‘এক নেতা, এক পদ’ তৃণমূলে কি এমন নীতি চালু হতে চলেছে— সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মুর্শিদাবাদের আনাচ কানাচে। রাজ্য জুড়ে এই নীতি চালু হতে পারে বলে তৃণমূলের অন্দরে জল্পনা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া দলীয় নেতৃত্ব রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী শনিবার কলকাতায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রী, দলীয় সাংসদ, বিধায়ক, পুরসভার চেয়ারম্যান, পুর প্রশাসকদের বৈঠকে ডেকেছেন। সেই বৈঠকে দলীয় নেতৃত্বের রদবদলের পাশাপাশি এক নেতা, এক পদ নীতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এক নেতা, এক পদ নীতি চালু হলে জেলায় কার পদ থাকতে পারে, কার পদ যেতে পারে তা নিয়েও দলের অন্দরমহলে জল্পনা চলছে।
তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে ভাল ফল করেছে তৃণমূল। ২০ টি আসনের মধ্যে ১৮ টি তৃণমূলের ঝুলিতে এসেছে। ফলে রাজ্য নেতৃত্ব জেলা নেতৃত্ব বদলের পথে নাও যেতে পারে।
অন্যদিকে আগামী ১৬ জুন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারি সভাধিপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে শনিবারের বৈঠকে জেলা পরিষদের সভাধিপতি বা সহকারি সভাধিপতি পদ নিয়ে দল কোনও নির্দেশ দেয় কিনা সেদিকেও তাকিয়ে আছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।
তবে জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা
মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, ‘‘এক নেতা, এক পদ নীতি চালু হবে কি না তা রাজ্য নেতৃত্ব বলতে পারবেন। এবিষয়ে আমরা কিছু জানি না। আগামী শনিবারের বৈঠকে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে তাও জানি না।’’
রাজ্যের অন্য জেলার মতো মুর্শিদাবাদেও এক নেতা, একাধিক পদে রয়েছেন। যেমন দলের জেলা সভাপতি আবু তাহের খান মুর্শিদাবাদের সাংসদ আছেন, দলের চেয়ারম্যান সুব্রত সাহা রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছেন, জেলা মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী শাহনাজ বেগম জেলা পরিষদের কৃষি দফতরের কর্মাধ্যক্ষ রয়েছেন, দলের কো-অর্ডিনেটর সৌমিক হোসেন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, অপর কো-অর্ডিনেটর খলিলুর রহমান জঙ্গিপুরের সাংসদ, দলের জেলার মুখপাত্র অপূর্ব সরকার আবার কান্দির বিধায়ক এবং কান্দি পুরসভার প্রশাসকের পদ সামলাচ্ছেন। জেলা ও ব্লক স্তরে দলের এরকম এক নেতা, একাধিক পদ সামলাচ্ছেন।
সূত্রের খবর, দলে ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি চালুর জল্পনা শুরু হতেই অনেকেই চিন্তায় পড়েছেন। তাঁদের পদ থাকবে, না অন্য কারও হাতের চলে যাবে সেই চিন্তায় অনেক নেতার ঘুম উড়েছে।
তবে দলের জেলার এক নেতা বলেন, ‘‘আমাদের দল কলেবরে বেড়েছে। অনেক নেতৃত্ব উঠে এসেছেন। তাই সবাইকে জায়গা দিতে এক ব্যক্তি, এক পদ নীতি চালু হওয়া জরুরি। তবে সেই নীতি দীর্ঘদিন থেকে লাগু হবে শুনে আসছি, কিন্তু আজও তা চালু হয়নি।’’
অপর এক নেতা জানান, এক ব্যক্তি, এক পদ নীতি চালু করতে হলে রাজ্যস্তরেও অনেক নেতা-নেত্রীকে পদ ছাড়তে হবে। তাই সেটা বাস্তবে কতটা সম্ভব তা সময়ই বলবে।