Advertisement
E-Paper

জেলাতেও প্রাণ কাড়ল ভাইরাস

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধের বাড়ি চাকদহ ব্লকের হিংনারা গ্রাম পঞ্চায়েতের দরাপপুর বাজারের কাছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২০ ০৫:৩৫
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

গোটা রাজ্যেই যেখানে সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী, নদিয়ায় প্রথম প্রাণ নিল করোনা।

চাকদহের বছর পঁচাত্তরের ওই বৃদ্ধ গত শনিবার জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে কল্যাণী জেএনএম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। শনিবার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজ়িটিভ আসার পরে তাঁকে কোভিড হাসপাতাল এসএনআর কার্নিভালে স্থানান্তরিত করা হয়। মঙ্গলবার সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধের বাড়ি চাকদহ ব্লকের হিংনারা গ্রাম পঞ্চায়েতের দরাপপুর বাজারের কাছে। কল্যাণীর এসএনআর কার্নিভালের ইনচার্জ অয়ন ঘোষ জানান, ওই বৃদ্ধ বহুদিন ধরেই ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন। বয়সজনিত কারণে আরও নানা শারীরিক সমস্যাও ছিল তাঁর। ফলে তাঁকে বাঁচানো যায়নি। হাসপাতালের তরফে তাঁর পরিবারের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের লোকজন জানান, তাঁরা দেহের আশপাশেই থাকবেন না। ফলে প্রশাসন নিজের দায়িত্বে কল্যাণীর বাইরে এক জায়গায় দেহ দাহ করেছে।

এসএনআর কার্নিভাল হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে সেখানে ভর্তি হয়েছেন ১৮০ জন। তার মধ্যে ১০২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ১০০ শয্যার ওই হাসপাতালে ছয় শয্যার আইসিইউ ওয়ার্ড রয়েছে। সেখানে ভেন্টিলেটরের সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়াও বাড়তি ভেন্টিলেটর এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের সিলিন্ডারও আছে।

বৃদ্ধের চাকদহের বাড়িতে তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে, বৌমা এবং দুই নাতি-নাতনি বর্তমান। তাঁদের আপাতত বাড়িতেই নিভৃতবাসে থাকতে বলা হয়েছে। বৃদ্ধের বড় ছেলে বলেন, “বাবার মৃত্যুর খবর আমরা পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি। কিন্তু ভয়ে মৃতদেহ আনতে যেতে পারিনি।“ বৃদ্ধ কী করে কোভিড ১৯ আক্রান্ত হলেন? ছেলে বলেন, “তা বুঝতে পারছি না। বাবা শুধু মাত্র বাড়ির কাছে বাজারে যেতেন। এর বাইরে কোথাও যেতেন না।“ তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক থাকলেও পাড়া-পড়শি কেউ তাঁদের সঙ্গে দু্রব্যবহার করেননি। বাড়িতে থাকতে তাঁদের কোনও সমস্যা হচ্ছে না।

হিংনারা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মাধবী বিশ্বাস বলেন, “শনিবার রাতেই আমরা জানতে পারি, ওই বৃদ্ধ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার পরেই অঞ্চলের সকলের সঙ্গে আলোচনা করে পঞ্চায়েত এলাকায় সকলকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। কোন সমস্যা হলে আমাদের জানাতে বলেছি।“ তিনি জানান, অঞ্চলের মানুষ খুব সহযোগিতা করছেন। জরুরি কিছু দোকান ছাড়া অন্য সব দোকান বন্ধ রাখাতে বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও সহযোগিতা করছেন।

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy