Advertisement
E-Paper

অভাব সরিয়ে জেলায় যুগ্মভাবে প্রথম সৌরভ

আইনস্টাইন থেকে স্টিফেন হকিংস। বিজ্ঞানীদের জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর বিপুল আগ্রহ। স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি অবসরে বিজ্ঞানীদের নিয়ে লেখা বই পড়া তাঁর নেশা। সেও ভবিষ্যতে পদার্থ বিদ্যা নিয়ে গবেষণা করতে চায়। তমলুকের প্রত্যন্ত চাঠরা গ্রামের ছেলে সৌরভ মাল এ বার উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৭৮ নম্বর পেয়ে কাঁথির বড়বড়িয়া হাজরা বিদ্যাপীঠের ছাত্র শৌভিক জানার সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সম্ভাব্য প্রথম স্থানে রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০১৫ ০১:৫৯
সৌরভ মাল। নিজস্ব চিত্র।

সৌরভ মাল। নিজস্ব চিত্র।

আইনস্টাইন থেকে স্টিফেন হকিংস। বিজ্ঞানীদের জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর বিপুল আগ্রহ। স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি অবসরে বিজ্ঞানীদের নিয়ে লেখা বই পড়া তাঁর নেশা। সেও ভবিষ্যতে পদার্থ বিদ্যা নিয়ে গবেষণা করতে চায়। তমলুকের প্রত্যন্ত চাঠরা গ্রামের ছেলে সৌরভ মাল এ বার উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৭৮ নম্বর পেয়ে কাঁথির বড়বড়িয়া হাজরা বিদ্যাপীঠের ছাত্র শৌভিক জানার সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সম্ভাব্য প্রথম স্থানে রয়েছে।
সৌরভ নিজের প্রিয় বিষয় পদার্থ বিজ্ঞানে পুরো ১০০ নম্বরই পেয়েছে। এছাড়াও বাংলায় ৯৪, ইংরাজিতে ৯২ ,অঙ্কে ৯৭, রসায়নে ৯৫ ও ঐচ্ছিক বায়োলজিতে ৯২ নম্বর পেয়েছে। পড়াশোনার সাথে ক্রিকেট খেলার ভক্ত সৌরভ অবসরে ছবি আঁকে, আবৃত্তি করে। বাবা বিদ্যুৎ মাল হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায় একটি কারখানায় কাজ করেন। মাসিক হাজার পাঁচেক টাকা আয়ের উপর নির্ভর করে সংসার চালানোর পাশাপাশি দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ চালান। বড় ছেলে সৌরভ, ছোট ছেলে সুমন এ বার মাধ্যমিক দিয়ে ভাল ফল করেছে। এহেন নুন আনতে পান্তা ফুরানো পরিবারের ছেলে সৌরভ মাধ্যমিকে ৬৬৯ নম্বর পেয়ে জেলায় প্রথম সারিতে ছিল। এবার উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় জেলার সেরারদের মধ্যে স্থান করায় খুশি তাঁর পরিবার ও গ্রামের বাসিন্দারা।

চাঠরা কুঞ্জরানী বাণীভবনের প্রধান শিক্ষক সুব্রত হালদার বলেন, ‘‘ক্লাসে বরাবরই প্রথম হয় সৌরভ। তবে মাত্র তিন নম্বর কমের জন্য রাজ্যের মেধা তালিকায় স্থান না পাওয়া আফশোসও রয়েছে সৌরভের।’’ সৌরভের কথায়, ‘‘ভবিষ্যতে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করে আরও ভাল ফল করতে চাই। ভবিষ্যতে ওই বিষয়েই গবেষণা করতে চাই।’’ ছেলের এমন সাফল্যে একদিকে যেমন খুশি আবার উদ্বিগ্ন মা মলিনাদেবী। তিনি বলেন, ‘‘পারিবারিক আয় খুবই সীমিত। এতদিন ওকে আমাদের এই আর্থিক সমস্যার কথা বুঝতে দিইনি। কিন্তু এখন ওকে পড়াশোনার জন্য কীভাবে সাহায্য করব তা নিয়ে চিন্তা থাকছেই।’’ সৌরভের বাবা অবশ্য এখনও ভরসা জোগাচ্ছেন। তাঁর কথায়, ‘‘সৌরভের ফলাফল আমাদের সাহস জুগিয়েছে। আমাদের যত কষ্ট হোক সৌরভ যাতে নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে পারে সেজন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy