Advertisement
E-Paper

সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট সিআইডি-র

গত মাসেই পিংলা বিস্ফোরণ কাণ্ডে নিমাই মাইতি নামে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করে সিআইডি। ধৃতের বিরুদ্ধে বুধবার মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। সিআইডি সূত্রে খবর, চার্জশিটে জানানো হয়েছে, নিমাই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৫৪

গত মাসেই পিংলা বিস্ফোরণ কাণ্ডে নিমাই মাইতি নামে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করে সিআইডি। ধৃতের বিরুদ্ধে বুধবার মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। সিআইডি সূত্রে খবর, চার্জশিটে জানানো হয়েছে, নিমাই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। ধৃতের পিক-আপ ভ্যানে করে বাজি সরবরাহ করা হত।

ঘটনাটি গত ৬ মে- র। ওই দিন রাতে পিংলার ব্রাহ্মণবাড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ১২ জনের। পরে কলকাতার হাসপাতালে ১ জন মারা যান। জখম হয় ৩ জন। মৃতদের মধ্যে ৯ জনই নাবালক। ঘটনা নিয়ে রাজ্য- রাজনীতি তোলপাড় হয়। গোড়ায় তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশই। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি। আগে দু’জন গ্রেফতার হয়। একজন শেখ সুরজ। অন্যজন রঞ্জন মাইতি। গত মাসে নিমাইকে গ্রেফতার করা হয়। রঞ্জন কারখানার অন্যতম মালিক। নিমাই রঞ্জনের ভাই। আর সুরজ মুর্শিদাবাদের সুতি থেকে অল্পবয়সী ছেলেদের টাকার লোভ দেখিয়ে পিংলার এই কারখানায় নিয়ে আসার ব্যাপারে মধ্যস্থতা করে। ভয়াবহ বিস্ফোরণের পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, পিংলার ব্রাহ্মণবাড়ের বেআইনি বাজি কারখানায় বিয়ে বাড়ির জন্য বাজি তৈরি হচ্ছিল। একই দাবি করেছিলেন জেলার পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষও। অবশ্য পরে রাজ্য সরকারেরই ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ বা আইবি- র গোয়েন্দারা রিপোর্টে জানান, পটকা বাজির পাশাপাশি দেশি বোমাও তৈরি হত এই বেআইনি বাজি কারখানায়।

সিআইডির চার্জশিটে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর দাবিকেই মান্যতা দেওয়া হয়। ঘটনার ৮৯ দিনের মাথায় গত ৩ অগস্ট মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়ে দেয়, পিংলার ব্রাক্ষ্মণবাড়ে বেআইনি বাজি কারখানাই ছিল। মামলার বিচার চলছে মেদিনীপুর আদালতে। মুস্তাক শেখ নামে বিস্ফোরণে জখম এক কিশোরের গোপন জবানবন্দিও নিয়েছে সিআইডি। বস্তুত, এই পিংলা কাণ্ড নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে কম শোরগোল হয়নি। বিস্ফোরণস্থল তড়িঘড়ি সাফসুতরো করা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এক সময় ধৃত রঞ্জনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায় সিআইডি। তল্লাশিতে কিছুই পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের একাংশের অবশ্য দাবি, পুলিশ আগেই রঞ্জনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। তখনই সন্দেহজনক সমস্ত কিছু সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পুলিশ অবশ্য এই দাবি উড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে নিমাই ফেরার ছিল। এক সূত্র মারফত সিআইডির কাছে খবর আসে, পিংলা বিস্ফোরণ কাণ্ডে অন্যতম এই অভিযুক্ত নিজের পরিচয় গোপন করে ডেবরার এক এলাকায় রয়েছে। গত মাসে ওই এলাকা থেকেই তাকে হাতেনাতে ধরে সিআইডি।

Advertisement
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy