পড়াশোনার অবসরে ঢাক বাজিয়ে হরিদাসমাটি অঞ্চলের অযোধ্যা নগরের বাসিন্দা অক্ষয় দাস উচ্চমাধ্যমিকে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। বিজয়কুমার হাইস্কুলের এই পড়ুয়াকে নিয়ে গর্বের শেষ নেই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। দিদি সুনীতাও পড়াশোনাতে ভাল ছিলেন। ছোট থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী অক্ষয়ের বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চোখে পড়তে সময় লাগেনি। দিনমজুর বাবা বাসুদেব ঘোষ ঢাক বাজাতেন বাড়তি রোজগারের আশায়। গত বছর অসুস্থ হয়ে বাসুদেববাবু ঘরবন্দি হয়ে পড়লে সংসারের অনটন বেড়ে যায়। পরিচারিকার কাজ করতে বাধ্য হন মা অঞ্জলি দাস। বাবার কাছে শেখা ঢাক বাজানোকেই বাড়তি রোজগারের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয় অক্ষয়ও। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে যখন যেখানে ঢাক বাজানোর বায়না পেয়েছে সেখানেই ঢাক কাঁধে ছুটে গিয়েছে সে দু’পয়সা বাড়তি রোজগারের আশায়।
তবে তাঁর এই কষ্টে দিন চালানোর কথা কাউকে জানাতে সঙ্কোচ করত অক্ষয়। সেকথা জানতেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাগর সাহা ও তাপস ঘোষ সহ দু’একজন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাগর সাহা বলছেন, “বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন কোন কোন দিন ওকে ছুটি দিতে হয়েছে ঢাক বাজানোর বায়না থাকায়। সেটুকু না দিলে ওদের রোজগার হবে না যে।”
বাংলা পড়তে ভাল লাগে অক্ষয়ের। বছর দুয়েক আগে এই বিদ্যালয় থেকে ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পাশ করেছিল সে। অক্ষয় বলছে, “আমি নম্বর পেয়েছি ঠিকই তবে আমার এই সফলতার পেছনে বিদ্যালয়ের স্যারদের ঋণ কোনওদিন ভোলবার নয়। বিশেষ করে সাগর স্যার আর তাপস স্যারের কথা না বললেই নয়। বই কেনা থেকে পড়া দেখানো যখন যে রকম সঙ্কট এসেছে, তাঁরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেই আমি এই নম্বর পেয়েছি।”
অক্ষয় দর্শনে পেয়েছে ৯৩। উচ্চমাধ্যমিকে না হওয়া সংস্কৃত ও ইতিহাস পরীক্ষায় পেয়েছে একই নম্বর। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অক্ষয় বলছে, “পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হবে কি না জানি না। স্যারদের সঙ্গে কথা বলব কিভাবে কী এগোন যায়।” বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাপস ঘোষ বলেন, “অভাবী মেধাবী এই পড়ুয়া দেশের আগামি ভবিষ্যৎ। ওর পাশে দাঁড়ানো আমাদের এখানেই শেষ নয়। ও যত দূর যেতে চায় আমরা ওর পাশে আছি।”