আগে ছিল দশ টাকার কয়েন, এখন হয়েছে এক।
কে যেন রটিয়ে দিয়েছে, এক টাকার ছোট কয়েন সব জাল। ব্যস! পাবলিক বলছে— জাল হোক বা না হোক, আমি জানি না। কেউ নিচ্ছে না, তাই আমিও নেব না।
ভিক্ষার ঝুলি থেকে দোকানের ক্যাশবাক্স— নবদ্বীপের সর্বত্র চোখের বালি হয়ে গিয়েছে এক টাকার নতুন কয়েন। খদ্দেরের হাতে ওই কয়েন দেখলেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠছেন মুদি থেকে বাজারের সব্জি বিক্রেতা। নবদ্বীপে দোলের ঠিক আগে এই নিয়ে নিত্য অশান্তি।
তবে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়ে গিয়েছে নবদ্বীপ ফেরিঘাট। তাদের কাছে তিন লক্ষ টাকার কয়েন জমে আছে। তার মধ্যে দু’টাকা-পাঁচ টাকাও আছে। কিন্তু নৌকার পারানি এক টাকা হওয়ায় এক টাকারই কয়েনই সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। ইতিমধ্যে খুচরোর ভারে তাদের অফিস ঘরের আলমারি ভেঙে পড়েছে। শুধু খুচরো রাখার জন্যই তৈরি করাতে হয়েছে কাঠের সিন্দুক।
বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপ ও মায়াপুরের মধ্যে ভাগীরথী। নবদ্বীপ, মায়াপুর ও স্বরূপগঞ্জ ঘাট দিয়ে লাখো মানুষ পারাপার করেন দোলের মরসুমে। ইতিমধ্যে নানা মঠ-মন্দিরের পরিক্রমা শুরু হয়ে গিয়েছে। রোজ রাশি রাশি খুচরো জড়ো হচ্ছে ফেরিঘাটের টিকিট কাউণ্টারগুলিতে।
নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সভাপতি গোপাল দাস বলেন, “দোলের দশ দিন বাকি। তাতেই গড়ে তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হাজার টাকার খুচরো রোজ পড়ছে। অন্যেরা ‘নেব না’ বললেও আমরা তা বলতে পারছি না।” কোষাধ্যক্ষ গোপাল বিশ্বাস জানান, পাঁচ হাজার টাকার এক-একটি খুচরো বোঝাই প্যাকেটের ওজন প্রায় চোদ্দো কেজি। তাঁজদের ১৬০ জন কর্মীর প্রত্যেককে এ মাসের বেতন দেওয়ার সময়ে চার হাজার টাকার খুচরো দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু তাঁরাই বা অত খুচরো নিয়ে কী করেন? ফেরিঘাটের কর্মী রাজু শেখ, গৌরাঙ্গ ভজনেরা বলেন, ‘‘কী যে মুশকিলে পড়েছি! আমরাই বা কী করে বাজারে চালাব?’’ কোথায় এই গুজবের উৎপত্তি, কেউ জানে না। নবদ্বীপ তাঁতকাপড় হাট লাগোয়া রাসায়নিকের দোকানি জগন্নাথ সাহা ঠোঁট উল্টে বলেন, ‘‘মহাজন নিচ্ছে না, তাই আমিও নিচ্ছি না।’’
কর্তারা কী করছেন?
নবদ্বীপ ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নিরঞ্জন দাস বলেন, “এতে দোলের সময় ব্যবসার ক্ষতি হবে। আমরা মাইকে প্রচার শুরু করছি।” পুরপ্রধান বিমানকৃষ্ণ সাহার আশ্বাস, ‘‘কেই যাতে এক টাকার কয়েন নিতে আপত্তি না করেন, তার জন্য শনিবার থেকেই মাইকে প্রচার চলবে।’’