Advertisement
E-Paper

পুড়ে ছাই বই-খাতা, স্কুলে যাওয়া অনিশ্চিত পড়ুয়াদের

পোড়া ঘরের সামনে বসে দু’হাতে কপাল চেপে বসে ছিলেন কাঞ্চনী চৌধুরী। গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে চোখের জল। স্বামীর সঙ্গে মাঠে কাজ করতে গিয়েছিলেন। আকাশে আগুনের গোলা পাকিয়ে উঠতে দেখে পড়িমড়ি করে বাড়ির পানে দৌড়েছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০১৬ ০১:০৬
পোড়া বই হাতে নিয়ে বসে । — নিজস্ব চিত্র

পোড়া বই হাতে নিয়ে বসে । — নিজস্ব চিত্র

পোড়া ঘরের সামনে বসে দু’হাতে কপাল চেপে বসে ছিলেন কাঞ্চনী চৌধুরী। গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে চোখের জল। স্বামীর সঙ্গে মাঠে কাজ করতে গিয়েছিলেন। আকাশে আগুনের গোলা পাকিয়ে উঠতে দেখে পড়িমড়ি করে বাড়ির পানে দৌড়েছিলেন। এসে দেখেন দাউ দাউ করে জ্বলছে বাড়ি। পাইপ দিয়ে জল ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তা কাজে আসেনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কৃষ্ণনগরের চরশম্ভুনগরের চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা দিলীপ চৌধুরির রান্নাঘর থেকে কোনও ভাবে আগুন ছড়িয়েছিল। সেই আগুন একে একে ১৮টি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িগুলি অধিকাংশ পাটকাঠির বেড়া দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়ায়। পাম্প চালিয়ে পাইপ দিয়ে জল ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে দমকল আসে। ঘণ্টা দুয়েকের চেষ্টায় আগুন আয়ত্তে আসে। ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে ১৮টি বাড়ি।

শনিবার গ্রামে পা দিয়ে দেখা গেল, চারিদিকে ধান, গম, চাল পোড়ার গন্ধ। বিধ্বংসী আগুনে বাসনপত্র পুড়ে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে। আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ওই দিনই নদিয়া জেলা প্রশাসন তাঁদের পাশে দাঁড়ায়। ত্রিপল, শুকনো খাবার, পোশাক দেওয়া হয় ক্ষতিগ্রস্তদের। তাঁদের ত্রাণশিবিরে নিয়ে গিয়ে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া বাড়ির সামনে জিলিপি চৌধুরী বলেন, “গায়ের কাপড়টুকু সম্বল। বাকি সব পুড়ে গিয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, প্রশাসনের দেওয়া সামান্য সাহায্যে কী করে চলবে বুঝতে পারছেন না। পর্যাপ্ত সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন জানান তিনি। পুড়ে যাওয়ার ঘরে সামনেই শুক্রবার জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান জিলিপি চৌধুরির স্ত্রী ডলিদেবী। তাঁকে শুক্রবার রাতেই কৃষ্ণনগরে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বইপত্র পুড়ে যাওয়ায় স্কুলে যাওয়া আপাতত স্কুলে যাওয়া বন্ধ জিলিপি চৌধুরির দুই মেয়ে রাধা ও রানির। রাধা অষ্টম শ্রেণিতে এবং রানি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। রাধার কথায়, ‘‘বই পুড়ে যাওয়ায় অন্তত জনা পনেরো ছেলেমেয়ের আপাতত স্কুলে যাওয়া বন্ধ।’’

আগুন লাগার খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যাতেই কৃষ্ণনগরের মহকুমাশাসক মৈত্রেয়ী গঙ্গোপাধ্যায় চরশম্ভুনগরে যান। তিনি জানান, জেলাশাসকের নির্দেশে একটি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। ১৮টি পরিবারের ৬৫ জন সদস্যকে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের ত্রিপল, শুকনো খাবার ও পোশাক
দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy