লালগড়ের আমলিয়া গ্রামের লাগোয়া জঙ্গলে তরুণের অপমৃত্যুর ঘটনায় জড়িয়ে গেল জনগণের কমিটির প্রাক্তন নেতা মনোজ মাহাতোর নাম। বৃহস্পতিবার আমলিয়া গ্রামের লাগোয়া জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় সৌমেন মাহাতো (২০) নামে গলায় দড়ির ফাঁস লাগানো এক তরুণের দেহ। সৌমেনের বাড়ি গোয়ালতোড় থানার কাদোশোল গ্রামে। শুক্রবার লালগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সৌমেনের বাবা সুদর্শন মাহাতো। তাঁর অভিযোগ, লালগড়ের বীরকাঁড় গ্রামের মনোজ মাহাতোর উদ্যোগে তাঁর ছেলের সঙ্গে আমলিয়া গ্রামের এক নাবালিকার বিয়ে দেওয়া হয়। পরিকল্পিতভাবে সৌমেনকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সুদর্শনবাবু।
মেয়েটির বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। এ দিন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ মর্গে ময়না তদন্তের পরে সৌমেনের দেহ পরিজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। সৌমেনের জেঠু হারাধন মাহাতোর প্রশ্ন, আত্মহত্যা করলে মৃতদেহের নাকে-মুখে রক্ত কেন থাকবে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার পূর্ণাপানি জঙ্গলে সৌমেনের সঙ্গে আমলিয়া গ্রামের এক নাবালিকাকে দেখে ফেলেন স্থানীয়রা। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের উদ্যোগে সেদিনই সৌমেনের সঙ্গে নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রীটির বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর আমলিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতেই ছিলেন সৌমেন। তারপর বৃহস্পতিবার আমলিয়া গ্রামের লাগোয়া জঙ্গলে সৌমেনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। রাস্তা তৈরির কাজে এক ঠিকাদারের অধীনে রোলার চালাতেন সৌমেন। কাজের সূত্রেই কয়েকমাস আগে ওই নাবালিকার সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছিল। সোমবার ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি এসেছিলেন তিনি।
হারাধনবাবুর অভিযোগ, মঙ্গলবার জনগণের কমিটির প্রাক্তন নেতা মনোজ মাহাতোই জোর করে ওই নাবালিকার সঙ্গে সৌমেনের স্থানীয় একটি মন্দিরে বিয়ে দেন। সৌমেনের পরিবার বিয়ে মানতে অস্বীকার করলে মনোজ হুমকি দেন বলেও অভিযোগ। বৃহস্পতিবার থেকে মনোজের ফোন বন্ধ রয়েছে। এসএমএস করেও জবাব মেলেনি। এখন অবশ্য মনোজ এলাকায় তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
লালগড় ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতি তন্ময় রায় বলেন, “ওই বিয়েতে মনোজের ভূমিকার কথা শুনেছি। আইন আইনের পথে চলবে।”