Advertisement
E-Paper

তৃণমূল কর্মীর দেহ লজে

গড়বেতা ৩ ব্লকের ডিগড়ি গ্রামের বাসিন্দা অরুণ দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্লকের সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী নমিতা ঘোষ ২০১৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত গড়বেতা ৩ ব্লকের শঙ্করকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ০২:০২
দলীয় পতাকায় ঢাকা দেহ।—নিজস্ব চিত্র

দলীয় পতাকায় ঢাকা দেহ।—নিজস্ব চিত্র

দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। উঠেছিল কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও। দুর্নীতির দায়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন দলেই। মাসখানেক ধরে ছিলেন ঘরছাড়া। মঙ্গলবার সকালে খড়্গপুরের গোলবাজারের একটি লজ থেকে মিলল তৃণমূল কর্মী অরুণ দাসের (৫০) দেহ।

গড়বেতা ৩ ব্লকের ডিগড়ি গ্রামের বাসিন্দা অরুণ দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্লকের সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী নমিতা ঘোষ ২০১৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত গড়বেতা ৩ ব্লকের শঙ্করকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় বছর দু’য়েক আগেই দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। অরুণ আপাতত তৃণমূলের কোনও পদে ছিলেন না। তবে সাধারণ কর্মী হিসাবেই মিছিল মিটিংয়ে আসতেন। মাসখানেক আগে গ্রামছাড়া হয়ে যান অরুণ। দিনকয়েক আত্মীয়ের বাড়িতে কাটিয়ে দিন পনেরো আগে খড়্গপুরের গোলবাজারের একটি লজে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়মিত বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ওই তৃণমূলকর্মীর। সোমবার রাতে পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। কিন্তু এ দিন সকালে বারবার বাড়ির লোকেরা ফোন করলেও ফোন ধরেননি তিনি। সন্দেহ হওয়ায় খড়্গপুরে আসেন ভাই বরুণ। তার পরে লজের ওই ঘরের দরজা খোলা হলে অরুণের দেহটি মেঝেয় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

দেহ উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে আসার কয়েক ঘণ্টা আগেই মারা গিয়েছেন অরুণ। খবর পেয়ে আসে খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ। মৃতদেহটির ময়নাতদন্ত হয়। খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজি সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, “হাসপাতালে এক ব্যক্তির দেহ নিয়ে গিয়েছিল তাঁর পরিজনেরা। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পেলে মৃত্যু কী ভাবে হয়েছে বলা যাবে না।”

গত লোকসভা নির্বাচনে গড়বেতা ৩ ব্লকের ডিগড়িতে এ বার ‘লিড’ পেয়েছে বিজেপি। তারপর থেকে লাগাতার তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপি কর্মীরা। তৃণমূল সূত্রে খবর, সেই তালিকায় ছিলেন অরুণও। গত কয়েক মাস ধরে কাটমানির অভিযোগে চাপ বাড়ছিল তাঁর উপরে। এ দিন দেহ উদ্ধারের পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। মৃতের ভাই বরুণ বলেন, “দাদার বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ মিথ্যা। দাদাকে গ্রামছাড়া করতে অত্যাচার করছিল বিজেপি। চাপের মুখে দাদা গ্রাম ছেড়ে খড়্গপুরে থাকছিলেন। তার পরেও বাড়ির সকলকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আমার ধারণা মানসিক চাপেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দাদার মৃত্যু হয়েছে।” এ দিন রাত পর্যন্ত চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ বিট হাউস বা গড়বেতা থানায় অভিযোগ জমা পড়েনি।

চন্দ্রকোনা রোড ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি রাজীব ঘোষ বলেন, ‘‘অরুণ দাস দলের একজন সাধারণ কর্মী ছিলেন। মিটিং-মিছিলে মাঝেমধ্যে আসতেন। কিছুদিন ধরে তিনি অন্যত্র থাকতেন বলে শুনেছি।’’ চন্দ্রকোনা রোডের বিজেপি নেতা গৌতম কৌড়ি বলেন, ‘‘দুর্নীতির দায়ে নিজের দল থেকেই উনি বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। শুনেছি উনি কাটমানিতেও জড়িত ছিলেন। বিজেপি চন্দ্রকোনা রোড এলাকায় কোথাও সন্ত্রাস সৃষ্টি করেনি, কাউকে ভয়ও দেখায়নি। নিজেদের দোষ ঢাকতে পরিবারের পক্ষ থেকে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’’

খড়্গপুর থেকে মৃতদেহ আনার সময়ে পরিবারের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো। চন্দ্রকোনা রোডে তৃণমূল পার্টি অফিসে আনা হয় দেহ। পরে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শ্রীকান্ত বলেন, ‘‘ওঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। উনি দলের কর্মী ছিলেন।’’

Crime Death TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy