ঝাড়গ্রামএকশো দিনের কাজে মাটি কাটার সময় উদ্ধার হল বেশ কয়েকটি পাথরের প্রাচীন মূর্তি। গত বুধবার বিকেলে লালগড়ের বীরকাঁড় গ্রামে রাজবাঁধের পাশ্ববর্তী সেচ নালার পাড় বাঁধাইয়ের কাজ চলাকালী ন কোদাল দিয়ে মাটি কাটার সময় মূর্তিগুলি। মূর্তির পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সকালে ওই জায়গা থেকে বেশকিছু পাথরের বাসন ও মানুষের মুখের আদলে তৈরি মাটির ঘটও উদ্ধার হয়।
লালগড়ের স্থানীয় লোক সংস্কৃতি গবেষক পঙ্কজকুমার মণ্ডল বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হছে, মূর্তিগুলি বুদ্ধমূর্তি।’’ তিনি জানান, প্রায় ১২০০ বছর আগে এই এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষদের বসবাস ছিল। বীরকাঁড় গ্রাম থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ডাইনটিকরি এখনও ভগ্নপ্রায় প্রাচীন বুদ্ধ মন্দির রয়েছে।
প্রতিদিনের মতো বুধবারও একশো দিনের প্রকল্পে কোদাল দিয়ে মাটি কোপানোর কাজ করছিলেন শ্রীদাম মাণ্ডি, শ্যাম হাঁসদা, কালোসোনা সরেনরা। মাটি কাটতে কাটতে হঠাৎ পাথরের মূর্তি বেরনোয় অবাক হন সকলেই। শ্রীদাম মাণ্ডি বলেন, ‘‘বিকেলের দিকে মটি কাটার সময় হঠাৎ পাথরে কোদালের ঘা লাগে। পাথরটি তুলে দেখি, সেটি একটি ঠাকুরের মূর্তি। এরপর আরও দু’টি একইরকম মূর্তি পাই।’’
লালগড়ের বিডিও জ্যোতিন্দ্রনাথ বৈরাগী বলেন, ‘‘বুধবার বীরকাঁড় গ্রামে মাটি কাটার কাজ চলাকালীন ওই মূর্তিগুলি পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মূর্তিগুলি নিয়ে আসা হয়। মূর্তিগুলি দেখে প্রাচীন বলেই মনে হচ্ছে। মহকুমাশাসককে বিষয়টি জানিয়েছি।’’
ঝাড়গ্রামের মহকুমাশাসক নকুলচন্দ্র মাহাতো জানান, ‘‘মূর্তিগুলি কোন সময়ের, মূর্তিগুলির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যই বা কী— তা খতিয়ে দেখে ‘আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’কে জানাবকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপিকা সুদীপা রায় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আনুমানিক নবম-দশম শতকের ওই মূর্তিগুলি বালিপাথরের বলেই মনে হচ্ছে।’’ তিনি আরও জানান, মূর্তি তিনটির দু’টি সম্ভবত ইন্দ্রাণী ও ভৈরবের। আর তৃতীয় মূর্তিটিতে চার শক্তি ঘিরে রয়েছেন শিবলিঙ্গ।