Advertisement
E-Paper

‘চুপ’ রাজ্য, রেলরক্ষীর চিকিৎসা জট

শনিবার পর্যন্ত খড়্গপুর রেলের প্রধান হাসপাতালের কোভিড আইসোলেশন ওয়ার্ডেই আছেন করোনা আক্রান্ত ওই রেলরক্ষী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২০ ০২:২৯
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

রেলরক্ষী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ৪৮ ঘন্টা পরেও রেল-রাজ্য টানাপড়েন চলছেই। খড়্গপুরে কর্মরত করোনা আক্রান্ত ওই আরপিএফ জওয়ানের চিকিৎসা নিয়ে জটও কাটেনি। গত দু’দিন ধরে রেলের পক্ষ থেকে বারবার রাজ্য প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরকে চিঠি দিলেও মেলেনি জবাব। এর পরেও জবাব না পেলে খড়্গপুরের ডিআরএম নিজে রাজ্যকে ‘পত্রাঘাত’ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শনিবার পর্যন্ত খড়্গপুর রেলের প্রধান হাসপাতালের কোভিড আইসোলেশন ওয়ার্ডেই আছেন করোনা আক্রান্ত ওই রেলরক্ষী। বৃহস্পতিবার বিকেলে খড়্গপুরে রেলের নিভৃতবাস কেন্দ্রে থাকা ওই রেলরক্ষীর করোনা রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। কিন্তু কোন করোনা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হবে, তা নিয়ে রেল-রাজ্য টানাপড়েন শুরু হয়। খড়্গপুর রেল ডিভিশনে এখনও পর্যন্ত কোনও কোভিড হাসপাতাল নেই। এর আগে করোনা আক্রান্ত খড়্গপুরের ৬জন ও মেচেদার এক রেলরক্ষীর চিকিৎসা হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুরে পাঁশকুড়ার কোভিড লেভেল-৩ হাসপাতালে। তাই নতুন করে সংক্রমিত রেলরক্ষীকে কোথায় পাঠানো হবে তা জানতে জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে দু’বার চিঠি পাঠায় রেল। জেলা প্রশাসনকেও রেলের পক্ষ থেকে দু’দফায় চিঠি পাঠানো হয়। অথচ রেলের দাবি, এখনও পর্যন্ত কোনও জবাব মেলেনি। এ দিকে, শনিবার হলদিয়ার এক করোনা আক্রান্তকে পাঁশকুড়ার ওই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তাহলে কেন সেখানে রেলরক্ষীর ঠাঁই হল না, সেই প্রশ্ন উঠছে।

গোটা ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ খড়্গপুরের ডিআরএম মনোরঞ্জন প্রধান হুঁশিয়ারির সুরে এ দিন বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসনের কাছে এখনও পর্যন্ত সবমিলিয়ে চারটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিগুলি আমাদের চিফ মেডিক্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট ও সিনিয়ার ডিভিশনাল সিকিউরিটি কমিশনার দিয়েছেন। কিন্তু কোনও জবাব দেয়নি রাজ্য। জবাব না পেলে সোমবার আমি নিজে রাজ্যের কাছে চিঠি পাঠাব।”

যদিও পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, “আমি রেলের চিঠি পেয়েছি। ওই চিঠি আমি রাজ্যে আমাদের উর্ধ্বতন আধিকারিকের কাছে পাঠিয়েছে। এটা উঁচু মহলের বিষয়। সেখান থেকে আমাকে এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।” জেলাশাসক রশ্মি কমলের অবশ্য দাবি, ‘‘আমি এই ধরনের কোনও চিঠি পাইনি।’’

এই সংঘাতের মধ্যে আপাতত সঙ্কটে ওই রেলরক্ষীর স্বাস্থ্য। খড়্গপুরে রেলের প্রধান হাসপাতালের কোভিড আইসোলেশন বিভাগে ভর্তি রয়েছেন এই করোনা আক্রান্ত। অথচ রেলের এই হাসপাতাল করোনা চিকিৎসার জন্য রাজ্য থেকে ঘোষিত কোনও কোভিড হাসপাতাল নয়। আইসোলেশন ছাড়া ওই হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার কোনও পরিকাঠামো নেই বলে জানিয়েছে রেলও। এই অবস্থায় উপসর্গহীন ওই করোনা আক্রান্ত রেলরক্ষীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কী হবে, আশঙ্কা সেখানেই। রেলের হাসপাতালে করোনা পজ়িটিভ রোগী থাকায় অন্য সাধারঁ রোগী ও তাঁদের পরিজনেরাও ষথেষ্ট উদ্বিগ্ন। রেল অবশ্য জানিয়েছে, আইসোলেশনের জন্য আপাতত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের পৃথক করা হয়েছে। তবে এ ভাবে কী রেলের হাসপাতালে করোনো চিকিৎসা সম্ভব? জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বলেন, “এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তবে আমি যতটুকু জানি রেল নিজেদের কর্মী ও পরিবারের চিকিৎসা ওঁদের হাসপাতালে করে। ফলে ওঁদের সেই পরিকাঠামো রয়েছে।”

যদিও ডিআরএম মনোরঞ্জন বলেন, “আমাদের হাসপাতালে কী পরিকাঠামো রয়েছে সেটা বড় কথা নয়। আমার এখানে যে ভাবে করোনা আক্রান্ত রয়েছেম, তা স্বীকৃত নয়। আমাদের হাসপাতালে করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা হবে কি না সেই স্বীকৃতি রাজ্য সরকার দেবে। সেটা রাজ্য আমাদের জানাক।”

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy