Advertisement
E-Paper

ঝাড়খণ্ডে গিয়ে লুকিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থীরা

তৃণমূল-শাসিত রাজ্য নিরাপদ নয়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন আসার আগেই মুর্শিদাবাদের সুতি, ধুলিয়ান, জঙ্গিপুর, ফরাক্কা, শমসেরগঞ্জ ছেড়ে দলে-দলে বিজেপি প্রার্থী ও কর্মীরা গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের পাকুড়ে পার্টি অফিসে। প্রত্যাহার-পর্ব মিটে যেতে তাঁরা ঘরে ফিরেছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০১৮ ০২:৫৬

তৃণমূল-শাসিত রাজ্য নিরাপদ নয়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন আসার আগেই মুর্শিদাবাদের সুতি, ধুলিয়ান, জঙ্গিপুর, ফরাক্কা, শমসেরগঞ্জ ছেড়ে দলে-দলে বিজেপি প্রার্থী ও কর্মীরা গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের পাকুড়ে পার্টি অফিসে। প্রত্যাহার-পর্ব মিটে যেতে তাঁরা ঘরে ফিরেছেন। কেউ ফিরেছেন রবিবার, কেউ সোমবার।

মুর্শিদাবাদে পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অর্ধেকেরও বেশি আসন জিতে গিয়েছে তৃণমূল। প্রথমে মনোনয়ন পেশ করতে না দেওয়া, কেউ দৈবাৎ করে ফেললে তা প্রত্যাহার করানোর জন্য লাগাতার হুমকি-মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাসক দলের বিরুদ্ধে। চাপ দিয়ে যাতে ভোটের মাঠ থেকে সরানো না যায় তার জন্য উত্তর মুর্শিদাবাদ থেকে প্রার্থীদের লাগোয়া ঝাড়খণ্ডে সরিয়ে দিয়েছিল বিজেপি।

পাকুড়ে বিজেপির মুখপাত্র ভাস্কর পান্ডে জানান, তৃণমূলের হুমকিতে জেরবার হয়ে শুক্রবার রাতের মধ্যে মুর্শিদাবাদের প্রার্থীরা সেখানে চলে যান। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন মহিলা। শনিবার, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় না পেরোনো পর্যন্ত তাঁদের নিরাপদে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর্বে হুমকি ও মারধরের অভিযোগ তোলার সময়েই বিজেপি নেতারা বার বার বলছিলেন, তৃণমূলের হামলার হাত থেকে বাঁচাতে তাঁরা প্রার্থীদের অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছেন। তবে সেটা যে অন্য রাজ্যে, তা তাঁরা বলেননি। সোমবার বিজেপির উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটি সূত্রে জানা যায়, সুতি-১ ব্লক (আহিরণ এই ব্লকে পড়ে) থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬০ জন এবং পঞ্চায়েত সমিতির ১৪ জন প্রার্থীকে পাকুড়ে আশ্রয় নিতে পাঠানো হয়েছিল।

এঁদের মধ্যে ছিলেন দলের উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় ঘোষের স্ত্রী বুল্টি ঘোষ। তিনি সুতি-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রার্থী হয়েছেন। বুল্টি বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার ভোরেই আমরা পাকুড়ের দিকে রওনা দিই। তিন দিন ওখানেই ছিলাম।’’ বেশির ভাগ মহিলা প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন তাঁদের স্বামীরাও। বিজেপির অভিযোগ, প্রার্থীরা পালালেও তাঁদের বাড়িতে হামলা কিন্তু থামেনি। তাতে আতঙ্কিত হয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের আট জন প্রার্থী ফিরে এসে মনোনয়ন তুলে নিতে বাধ্য হন। কিন্তু বাকি ৬৬ জন ফেরেননি। তাঁরা ভোটে লড়ছেন।

শুধু সুতি নয়, শমসেরগঞ্জ এবং ফরাক্কার কিছু প্রার্থীও পালিয়েছিলেন পাশের রাজ্যে। বিজেপি সূত্রের খবর, শমসেরগঞ্জের ১১ জন ও ফরাক্কার ছ’জন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রার্থী পাকুড়েই আশ্রয় নিয়েছিলেন। ফরাক্কা থেকেই ঝাড়খণ্ডের বারহারোয়ায় গিয়ে দলীয় দফতরে ঠাঁই নিয়েছিলেন ৩০। তাঁরা রবিবার বিকেলে ফিরে এসেছেন।

তৃণমূল অবশ্য সন্ত্রাসের কারণে প্রার্থীদের রাজ্যত্যাগের ‘গল্প’ মানতে রাজি নয়। সুতি-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি জিয়ারত আলির দাবি, ‘‘এখানে সমস্ত বিরোধী প্রার্থীই বিনা বাধায় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তা হলে পরে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য আমরা চাপ দিতে যাব কেন? ভোটের মুখে শুধুমাত্র সহানুভূতি আদায়ের জন্য বিরোধীরা গল্প ফাঁদছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy