Advertisement
E-Paper

তিন সেরা পূর্বের, উচ্ছ্বসিত জেলা

তিনজনেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ সেরেই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে পড়তে গিয়েছিল। আর সেখানে গিয়ে এ বার উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক ও নন্দকুমারের তিন ছাত্র। এ বার উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মেধা তালিকায় চতুর্থ স্থান পাওয়া পবিত্র প্রামাণিক পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক শহর সংলগ্ন নিশ্চিন্তবসান গ্রামের ছেলে।

আনন্দ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০১৫ ০০:৫৫
টিভির পর্দায় চোখ পবিত্রর বোন সু্স্মিতার। ছবি: পার্থপ্রতিম দাস।

টিভির পর্দায় চোখ পবিত্রর বোন সু্স্মিতার। ছবি: পার্থপ্রতিম দাস।

তিনজনেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ সেরেই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে পড়তে গিয়েছিল। আর সেখানে গিয়ে এ বার উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক ও নন্দকুমারের তিন ছাত্র।

এ বার উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মেধা তালিকায় চতুর্থ স্থান পাওয়া পবিত্র প্রামাণিক পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক শহর সংলগ্ন নিশ্চিন্তবসান গ্রামের ছেলে। বাবা তপন প্রামাণিক ও মা শেফালী প্রামাণিক দু’জনেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। শুক্রবার উচ্চ-মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশের পরেই মেধা তালিকায় পবিত্রর নাম দেখে উচ্ছ্বসিত তাঁর প্রতিবেশীরা। এ দিন সকালেই বাবা-মায়ের সঙ্গে পবিত্র তমলুকের বাড়ি থেকে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে যায়। বাড়িতে ছিল পবিত্রর বোন সুস্মিতা।

তমলুক রাজকুমারী সান্ত্বনাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সুস্মিতা-সহ তাঁদের প্রতিবেশীরা সকাল থেকেই টেলিভিশনে উচ্চ-মাধ্যমিকের ফলাফল দেখতে বসেছিলেন। টেলিভিশনে ফলাফল দেখানোর সময় মেধা তালিকায় পবিত্রর চতুর্থ স্থান পাওয়ার খবর জানতে পেরে খুশিতে ফেটে পড়ে গোটা গ্রাম। এ দিন সকালে নিশ্চিন্তবসান গ্রামে পবিত্রর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বোন সুস্মিত-সহ প্রতিবেশী শশাঙ্ক আচার্য, অনুরাধা দাস, মধুমিতা মণ্ডলরা টেলিভিশনের সামনে উচ্চ-মাধ্যমিকের ফলাফল দেখছেন। অনুরাধাদেবী বলেন, ‘‘পবিত্র মাধ্যমিকেও নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে সপ্তম স্থান পেয়েছিল। এবারও মেধা তালিকায় স্থান পাবে আমরা নিশ্চিত ছিলাম। মাধ্যমিকের চেয়ে এবার মেধা তালিকায় আরও উপরে স্থান পাওয়ায় আমরা ভীষণ খুশি হয়েছি।’’

Advertisement

পবিত্রর বিষয়ভিত্তিক নম্বর বাংলায় ১০০, ইংরাজীতে ৯৪, অঙ্কে ৯৯, রসায়নে ৯৮, বায়োলজিতে ৯৬ ও ঐচ্ছিক ফিজিক্সে ৯ । পবিত্র’র এমন সাফল্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁর প্রতিবেশী তথা পবিত্রর প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক অশোক জানা। অশোকবাবু বলেন, ‘‘পবিত্র খুব ভাল ছেলে। পবিত্র আরও ভাল পড়াশোনা করে কর্মজীবনেও সফল হোক।’’ দাদার সাফল্যে খুশি বোন সুস্মিতাও। তার কথায়, ‘‘দাদা ভাল ফল করবে জানতাম।’’

পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেট পাগল পবিত্র বিরাট কোহলির ভক্ত। প্রিয় বিষয় অঙ্ক হলেও ভবিষ্যতে ডাক্তারি নিয়ে পড়তে চাওয়া পবিত্রর কথায়, ‘‘যেমন নম্বর পাব বলে আশা করেছিলাম তা পেয়েছি। এতে আমি খুশি। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওযার ইচ্ছা রয়েছে।’’

আবার নন্দকুমারের ব্যবত্তারহাট এলাকার নারাদাড়ি গ্রামের ছেলে সোমতীর্থ রায় এ বার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৮১ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে। সোমতীর্থ বাংলায় ৯৪, ইংরাজিতে ৮৮, অঙ্কে ৯৮, পদার্থবিদ্যায় ৯৮ , রসায়নে ৯৯ ও ঐচ্ছিক জীববিজ্ঞানে ৯৫ নম্বর। সোমতীর্থের বাবা সমরজিৎ রায় বারাসত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, মা কৃষ্ণা রায় ডাক বিভাগের কর্মী। ফুটবলে আর্জেন্টিনার তারকা মেসির ভক্ত সে। প্রিয় বিষয় বায়োলজি। ডাক্তারি পড়তে চায় সোমতীর্থ। সোমতীর্থ বলেন, ‘‘ভাল ফল হবে আশা করেছিলাম। তবে, সত্যি বলছি, এতটা ভাল হবে বুঝতে পারিনি।’’

এ দিকে, জেলার নন্দকুমারের মান্দারগেছিয়া গ্রামের ছেলে অনীক মিত্রও নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে এবার ৪৮১ নম্বর পেয়ে উচ্চ-মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় দশম স্থান অধিকার করেছে। অনীকের বাবা বিশ্বনাথ মিত্র পেশায় সরকারি প্রাণী চিকিৎসক। মা ইন্দ্রানীদেবী এসএসকেএম হাসপাতালের সিস্টার-ইন-চার্জ। উচ্চ মাধ্যমিকে অনীকের বিষয়ভিত্তির নম্বর বাংলায় ৯৬, ইংরাজিতে ৯০, পদার্থবিদ্যায় ৯৯, রসায়নে ৯৮, অঙ্কে ৯৮ ও ঐচ্ছিক রাশিবিদ্যায় ৯৮। ফুটবল ভক্ত অনীক পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করে গবেষণা করতে চায়। ছেলের সাফল্যে খুশি বিশ্বনাথবাবু এ দিন বলেন, ‘‘মাধ্যমিকে বাংলায় কম নম্বর পাওয়ায় মেধা তালিকায় স্থান পেতে পারেনি। এ বার ভাল ফল করে মেধা তালিকায় স্থান করতে পারায় সেই আক্ষেপ মিটেছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy