হাসপাতালের অগ্নিসুরক্ষা যে ঠিক নেই, আমরি কর্তৃপক্ষকে তা বারবার জানিয়েছিল দমকল। কিন্তু তাতে কান দেননি আমরির কর্তারা। শুক্রবার আমরি-কাণ্ডের চার্জ গঠনের শুনানির শুরুতেই আদালতে এই অভিযোগ তুললেন সরকারি কৌঁসুলি শক্তিপদ ভট্টাচার্য। শক্তিবাবুর অভিযোগ, ২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর রাতে ঢাকুরিয়া আমরির অ্যানেক্স ভবনে আগুন লাগার ঘটনার মাস খানেক আগেও পর পর তিন দিন ছোট মাপের আগুন লেগেছিল। তখন দমকলকে খবর দেওয়ায় হারাধন ভট্টাচার্য নামে এক কর্মীকে সাসপেন্ডও করেছিলেন আমরি কর্তৃপক্ষ।
ওই অগ্নিকাণ্ডে মারা যান ৯২ জন। বেশির ভাগই ওই হাসপাতালের রোগী। তাতে গ্রেফতার করা হয়েছিল আমরির ১২ জন ডিরেক্টর এবং ৪ জন উচ্চপদস্থ কর্মীকে। তাঁরা এখন জামিনে মুক্ত। তদন্তে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সাড়ে চারশোর বেশি সাক্ষীকে। রয়েছে ফরেন্সিক বিভাগের রিপোর্টও। সব তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সরকারি কৌঁসুলি আদালতে বলেন, ১৬ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪(২) ধারায় অনিচ্ছাকৃত ভাবে মৃত্যু ঘটানো, ৩০৮ ধারায় অনিচ্ছাকৃত ভাবে মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করা এবং ৩৬ ধারায় কোনও ক্ষেত্রে যে কাজটি করা উচিত ছিল তা না করা এবং যেটা করা উচিত নয়, সেটা করার অভিযোগ এনেছেন তদন্তকারী অফিসার। আমরির ১২ জন ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে দমকল আইনেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তদের আইনজীবী অলোক সেনগুপ্ত অবশ্য দাবি করেন, সরকার পক্ষ যে নথির ভিত্তিতে চার্জ গঠনের দাবি জানাচ্ছে, সেখানে হাসপাতালের কোনও ডিরেক্টরের সরাসরি যোগাযোগ নেই। ফরেন্সিকের রিপোর্টের কথা জানিয়ে তাঁর দাবি, আগুন লেগেছিল ফার্মাসির সামনে। কোনও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে নয়। সেই রাতে এসি মেশিনও চলছিল না বলে জানান তিনি।
দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আলিপুরের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক ইন্দ্রনীল অধিকারী জানান, আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সে দিন থেকে চার্জ গঠন না হওয়া পর্যন্ত রোজ শুনানি হবে এই মামলার। বস্তুত, আমরি কাণ্ডের পর চার বছর কেটে গেলেও নানা কারণে এই মামলার এখনও চার্জ গঠন হয়নি। দ্রুত চার্জগঠনের জন্য মৃতদের পরিবারের তরফে কলকাতা হাইকোর্টে আর্জি জানানো হয়েছিল। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যে এই চার্জ গঠন শেষ করতে হবে।