Advertisement
E-Paper

‘বিদ্রোহী’দের ডেকে বৈঠক অভিষেকের! কুণাল-সন্দীপনের তিরে সংগঠন, ‘দুর্নীতির পাপ’ নিয়ে সরব ঋতব্রত, লিখিত চাইল দল

২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই তিন বিদ্রোহী বিধায়ক কুণাল ঘোষ, সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে বৈঠক করলেন অভিষেক। শুধু তা-ই নয়, দলের এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করে তৃণমূল লিখল, দলের অন্দরে কথা বলার গণতান্ত্রিক পরিসর রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ২১:১৫
Mamata Banerjee, Abhishek Banerjee held a meeting with Kunal Ghosh, Sandipan Saha and Ritabrata Banerjee

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

বিধায়কদের বৈঠকে মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে বিদ্রোহের মেজাজ দেখিয়েছিলেন তিন জন। আওয়াজ উঠেছিল, দলের অন্দরে খোলা মনে কথা বলার পরিসর রাখতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই তিন বিদ্রোহী বিধায়ক কুণাল ঘোষ, সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে বৈঠক করলেন অভিষেক। শুধু তা-ই নয়, দলের এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করে তৃণমূল লিখল, দলের অন্দরে কথা বলার গণতান্ত্রিক পরিসর রয়েছে।

৪০ মিনিটের বৈঠক হয়েছে চার জনের মধ্যে। সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার সংগঠনের ‘তথৈবচ’ অবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন। ইঙ্গিতে যে তির আসলে ধেয়ে গিয়েছে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। অন্য দিকে, কুণাল প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্র-যুব সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে। দীর্ঘ দিন নেতৃত্বে বদল না-হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। টিএমসিপির সভাপতি পদে রয়েছেন তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং যুব তৃণমূলের সভাপতি পদে রয়েছেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। ঘটনাচক্রে, দু’জনই তৃণমূলের অন্দরে ‘অভিষেকের লোক’ বলে পরিচিত।

অন্য দিকে, ঋতব্রত ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিয়েছেন উলুবেড়িয়া নিয়ে। তাঁকে হাওড়া গ্রামীণের উলুবেড়িয়া পূর্বে লড়তে পাঠিয়েছিল দল। তিনি জিতেওছেন। সূত্রের খবর, বুধবারের বৈঠকে উলুবেড়িয়ার গুটি কয়েক নেতার দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, ঋতব্রত বলেছেন, পুরসভা এবং ব্লকের কয়েক জন নেতা যে দুর্নীতি করেছেন বিগত বছরগুলিতে, তার দায় তিনি বিধায়ক হিসাবে নেবেন না। এমনও বলেছেন, ওই নেতারাই তাঁকে হারাতে অন্তর্ঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের এড়িয়ে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

এখানেই শেষ নয়। তৃণমূল সূত্রে খবর, বৈঠকে ঋতব্রত বলেছেন, তিনি দুর্নীতিগ্রস্তদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছেন বলে পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, এ সবের দরকার নেই। কিন্তু তিনি নাছোড় মনোভাব দেখানোয় আই-প্যাক আশ্বাস দিয়েছিল ভোটের পরে ব্যবস্থাগ্রহণ হবে। তবে পরামর্শদাতা সংস্থার পরামর্শ ছিল, এক বড় নেতার সম্পর্কে তিনি যেন কিছু না-বলেন। হাওড়া গ্রামীণের সেই নেতার সঙ্গে কি তা হলে দুর্নীতির সম্পর্ক ছিল? বুধবারের বৈঠকে সেই প্রশ্নও তুলে দিয়েছেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ। এ-ও বার্তা দেওয়া হয়েছে, দলগত ভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না-নিলে, তিনি পথে নামবেন। উলুবেড়িয়ার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি তা করবেন।

তৃণমূলের অনেকের বক্তব্য, ক্ষমতার দাপটে বহু জায়গায় যেমন মানুষ ভয়ে থাকতেন, দলের অন্দরেও তেমন গুমোট পরিবেশ ছিল। নেতার বদলে দলীয় অভিধানে ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছিল ‘বস্‌’, ‘ক্যাপ্টেন’ জাতীয় শব্দবন্ধ। কিন্তু ক্ষমতার পলেস্তারা খসে পড়তেই দলের অন্দরে সেই ভয়ের পরিবেশও উধাও। ক্ষোভ উগরে দিতে সাত-পাঁচ ভাবছেন না কেউ। ঘটনাচক্রে, যে তিন জন বিধায়ক গোড়া থেকেই বিদ্রোহী মেজাজ নিয়েছেন, তাঁরা আদ্যোপান্ত রাজনৈতিক। ফলে কালীঘাটের কাছেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রত্যেকের বক্তব্য শোনার পরে লিখিত ভাবে সবটা জানাতে বলেছেন অভিষেক।

TMC West Bengal Politics Mamata Banerjee Abhishek Banerjee Kunal Ghosh Ritabrata Banerjee Rebel MLAs
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy