Advertisement
E-Paper

ময়নাতদন্ত ২: সুয়ারেজ়ের পেটে কনুইয়ের গুঁতো, ডি’পলের হাতে নখের আঁচড়! আর কোনও ঝুঁকি নেননি মেসির নিরাপত্তারক্ষীরা

আরও অনেক কিছুই ঘটেছিল শনিবারের সেই কুখ্যাত ভিড়ে। যে ভিড় ঘিরে ধরেছিল মেসিকে। যে ভিড়ই যুবভারতীর আসল ‘ভিলেন’। ময়নাতদন্ত চালাতে গিয়ে ওই ভিড় ‘ঠেলে’ বেরিয়ে আসছে আরও নানা তথ্য। সে সব নিয়েই ময়নাতদন্ত ২।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৩৪
শনিবার যুবভারতীতে বিরক্ত লিয়োনেল মেসি। পিছনে (বাঁ দিকে) রদ্রিগো ডি’পল এবং লুইস সুয়ারেজ় (ডান দিকে)।

শনিবার যুবভারতীতে বিরক্ত লিয়োনেল মেসি। পিছনে (বাঁ দিকে) রদ্রিগো ডি’পল এবং লুইস সুয়ারেজ় (ডান দিকে)। ছবি: পিটিআই।

মেসিকে দেখতে না-পাওয়ার ক্রোধে উন্মত্ত জনতার তাণ্ডব গোটা পৃথিবী দেখল। কিন্তু মেসিকে ঘিরে থাকা নেতামন্ত্রীকর্তাদের ‘আদেখলেপনা’ আর ভিতরের বিশৃঙ্খলার সব ঘটনার কথা বাইরে আসেনি শনিবার। ক্রমশ জানা যাচ্ছে, সেই কেষ্টুবিষ্টু এবং তাঁদের সাঙ্গোপাঙ্গদের আচরণ এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, নিরাপত্তার অভাব বোধ করতে শুরু করেছিলেন মেসি, সুয়ারেজ়, ডি’পলেরা।

কেন দর্শকদের দেখা না-দিয়েই চলে যেতে হল লিয়োনেল মেসিকে? তখন তো গ্যালারি গোলমাল শুরু করেনি। কেন সময়ের আগেই বেরিয়ে গেলেন তিনি? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করে আনন্দবাজার ডট কম। মাঠে উপস্থিত বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলতেই উঠে এসেছে নতুন কিছু তথ্য। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ যুবভারতীর চার এবং পাঁচ নম্বর গ্যালারির মাঝখানের পথ দিয়ে মেসির গাড়ি এসে থামে যুবভারতীর অ্যাথলেটিক ট্র্যাকের সামনে। মেসি গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে ঘিরে ফেলেন শ’খানেক মানুষ— মূলত উদ্যোক্তা, ফোটোশিকারি, নেতা, মন্ত্রী এবং তাঁদের চ্যালাচামুন্ডারা। মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। প্রভাবশালীদের ভিড় মেসির সঙ্গে সঙ্গে এগোয়, যথেচ্ছ ছবি তোলার চেষ্টায় শুরু হয়ে যায় ধাক্কাধাক্কি। একে অন্যকে সরানোর চেষ্টা বা ধাক্কাই শুধু নয়, মরিয়া সেলফিশিকারিদের একজনের কনুই গুঁতো মারে লুইস সুয়ারেজ়ের পেটে। জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী। কোনও একজনের নখে ছড়ে যায় রদ্রিগো ডি’পলের হাত। মুখে হাসি বজায় রাখার চেষ্টা করলেও, অস্বস্তি অনুভব করতে থাকেন মেসি। পরিস্থিতি বেগতিক, বুঝে গিয়েছিলেন মেসির নিরাপত্তারক্ষীরাও। তাঁরা আর ঝুঁকি নেননি। দ্রুত মেসিদের সরিয়ে নিয়ে যান মাঠ থেকে।

দর্শকদের রোষে তছনছ যুবভারতী।

দর্শকদের রোষে তছনছ যুবভারতী। ছবি: পিটিআই।

মেসিদের থেকে দূরে, কিন্তু মাঠেই থাকা বাংলার প্রাক্তন ফুটবলারদের কারও কারও নজরে পড়েছে মেসির অস্বস্তিকর অবস্থা। রহিম নবি বললেন, ‘‘অনেকেই মেসি, সুয়ারেজ়, ডি’পলদের ঘাড়ের কাছে চলে যাচ্ছিলেন। কয়েক মিনিট দেখে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান মেসি। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল, ভিড়ের মধ্যে অস্বস্তি হচ্ছে তাঁর। বিরক্ত হচ্ছিলেন লোকজনের আচরণে। যা চাইছিলেন, করতে পারছিলেন না।’’ দীপেন্দু বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘‘পেনাল্টি মারার কথা ছিল মেসির। সে জন্য গোল পোস্টের দিকে আসছিলেনও। আমরাও কয়েক জন পোস্টের কাছে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎই মেসিকে আবার ভিড়ের মধ্যে নিয়ে চলে যাওয়া হল।’’ সংগ্রাম মুখোপাধ্যায়ের কথায়, মেসিকে ‘‘ঠিকমতো হাঁটতেও দেওয়া হচ্ছিল না। কোনও দিক দিয়েই ভিড় থেকে বেরোতে পারছিলেন না। গ্যালারির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তা-ও পারছিলেন না।’’

লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে সেই বিতর্কিত ভিড়।

লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে সেই বিতর্কিত ভিড়। —নিজস্ব চিত্র।

কেন এমন হল? খোঁজ করতেই বেরিয়ে আসছে অব্যবস্থার ভূরি ভূরি নমুনা। ন্যূনতম পরিকল্পনা তো ছিলই না, দায়িত্বশীল বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কোনও সমন্বয়ও ছিল না। যা ছিল তা হল অনিয়ম আর স্বজনপোষণ।

নো ইভেন্ট-ফ্লো

এই ধরনের বড় আয়োজনে প্রতি মিনিটের পরিকল্পনা আগে থেকে ছকে রাখা হয়, যাকে পেশাদারি ইংরেজি পরিভাষায় বলা হয় ‘মিনিট টু মিনিট ইভেন্ট ফ্লো’। মেসির যুবভারতীর অনুষ্ঠানের জন্য এমন কোনও পরিকল্পনা ছিল না। দর্শকদের টিকিটের পিছন দিকে সময় ধরে ধরে উল্লেখ থাকে অনুষ্ঠানে কী কী হবে। পরিকল্পনাহীন অনুষ্ঠানে স্বভাবতই তেমন কিছুই ছিল না। যুবভারতীতে আগের দিন কোনও মহড়াও হয়নি! বিশ্বমানের ফুটবল তারকাদের জনসমক্ষে নিয়ে আসার মতো ‘মেগা ইভেন্ট’-এ যে ন্যূনতম পেশাদারিত্বের প্রয়োজন ছিল, তা দেখাননি আয়োজক-উদ্যোক্তাদের কেউই। অথচ শুধু মেসি-সুয়ারেজ়রাই নন, অনুষ্ঠানে থাকার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শাহরুখ খান, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়দের। তাঁদের নিয়ে একটি খসড়া অনুষ্ঠানসূচি ছিল বটে, কিন্তু মেসি কখন আসবেন, দাঁড়াবেন না হাঁটবেন, কী ভাবে দর্শকদের মুখোমুখি হবেন, কী করবেন, তার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। কেউ কিছুই জানতেন না।

গো অ্যাজ় ইউ লাইক

মূল আয়োজক ছিলেন শতদ্রু দত্ত। অনুষ্ঠান বা ইভেন্টের কোনও পরিকল্পনা ছিল না কেন? কোনও তরফ থেকে সদুত্তর নেই। কোনও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে কি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল? শতদ্রু ছাড়া তাঁর সংস্থার তরফে আর কে কে সামগ্রিক পরিচালনায় সক্রিয় ছিলেন? অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এক সংস্থার কর্তা জানালেন, শতদ্রুর তরফ থেকে লাল্টু নামের একজন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। সেই লাল্টুকে বার বার ফোন করেও রবিবার আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করতে পারেনি। সরঞ্জাম সরবরাহকারী ওই সংস্থার কর্তা আক্ষেপ করছিলেন, ‘‘আমাদের ১৫ পিস সোফা আর সাউন্ড সিস্টেম দিতে বলা হয়েছিল। অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।’’ আর জনসংযোগের (পিআর) দায়িত্বে থাকা সংস্থার তরফে জানানো হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করা ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয়নি। তারা শুধু ১৪০টি আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করেছে।

যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসি।

যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসি। ছবি: পিটিআই।

অব্যবস্থার আভাস কিন্তু অনুষ্ঠানের আগের দিনই টের পেয়ে গিয়েছিলেন স্বয়ং ক্রীড়ামন্ত্রী। শতদ্রুদের সঙ্গে অনুষ্ঠানের সূচি নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যুবভারতীতে বসে ছিলেন অরূপ। কিন্তু শতদ্রুকে পাওয়াই যায়নি। বিষয়টিকে গুরুত্বই দেননি উদ্যোক্তারা। প্রশাসনের সঙ্গেও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে তাঁরা মনে করেননি।

মেসিকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল কেন্দ্র-রাজ্য দুই সরকারেরই। কেন্দ্রের তরফে সিআরপিএফ এবং রাজ্য পুলিশের তরফে বিধাননগর কমিশনারেটকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শুধু বিধাননগর পুলিশই নয়, মেসির অনুষ্ঠানের জন্য অন্যান্য জেলা থেকেও দু’হাজার জনের বাহিনী আনা হয়। তাঁদের মধ্যে কনস্টেবলেরা যেমন ছিলেন, ছিলেন ইনস্পেক্টর, সাব ইনস্পেক্টর স্তরের অফিসাররাও। কিন্তু কেন্দ্র এবং রাজ্যের দুই নিরাপত্তাবাহিনীর মধ্যে কোনও সমন্বয় লক্ষ করা যায়নি মাঠের ভিতরে এবং বাইরে। প্রশাসনের সঙ্গে ক্রীড়া দফতর বা আয়োজক শতদ্রুদের যে কোনও সমন্বয় ছিল না, তা-ও স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমশ। আরও আছে। অব্যবস্থা এতটাই যে, অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান স্পনসরের কাছে শুক্রবার রাত পর্যন্ত পৌঁছোয়ইনি ভিআইপি কার্ড। সেই সংস্থার প্রতিনিধিকে বাধ্য হয়ে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ হোটেলে গিয়ে কার্ড সংগ্রহ করে আনতে হয়েছে।

এবং স্বজনপোষণ

মেসির কলকাতা সফরকে ঘিরে অব্যবস্থার ছায়া দেখা গিয়েছিল হোটেলের অনুষ্ঠান থেকেই। শুক্রবার রাত আড়াইটে নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন মেসিরা। জনতার ঢল সামলে সেখান থেকে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় হায়াত রিজেন্সিতে। সকালে সেই হোটেলেই মেসিকে দেখতে, তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার ব্যবস্থা করা হয়। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’! শতদ্রু নিজের ঘনিষ্ঠদের যথেচ্ছ ভাবে হোটেলে ঢুকিয়ে দেন। তাঁরা অবাধে মেসির কাছে যান, সই সংগ্রহ করেন। কঠোর নিয়ম ছিল, মেসির সামনে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না। হোটেলে সস্ত্রীক যাওয়া এক টলিউড পরিচালক সেই নিয়মের ধার ধারেননি। তিনি মোবাইল নিয়ে অবলীলায় মেসির সামনে চলে গিয়েছিলেন। মেসির নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেওয়ায় তাঁকে অবশ্য আবার গা়ড়িতে ফিরে মোবাইল রেখে হোটেলে ঢুকতে হয়েছে।

জল কেলেঙ্কারি

শনিবারের যুবভারতীতে অব্যবস্থার আর এক নাম পানীয় জল। বিধাননগর পুলিশের তরফে ম্যাচের আগে প্রচার করা হয়েছিল, মাঠে পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা থাকবে। জানিয়ে দেওয়া হয়, জলের বোতল ঢুকতে দেওয়া হবে না। খেলাধুলার বড় মঞ্চে বোতল নিয়ে ঢোকা অনেক দিনই বন্ধ। পাউচ প্যাকের জলই সরবরাহ করা হয়। নিখরচায় হোক বা পয়সা নিয়ে। কিন্তু শনিবার স্টেডিয়ামে দেদার জল ও ঠান্ডা পানীয়ের বোতল বিক্রি হয়েছে। নিয়মের তোয়াক্কা না-করে ২০ টাকার জল বিক্রি করা হয়েছে ১৫০-২০০ টাকায়। মেসি চলে যাওয়ার পর ক্রুদ্ধ জনতা সেই বোতলই সব মাঠে ছুড়েছে। রবিবার দেখা গেল, যুবভারতীর এক নম্বর গ্যালারির বাইরে স্তূপীকৃত ঠান্ডা পানীয় ও জলের বোতল পাহারা দিতে দিতে পায়চারি করছেন এক ভদ্রলোক। তিনি মহম্মদ রিয়াজ, দিল্লি থেকে সকালেই কলকাতায় এসেছেন। জানালেন, যুবভারতীতে জল ও ঠান্ডা পানীয় এসেছিল দিল্লি থেকেই। তিনি বেঁচে যাওয়া বোতল আবার ফেরত নিয়ে যেতে এসেছেন। এখন প্রশ্ন হল, জনপ্রিয় ওই ঠান্ডা পানীয় সরবরাহকারী সংস্থা কলকাতায় থাকা সত্ত্বেও কেন দিল্লিতে তার বরাত দেওয়া হল? এর উত্তর রিয়াজ় দিতে পারেননি। তিনি কেবল জানালেন, ৪৫০ পেটি জল এসেছিল। পানীয় এসেছিল ৩৫০ পেটি। ২০০ টাকা করে কেন জল বিক্রি করা হল? রিয়াজ় বলেন, ‘‘আমরা দ্বিতীয় একটি সংস্থাকে স্টেডিয়ামে বিক্রির বরাত দিয়েছিলাম। তারা আবার অন্য এক সংস্থাকে বরাত দেয়। তারাই ২০০ টাকায় জল বিক্রি করেছে।’’ চূড়ান্ত অব্যবস্থার এর চেয়ে স্পষ্ট নজির আর কী হতে পারে?

সল্টলেক চত্বরে সারে সারে রাখা জল ও ঠান্ডা পানীয়ের বোতল। রবিবার সকালে।

সল্টলেক চত্বরে সারে সারে রাখা জল ও ঠান্ডা পানীয়ের বোতল। রবিবার সকালে। —নিজস্ব চিত্র।

অরূপ ‘এমনই’!

যুবভারতীতে মেসির ১৬ মিনিটে যিনি এক মুহূর্তের জন্যও তাঁকে কাছছাড়া করেননি, সেই অরূপ দর্শকদের চোখে ‘ভিলেন’। মেসির গায়ে তাঁকে লেপ্টে থাকতে দেখে চুপ করে থাকতে পারেননি ক্রীড়াজগতের ‘বিগ শট’ সংগঠক জয় ভট্টাচার্যও। আট বছর আগে ভারতে ফিফার অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ আয়োজনে তিনি অন্যতম ডিরেক্টর। কেকেআরের টিম ডিরেক্টর ছিলেন শাহরুখ, সৌরভদের ঘনিষ্ঠ জয়। যুব বিশ্বকাপের সময় অরূপের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন রবিবার। যদিও সরাসরি মন্ত্রীর নাম করেননি।

জয় লিখেছেন, ‘‘ফিফার অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের জন্য স্থানীয় আয়োজক সংস্থার সঙ্গে আমি তিন বছর কাজ করেছিলাম। এই তিন বছরে এক বার মাত্র আমি ধৈর্য হারিয়ে টেবিল চাপড়েছি। একজন মাত্র ক্রীড়ামন্ত্রীর উপর চিৎকার করেছি। সেটা এই কলকাতায়। আমরা দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামে বিনামূল্যে জলের পাউচের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি তাতে রাজি ছিলেন না। স্টেডিয়াম নাকি নোংরা হবে! ২০০টি জঞ্জালের পাত্র এবং পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকের আশ্বাসেও তিনি রাজি হচ্ছিলেন না।’’ জয় জানান, এই সংক্রান্ত একটি বৈঠকে রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী দাবি করেছিলেন, স্থানীয় ক্লাবের সঙ্গে ফিফার কোনও ফারাক নেই। তখনই জয় মেজাজ হারান এবং টেবিল চাপড়ে মন্ত্রীকে ধমকে ওঠেন। দাবি, তাতে কাজ হয়েছিল। বিনামূল্যের জলের পাউচ রাখা গিয়েছিল যুবভারতীতে। বিশ্বকাপেও আর কোনও সমস্যা হয়নি।

রবিবার জয় লিখেছেন, ‘‘গতকাল ওই মন্ত্রীকেই আমি দেখলাম, বিভ্রান্ত মেসিকে জড়িয়ে ধরছেন! বুঝলাম কিছুই বদলায়নি। ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য তিনি এখনও প্রশাসনকে কাজে লাগাচ্ছেন। এই ধরনের লোকজনের হাতে ক্ষমতা থাকলে এই দেশের খেলার কোনও ভবিষ্যৎ নেই।’’

শতদ্রু সমাচার

একদা কাছের লোকেরা এখন দূরত্ব রচনা করতে শুরু করে দিয়েছেন তাঁর সঙ্গে। তাঁদেরই অনেকে বলছেন, মেসিকে কলকাতায় আনা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে ধরাকে সরা জ্ঞান করছিলেন শতদ্রু। তাঁর এমন বেপরোয়া ও উন্নাসিক মনোভাবকে শনিবারের যুবভারতীকাণ্ডের জন্য দায়ী করতে শুরু করেছে অরূপের ক্রীড়া দফতর। ঘটনার সময় ভিআইপি গ্যালারিতে হাজির ক্রীড়া দফতরের এক আধিকারিক স্পষ্ট বলেছেন, এই অনুষ্ঠান আয়োজনে আমরা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন শতদ্রু দত্তকে ভাড়া দিয়েছিলাম এটা ঠিক। কিন্তু অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি আমাদের কেন, কারও সঙ্গেই কোনও সহযোগিতামূলক আচরণ করেননি। দাবি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী ভাবে কর্মসূচি রূপায়িত হবে তার কোনও ধারণা ক্রীড়া দফতরের ছিল না। শুধু ক্রীড়া দফতরই নয়, বিধাননগর কমিশনারেট এবং সিআরপিএফের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও শতদ্রুর সঠিক কোনও সমন্বয় ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। এই দুই সংস্থার তরফেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অধিকাংশ সময় মোবাইলে পাওয়া যেত না বলে অভিযোগ।

Lionel Messi Salt Lake Stadium Yuva Bharati Krirangan luis suarez
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy