এর আগে কেউ মাস্ক তৈরির প্রশিক্ষণ পাননি। তবে অনেকেই সেলাইয়ের কাজ জানেন। আর সেই ধারণা থেকেই কয়েক দিনের মধ্যে মাস্ক তৈরির কাজ বেশ রপ্ত করে নিতে পেরেছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা।
আপাতত দিন-রাত এক করে কালীগঞ্জ ব্লকের ‘শুভদীপ সঙ্ঘ সমবায় সমিতি’র সেলাই জানা পাঁচ জন মহিলা সদস্য লকডাউনের বাজারে করোনা-মোকাবিলার জন্য মাস্ক তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন। তাঁদের কাজের খবর শুনে কালীগঞ্জের বিডিও নাজির হোসেন নিজে এগিয়ে এসে উৎসাহ দিয়েছেন। আশ্বাস দিয়েছেন পাশে থাকার। মাস্কের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড় নিজে দায়িত্ব করে জোগাড় করে দিয়েছেন বিডিও। একইসঙ্গে ইতিমধ্যেই তৈরি মাস্ক কী ভাবে সরকারি দফতরের মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করা যায়, সেই বিষয়ে জেলায় কর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।
ওই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের কথায়, লকডাউনের জেরে স্বাভাবিক কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁদের। গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রায় সকলের রোজগার বন্ধ। তাঁরা জানিয়েছেন, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস, খাবার কিনতে সঞ্চয়ের বেশিরভাগ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তখনই বাজারে মাস্ক এবং স্যানিটাইজ়ার-এর চাহিদা কথা শুনে বিষয়টি মাথায় আসে তাঁদের। কিন্তু কিন্তু স্যানিটাইজ়ার তৈরি করতে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ লাগবে। তাই ওই দিকে না গিয়ে মাস্ক তৈরির কাজটিকে বেছে নিয়েছেন ওই মহিলারা। ও বাজারে প্রয়োজনের তুলনায় মাস্কের জোগান কম রয়েছে। তাই গোষ্ঠীর যাঁদের সেলাইয়ের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁরাই প্রথমে মাস্ক তৈরির কাজ শুরু করেন। আর তার জেরে রোজগারের মুখও দেখছেন ওঁই মহিলারা।
কাপড়ের তৈরি এই মাস্কের দাম ২০ টাকার মতো। তবে এই মাস্ক ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে কতখানি কার্যকরী, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। সে ক্ষেত্রে ওই মহিলাদের যুক্তি, বাজারে এন-৯৫ মাস্কের যথেষ্ট জোগান নেই। সেগুলি একবার করে ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার কথা। সে দিক থেকে কাপড়ের এই মাস্ক কেচে আবার ব্যবহার করা যাবে। তাঁদের যুক্তি, বাজারে যে গেঞ্জি কাপড়ের মাস্ক পাওয়া যায়, তা সাধারণত এক স্তরের। কিন্তু তাঁদের তৈরি মাস্ক সুতির কাপড়ের এবং বিশিষ্ট দুই স্তর বিশিষ্ট।
বর্তমানে ওই স্বনির্ভর গোষ্ঠী দিনে পাঁচ জন মিলে ১০০টি করে মাস্ক তৈরি করতে পারছেন। পরে আরও মহিলাদের এই কাজের সঙ্গে যুক্ত করার কথা ভাবা হয়েছে।
এই বিষয়ে ওই সমবায় সমিতির সম্পাদিকা পিয়ালী দে ঘোষ বলেন ’’সাধারণ মানুষের চাহিদা ও মহিলাদের রোজগারের কথা চিন্তা করেই আমরা এই কাজে এগিয়ে আসি। এর থেকে যেমন মানুষের মাস্কের চাহিদা মিটবে, তেমনই সঙ্ঘের মহিলাদের রোজগারও হবে।’’
কালীগঞ্জের বিডিও নাজির হোসেন বলেন, ‘‘ওঁরা খুব ভাল কাজ করছেন। ব্লকের আরও অন্য মহিলাদেরও উৎসাহিত করা হচ্ছে কাজের জন্য।’’