Advertisement
E-Paper

অনার্সে ভর্তির কী হবে, চিন্তা বহু পড়ুয়ারই

অতিমারির আবহে নতুন নিয়ম হল, যে-সব বিষয়ে পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে, পরীক্ষার্থী তার মধ্যে যেটিতে সর্বাধিক নম্বর পাবেন, পরীক্ষা না-হওয়া বিষয়ে সেটিই প্রাপ্ত নম্বর বলে গণ্য হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২০ ০৪:০৯
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

দীর্ঘদিন ধরে পদার্থবিদ্যায় অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করার স্বপ্ন লালন করছেন হাওড়ার দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অনির্বাণ চৌধুরী। তাই দু’বছর ধরে সব থেকে মনোযোগ দিয়ে ওই বিষয়টিই পড়েছেন তিনি। কিন্তু করোনা-কারণে বাকি পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ায় তিনি উচ্চ মাধ্যমিকে পদার্থবিদ্যার পরীক্ষাটাই দিতে পারলেন না। করোনা কালবেলা কেটে গেলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ মিলবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ঠিকই। কিন্তু পরিস্থিতি কবে অনুকূল হবে, তার নিশ্চয়তা না-থাকায় তিনি আর পরীক্ষা দিতে চান না। এই অবস্থায় তাঁর পদার্থবিদ্যায় অনার্স নিয়ে পড়া সম্ভব হবে কি? শনিবার শিক্ষককে ফোন করে এই প্রশ্নটাই করেন উদ্বিগ্ন অনির্বাণ। তাঁর জিজ্ঞাসা, তিনি যদি ইংরেজিতে সর্বাধিক নম্বর পান আর ইংরেজির নম্বরকে যদি পদার্থবিদ্যারও নম্বর হিসেবে গণ্য করা হয়, তা হলে পদার্থবিদ্যায় অনার্স নিয়ে কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে তো?

অতিমারির আবহে নতুন নিয়ম হল, যে-সব বিষয়ে পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে, পরীক্ষার্থী তার মধ্যে যেটিতে সর্বাধিক নম্বর পাবেন, পরীক্ষা না-হওয়া বিষয়ে সেটিই প্রাপ্ত নম্বর বলে গণ্য হবে। কিন্তু উৎকণ্ঠা যাচ্ছে না অনির্বাণের। চিন্তা শুধু অনির্বাণেরই নয়। বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন, শনিবার অনেক পড়ুয়াই তাঁদের ফোন করে বলেন, কলেজে ভর্তির নিয়ম কী হবে, তা নিয়ে তাঁরা খুবই উদ্বেগে আছেন। ভাইরাস-ভীতিতে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তকে অনেকে স্বাগত জানালেও প্রিয় বিষয়ে পরীক্ষা দিতে না-পারার আফসোস যাচ্ছে না বহু ছাত্রছাত্রীরই। অনেকের বক্তব্য, করোনা বিদায়ের পরে তাঁদের পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছে আছে। কিন্তু কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া কী হবে, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনও নিয়মাবলি না-থাকায় তাঁরা সেই পরীক্ষার আশায় থাকতে পারছেন না।

হিন্দু স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুভ্রজিৎ দত্ত জানান, অনেক পড়ুয়াই উৎকণ্ঠায় ফোন করছেন। কেউ কেউ জানতে চাইছেন, কলেজ যদি মেধা-তালিকা অনুযায়ী ভর্তি নেয়, তা হলে তাঁদের কী হবে? এ বার মেধা-তালিকায় তাঁদের পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। কারণ যে-বিষয়ে তিনি সব থেকে ভাল নম্বর তুলতে পারতেন, সেটিরই পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেল। পরীক্ষা হলে তিনি হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী নম্বর পেতে পারতেন। সে-ক্ষেত্রে মেধা-তালিকায় উপরের দিকে নাম থাকত। কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সুবিধা হত। এক শিক্ষক জানান, বাণিজ্য শাখার একটি ছাত্র বলছেন, হিসাবশাস্ত্রে অনার্স নিয়ে ভর্তির ইচ্ছা আছে তাঁর। কিন্তু হিসাবশাস্ত্রের পরীক্ষা না-হওয়ায় ওই বিষয়ে তাঁর যথাযথ মূল্যায়ন হল না। ফলে হিসাবশাস্ত্রে অনার্স নিয়ে কলেজে ভর্তি হতে যে-আত্মবিশ্বাস লাগে, তিনি সেটা পাচ্ছেন না।

Advertisement

কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেসের সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, “দু’টি কম্পালসারি বিষয়ে আগের বছর ফেল করলে স্পেশাল পরীক্ষার্থী হিসেবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া যায়। এই ধরনের পরীক্ষার্থীদের কী হবে, উচ্চ মাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষা বাতিল নিয়ে শুক্রবারের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে তার উল্লেখ নেই। তাই ওই পড়ুয়ারাও খুব চিন্তিত। ওদের দুশ্চিন্তা দূর দ্রুত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের কাছে।” অন্য শিক্ষক-নেতা কিঙ্কর অধিকারী বলেন, “নতুন ব্যবস্থায় অনেকে খুশি হলেও যারা খুব ভাল কিছু করার প্রত্যাশায় ছিল, কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে তাদের মূল্যায়ন ঠিকমতো হবে না বলেই আশঙ্কা করছে তারা।”

Education Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy