Advertisement
E-Paper

পর্ণশ্রীর ফ্ল্যাটে দূরদর্শনের সঙ্গীতশিল্পীর রক্তাক্ত দেহ! কুপিয়ে খুনের অভিযোগ, পুলিশের নজরে আয়া

জেরায় বৃদ্ধাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। অনেকেই এই ঘটনায় পঞ্চসায়রকাণ্ডের ছায়া দেখছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩০

— প্রতীকী চিত্র।

পর্ণশ্রীর ফ্ল্যাটে ৬৪ বছরের এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। অনিতা ঘোষ নামে ওই মহিলা দূরদর্শন, আকাশবাণীতে গান গাইতেন। তাঁর স্বামী পক্ষাঘাতগ্রস্ত। এই ঘটনায় এক আয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জেরায় বৃদ্ধাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। অনেকেই এই ঘটনায় পঞ্চসায়রকাণ্ডের ছায়া দেখছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পর্ণশ্রীর বেচারাম চ্যাটার্জি রোডের একটি ফ্ল্যাটে অসুস্থ স্বামীর সঙ্গে থাকতেন অনিতা। কয়েক বছর ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত অনিতার স্বামী অরূপ ঘোষ। তাঁর দেখভালের জন্য ছিল আয়া। অনিতার পুত্র বেহালার অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা নাগাদ তাদের কাছে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার খবর আসে। খবর পেয়ে দ্রুত বেচারাম চ্যাটার্জি রোডের প্রিয়দর্শিনী অ্যাপার্টমেন্ট পৌঁছোয় তারা। সেখানে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর পুত্র। এই ঘটনায় জড়িত রয়েছেন বলে সন্দেহে সঞ্জু সরকার নামে এক মহিলাকে আটক করা হয়। ৩৪ বছরের সঞ্জু ওই বাড়িতে আয়ার কাজ করতেন। তাঁকে আটক করে পর্ণশ্রী থানায় নিয়ে গিয়ে জেরা শুরু করে পুলিশ। পুলিশের অন্য একটি দল হাসপাতালে পৌঁছে জানতে পারে, হাসপাতালে পৌঁছোনোর আগেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার।

জেরায় পুলিশের কাছে দোষ কবুল করেন সঞ্জু। তিনি জানান, ২ বছর আগে অনিতার বাড়িতে কয়েক দিন আয়ার কাজ করেছিলেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ সেখানে গিয়ে কাজের টাকা চান। সঞ্জুর দাবি, অনিতা টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এর পরেই অভিযুক্ত একটি ছুরি নিয়ে অনিতার গালে, পেটে ছুরির আঘাত করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধা আত্মরক্ষার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযুক্তের শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সঞ্জু জেরায় জানিয়েছেন, অনিতা জ্ঞান হারালে তিনি তাঁর গা থেকে সোনার গয়না খুলে নেন। এর পরে আলমারি থেকে নগদ বার করে নেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তত ক্ষণে চিৎকার চেঁচামিচি শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরা সঞ্জুকে ধরে ফেলেন। থানায় খবর দেন তাঁরাই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তারা পৌঁছে দেখে শৌচালয়ের কাছে পড়ে রয়েছে অনিতার দেহ। পুলিশ আটক করে আয়াকে। ওই ফ্ল্যাটে সিসি ক্যামেরা নেই। এই ঘটনার পরে আবাসনের বাসিন্দার উদ্বিগ্ন। তাঁদের একাংশ মনে করছেন, সিসি ক্যামেরা থাকলেও হয়তো অপরাধ আটাকানো সম্ভব হত না, কিন্তু তা বসানো প্রয়োজন।

গত বছর অগস্টে পঞ্চসায়রের একটি আবাসন থেকে উদ্ধার হয়েছিল বিজয়া দাস নামে এক বৃদ্ধার দেহ। নিজের বাড়িতেই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি। পাশে ছিলেন তাঁর অসুস্থ স্বামী। তাঁদের কন্যা বিদেশে থাকেন। পুত্র থাকেন ভিন্‌রাজ্যে। বাড়িতে সর্ব ক্ষণ ছিল সিসিটিভির নজরদারি। প্রধান ফটকের উপরেই একটি সিসি ক্যামেরা বসানো ছিল। সিসিটিভির তার কেটে দেওয়া হয়। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বাড়ির বিদ্যুৎ পরিষেবা। ওই ঘটনায় গ্রেফতার হন আয়া এবং তাঁর এক পুরুষ সঙ্গী।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy