ইউজিসি-র সাহায্য পদার্থবিদ্যা বিভাগকে
নিজস্ব সংবাদদাতা • মেদিনীপুর
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর বিশেষ সাহায্য প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্নীত হল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগ। এই প্রকল্পে ইউজিসি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও বিভাগকে পাঁচ বছরের জন্য আর্থিক সহায়তা দেয় মূলত গবেষণার উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরির জন্য। ২০০৯ সালে পদার্থবিদ্যা বিভাগ প্রথম এই প্রকল্পের অধীনে আসে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা দেয় ইউজিসি। এ বার প্রাথমিক ভাবে ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। অধ্যাপক রাধারমণ পাল বলেন, “এই সাহায্য গবেষণা করার পরিকাঠামো আরও উন্নত করবে।” বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের মধ্যে পদার্থবিদ্যা বিভাগই এই প্রকল্পে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। চলতি বছর রাজ্যের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের মধ্যে কলকাতা ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগ এই সাহায্য প্রকল্পের আওতায় এসেছে।
তছরুপের অভিযোগে ধৃত অবর স্কুল পরিদর্শক
বরাবাজারের পরে ঝালদা। আর্থিক তছরুপের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ঝালদা ৩ চক্রের অবর স্কুল পরিদর্শক স্বপন সিংহ। পুরুলিয়া জেলা সর্বশিক্ষা মিশনের অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে ঝালদা থেকেই গ্রেফতার করা হয় স্বপনবাবুকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের গোপীবল্লভপুরের বাসিন্দা স্বপন সিংহ ঝালদা পুর-এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। গত ১০ জুলাই পুরুলিয়ারই বরাবাজার ১ চক্রের অবর স্কুল পরিদর্শক অজয় বেরাকেও গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। জেলা স্কুল পরিদর্শকের (প্রাথমিক) অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে ধরা হয়েছিল। জেলা সর্বশিক্ষা মিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত স্বপন সিংহের বিরুদ্ধে অফিস পরিচালনার জন্য কিছু জিনিসপত্র কেনা নিয়ে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তিনি ওই সব জিনিসপত্র কেনার ভুয়ো বিল জমা করেছিলেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় তৃণমূলও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের এই আধিকারিকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মাস সাতেক আগে বিক্ষোভ দেখায়। জেলা সর্বশিক্ষা মিশনের প্রকল্প আধিকারিক উদয়ন ভৌমিক বলেন, “ওই অবর স্কুল পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির যে অভিযোগ ছিল, প্রাথমিক ভাবে তদন্তে তা প্রমাণিত হয়েছে। জেলাশাসকের নির্দেশ মোতাবেক তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।” বৃহস্পতিবার স্বপনবাবুর বিরুদ্ধে ঝালদা থানায় অভিযোগ হয়। রাতেই ঝালদার বিরসা মোড় এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মা নিয়ে গেলেন মেয়েকে
মাস চারেক আগে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন মা। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ধরমপুর গ্রামের বাসিন্দা, সেই মা শোভাতি সোরেন নিয়ে গেলেন তাঁর শিশুকন্যাকে। হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে নার্সরা এক দিন সকালে হঠাৎ দেখেন, শিশুকন্যার পাশে তার মা নেই। দিনভর সেই মহিলা ফিরে না আসায় হাসপাতালের খাতায় মা নিখোঁজ বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। বিভাগের অন্য প্রসূতিদের বুকের দুধ খেয়ে কিছুদিন হাসপাতালে কাটিয়ে জেলা শিশুকল্যাণ কমিটি মারফত শিশুকন্যাটির ঠাঁই হয় পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে ভাটবাঁধ এলাকার একটি হোমে। কমিটির সদস্য শ্রীকান্ত গরাঁই বলেন, “শোভাতি সোরেন নামে ওই মহিলার শ্বশুরবাড়ি ধরমপুরে। এই জেলারই কোনও গ্রামে মহিলার বাপের বাড়ি। প্রসবের জন্য ভর্তি হয়েছিলেন পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে। ওই মহিলা আমাদের জানিয়েছেন, জন্মের পরে মেয়েকে প্রচণ্ড রুগ্ণ ও কার্যত নড়াচড়া করতে না দেখে তিনি তাকে ছেড়ে চলে এসেছিলেন। পরে আমরা ধরমপুর গ্রামের ঠিকানায় যোগাযোগ করলে, উনি খবর পান যে, তাঁর সন্তান বেঁচে রয়েছে।” ওই মহিলা স্বামী লোকসাগর সোরেনকে নিয়ে কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে।
বিতর্কে ইতি, সরছে মেলা
বিতর্কে ইতি টেনে মেদিনীপুর কলেজ- কলেজিয়েট স্কুল মাঠ থেকে মেলা সরিয়ে নিলেন উদ্যোক্তারা। ইতিমধ্যে স্টল তৈরির কাজ অনেক দূর এগিয়ে ছিল। পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে শুক্রবার থেকে স্টল খোলার কাজ শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, শহরেরই অন্য এক মাঠে ওই মেলা হবে। মেদিনীপুর কলেজ- কলেজিয়েট স্কুল মাঠে এখন সংস্কার কাজ চলছে। সংস্কার চলাকালীন মাঠে মেলা করার অনুমতি দেওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। আগামী ২৪ জুলাই থেকে এখানে মেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। গত সোমবার থেকে স্টল তৈরির কাজ শুরু হয়। স্টলের জন্য বাঁশ পোঁতা হচ্ছে দেখে ওই দিন মাঠে গিয়ে প্রতিবাদ করেন কলেজিয়েট স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক। স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে এ নিয়ে পুলিশ- প্রশাসনের কাছে নালিশও করা হয়। মেলার উদ্যোক্তারা অবশ্য জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে মেলা করার প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে। অনুমতিপত্রও তাঁরা স্কুল- কর্তৃপক্ষকে দেখান। এই মাঠটি কার দখলে রয়েছে, সেই নিয়ে অবশ্য বিতর্ক রয়েছে। পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে এর দেখভাল করছে ভূমি দফতরই। জানা গিয়েছে, মেলার উদ্যোক্তারা অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) অরিন্দম দত্তের দফতরে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে অনুমতিও মেলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতো শহরের এই মাঠ সংস্কারে দশ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। সংস্কার চলাকালীন কী ভাবে মাঠে মেলা করার অনুমতি দেওয়া হল উদ্যোক্তাদের, এই প্রশ্ন তুলেই সরব হন অনেকে। কলেজিয়েট স্কুল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মহলে নালিশ জানাতে থাকে। বিতর্কে ইতি টানতে শেষমেশ এই মাঠ থেকে মেলা সরিয়ে নিলেন উদ্যোক্তারা।
খালে দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য
খাল থেকে এক ব্যক্তির বিকৃত মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বেলদায়। মৃতের নাম রামজিৎ মুর্মু (৪২)। শুক্রবার সকালে বেলদা থানা এলাকার খাকুড়দা বাজারের কাছে বাগুই খালে স্থানীয় বাসিন্দারা রামজিতবাবুর মৃতদেহ ভেসে থাকতে দেখেন। মৃতের বাড়ি বেলদার মানদারে। খবর পেয়ে বেলদা থানার পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রামজিতবাবু বাড়ি থেকে বেরিয়ে খাকুড়দা বাজারে এসেছিলেন। তবে রাতে তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকেরা উদ্বেগে ছিলেন। শুক্রবার সকালে মৃতের পরিবারের লোকেরা রামজিতবাবুর দেহ উদ্ধারের খবর পান। তবে এ দিন বিকেল পর্যন্ত তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ওই ঘটনায় পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের অনুমান, এ দিন খালের ধারে শৌচকর্ম অসাবধানতাবশত খালে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
শিক্ষকের জামিন
ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় ধৃত শিক্ষকের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল আদালত। শুক্রবার সঞ্জয় মণ্ডল নামে ওই শিক্ষককে মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে হাজির করা হয়। প্রহৃত ছাত্রের বাবা বিদ্যুৎ চালক মেদিনীপুর কোতয়ালি থানায় ঘটনার কথা লিখিত ভাবে জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা রুজু হয়। এ ক্ষেত্রে জামিনযোগ্য ধারাতেই মামলা রুজু হয়েছিল। ধৃত শিক্ষকের আবেদন খতিয়ে দেখে আদালতও তাঁকে জামিন দেয়। ঘটনাটি গুড়গুড়িপাল হাইস্কুলের। সঞ্জয়বাবু এই হাইস্কুলের হস্টেলের শিক্ষক। বৃহস্পতিবার তিনি কাশীনাথ চালক নামে অষ্টম শ্রেণীর এক আবাসিক-ছাত্রকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। প্রহৃত ছাত্রকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয়।
দরজা চুরি
রাতের অন্ধকারে সরকারি পাঠাগারের লোহার দরজা কেটে নিয়ে পালাল দুষ্কৃতীরা। হিড়বাঁধ ব্লকের মশিয়াড়া সুভাষ মিলন মন্দির গ্রামীন পাঠাগারে বৃহস্পতিবার রাতে দুষ্কৃতীরা হানা দেয়। পাঠাগারের পরিচালন কমিটির সম্পাদক শ্যামাপদ রায় জানান, শুক্রবার হিড়বাঁধ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আশাকর্মীদের দাবি
বেতন বৃদ্ধি, স্থায়ীকরণ-সহ ছ’দফা দাবিতে শুক্রবার বাঁকুড়া জেলা মুখ্য স্বাস্থ্যআধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি দিলেন আশাকর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন জেলায় আশাকর্মীদের সংগঠনের সভাপতি মিনতি মণ্ডল-সহ অনেকে। তাঁদের দাবিগুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর।
মাইক বন্ধে ক্ষোভ
স্কুল চলাকালীন স্কুলের ৫০ মিটার দূরত্বে মাইক বাজিয়ে বীরভূম জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্ক খোলার দাবিতে বিজেপির প্রতীকী অনশন মঞ্চে সভা চলছিল। খবর পেয়ে মাইক বাজানো বন্ধ করে দিলেন রামপুরহাট মহকুমা শাসক উমাশংকর এস। তিনি বলেন, “বিজেপি মাইক বাজানো হবে কিনা জানায়নি।”
অস্বাভাবিক মৃত্যু মহিষাদলে
অস্বাভাবিক মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। মৃতের নাম তপন ঘোড়াই (৪০)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহিষাদল থানা এলাকার অমৃতবেড়িয়া গ্রামের ঘটনা। এ দিন অমৃতবেড়িয়ায় নিজের বাড়িতে ওই ব্যাক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাড়ির লোকজন তাঁকে তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় কৃষক ও ভ্যানচালক ওই ব্যক্তির মদ খাওয়ার অভ্যাস থাকায় সংসারে অশান্তি লেগে থাকত। এ দিন সন্ধ্যায় ওই একই কারণে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অশান্তি হয়। তপনবাবুর পরিবারের লোকেদের দাবি, তারপরই তিনি ঘরে ঢুকে কীটনাশক খান।