Advertisement
E-Paper

অসুখ কী শুনে ফার্মাসিস্টই ওষুধ দেন গ্রামবাসীদের

শমসেরগঞ্জের ফিডার ক্যানেলের পশ্চিম পাড়ে ভাসাইপাইকর এলাকায় পুঁটিমারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনটি রয়েছে।

জীবন সরকার

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২০ ০৩:০৭
পুঁটিমারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নিজস্ব চিত্র

পুঁটিমারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নিজস্ব চিত্র

দু’বছরের সন্তানকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছিলেন শেফালি বিবি। কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খোঁজ করে জানতে পারলেন, কোন চিকিৎসক নেই। লকডাউনে যানবাহন চলছে না। এলাকায় গ্রামীণ চিকিৎসকও নেই। ছেলের কোথায় চিকিৎসা করাবেন, তা ভেবেই আকুল ওই মহিলা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, করোনা সংক্রমণের ভয় এবং লকডাউন চলায় জেলার অধিকাংশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসক এলেও পুঁটিমারির কপালে শিকে ছেঁড়েনি। বরং, উল্টোটাই হয়েছে। আগে একজন চিকিৎসক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকলেও লকডাউন শুরু হওয়ার পর তাঁকে পাশের এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এক ফার্মাসিস্ট পুঁটিমারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালাচ্ছেন। গ্রামবাসীদের সমস্যা শুনে তিনিই ওষুধ দেন। শমসেরগঞ্জের ফিডার ক্যানেলের পশ্চিম পাড়ে ভাসাইপাইকর এলাকায় পুঁটিমারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনটি রয়েছে। তবে ভবন না বলে সেটিকে ছোট ঘর বলাই ভাল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ, লকডাউনের আগে সেখানে একজন চিকিৎসক আসতেন। কিন্তু দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর তাঁকে অনুপনগর হাসপাতালে বেশি সময় দিতে হচ্ছে। সেই কারণে তিনি পুঁটিমারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত আসছেন না। পুঁটিমারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালাচ্ছেন ওই ফার্মাসিস্ট এবং সর্বক্ষণের একজন এএনএম। ভাসাইপাইকর, পুঁটিমারি, অদ্বৈতনগর, চাঁদপুর, সাহেবনগর-সহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা পুঁটিমারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক না-আসায় অসুবিধায় পড়েছেন গ্রামবাসীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা আঞ্জুমারা বেগম, হায়দার আলিদের ক্ষোভ, ‘‘সামান্য জ্বর-জারি হলেও দূর-দুরান্তে ছুটে যেতে হয় আমাদের। মাসখানেক আগেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন চিকিৎসক আসতেন। কিন্তু করোনা নিয়ে আতঙ্ক শুরু হওয়ার পর তিনি এখানে নিয়মিত আসছেন না। বাড়ির কাছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও পরিষেবা মেলে না। এখন লকডাউন চলছে। দূরের হাসপাতালে যাব কী করে! আমাদের অসুবিধের কথা কি কারও মনে আছে!’’ এ বিষয়ে শমসেরগঞ্জের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ) তারিফ হোসেন বলেন, ‘‘পুঁটিমারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগে একজন চিকিৎসক রোগী দেখছিলেন। কিন্তু করোনা নিয়ে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে অনুপনগর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুঁটিমারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। তিনিই প্রয়োজনমতো ওষুধপত্র দিচ্ছেন। বিশেষ প্রয়োজন হলে আমাদের যে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসক দল রয়েছেন, তাঁরা ওখানে যাবেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে একটু অসুবিধা হচ্ছে গ্রামবাসীদের। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুঁটিমারিতে চিকিৎসক নিয়মিত বসবেন।’’

Coronavirus COVID-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy