন না বলেই দাবি সুদীপ্তের। চাকদহের জেএমএন মেডিক্যাল কলেজের ডিরেক্টর (অ্যাকাডেমি) তথা রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা অনিরুদ্ধ নিয়োগীর কথায়, ‘‘সরকারের থেকে জমি পেয়ে থাকলে শয্যার কোটা রয়েছে। কী ভাবে তা হবে, সম্ভবত স্বাস্থ্য দফতরের বৈঠকে ঠিক হবে।’’

সরকারি জমি পাওয়া কেপিসি মেডিক্যাল কলেজের অধিকর্তা (অ্যাকাডেমি), চিকিৎসক সৌরভ ঘোষ বলেন, ‘‘আগে সরকারি ভাবে রোগী পাঠানো হয়নি। এখন পাঠালে, স্বাগত।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে ভাল পদক্ষেপ বলছেন সরকারি জমি পাওয়া বেল ভিউ ক্লিনিকের সিইও প্রদীপ টন্ডন। তাঁর কথায়, ‘‘আগেও সরকারি হাসপাতাল থেকে পাঠানো রোগীকে পরিষেবা দিয়েছি। পরেও দেব।’’ বিধায়ক-চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, ‘‘শহর ও বিশেষত বাইপাসের অনেক হাসপাতালই সরকারের থেকে জমি পেয়েছে। কিন্তু চুক্তির নিয়ম অনেকেই মানেনি বা সরকার থেকেও মানতে বলা হয়নি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Hospital beds Suvendu Adhikari West Bengal government Government hospitals

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy