Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জের

স্ত্রী, তিন শিশুকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে ধৃত

ঘরের মেঝের এক দিকে পড়ে রয়েছে বধূর অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ। হাত কয়েক দূরে একই রকম পড়ে তাঁর তিন শিশুকন্যার দেহও। ঘরের আসবাবপত্রে পোড়া দাগ। রবিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা
কান্দি ০১ জুন ২০১৫ ০২:০৩
কান্দিতে এই ঘর থেকে মেলে ৪ জনের দেহ

কান্দিতে এই ঘর থেকে মেলে ৪ জনের দেহ

ঘরের মেঝের এক দিকে পড়ে রয়েছে বধূর অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ। হাত কয়েক দূরে একই রকম পড়ে তাঁর তিন শিশুকন্যার দেহও। ঘরের আসবাবপত্রে পোড়া দাগ।
রবিবার সকালে কান্দির ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মাফুজা বিবি নামে ওই বধূ (২৪) এবং তাঁর তিন মেয়ে আমেনা (৫), মার্সিদা (৩) এবং সাত মাসের তুহিনার দেহ এ ভাবে পড়ে থাকার কথা জানাজানি হওয়ায় শোরগোল পড়ে। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী ও তিন শিশুকন্যাকে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগে মাফুজার স্বামী উস্তাব আলি শেখকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, জেরায় উস্তাব নিজের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক এবং তার স্ত্রী-মেয়েদের খুনের কথা কবুল করেছে। তবে, শ্বাসরোধ করে খুনের পরেই ওই চার জনকে উস্তাব পুড়িয়ে মারে বলে মনে করছেন জেলা পুলিশের কর্তারা। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সি সুধাকর জানান, উস্তাবের শ্বশুরের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দেহগুলি ময়না-তদন্তে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর সাতেক আগে বেলডাঙার মহ্যমপুরের বাসিন্দা মাফুজার সঙ্গে দিনমজুর উস্তাবের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে নানা অজুহাতে মাফুজাকে মারধর করা হত বলে অভিযোগ। পড়শিদের অনেকেও সে কথা মানছেন। বিয়ের দু’বছরের মাথায় আমেনার জন্মের পরে উস্তাব বাড়তি রোজগারের আশায় পশ্চিম এশিয়ায় চলে যায়। উস্তাবের মা-ভাইও সেখানে থাকে। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েক বার কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরে উস্তাব। কিন্তু মাফুজাকে সংসার চালানোর খরচ সে দিত না বলে অভিযোগ। মাফুজা মেয়েদের নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকছিলেন। কিছু দিন আগে উস্তাব ফেরে। মাফুজাও মেয়েদের নিয়ে ভবানীপুরে ফেরেন।

এ দিন সকালে মাফুজাদের সাড়াশব্দ না পেয়ে এলিনা বিবি নামে এক পড়শি তাঁদের বাড়িতে যান। এর পরেই ঘটনাটি জানাজানি হয়। মাফুজার বাবা গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, ‘‘পাঁচ বছর ধরে এলাকারই এক যুবতীর সঙ্গে উস্তাবের সম্পর্ক রয়েছে। রোজগারের টাকায় মদ খেয়ে বাকি টাকা ওকেই দিত। সংসারে মন ছিল না। ওই সম্পর্কের জন্যেই পরিকল্পিত ভাবে তিন নাতনি ও মেয়েকে খুন করেছে উস্তাব।’’

Advertisement

একই পরিবারের চার জনের এ ভাবে খুন হওয়া মানতে পারছেন না গ্রামবাসীরা। এলিনা জানান, মাফুজাদের ঘরের কাছে যেতেই তিনি কটূ গন্ধ পান। উঁকি দিতেই দেহগুলি পড়ে থাকতে দেখেন। তখনও বুঝতে পারেননি চার জনই মারা গিয়েছেন। শেখ আলি আহমেদ নামে আর এক গ্রামবাসী বলেন, ‘‘দম্পতির প্রায়ই অশান্তি হত। সে তো সব সংসারেই হয়! উস্তাব মেয়েদের ভালবাসত বলেও জানি। কী করে এ সব করল ভাবতে পারছি না।’’

আরও পড়ুন

Advertisement