মায়ানমারে কখনওই সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা করা হয়নি। শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জ পরিচালিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস বা আইসিজে)-তে এই দাবি করল সে দেশের সামরিক জুন্টার সরকার।
২০১৭ সাল থেকে বেশ কয়েক দফায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ানমার সেনার বিরুদ্ধে। সে সময় মায়ানমারের গণতন্ত্রকামী নেত্রী আউং সান সু চি-র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি ক্ষমতায় ছিল। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর সু চি-সহ মায়ানমারের অধিকাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি গৃহবন্দি হন। অনেকে দেশ ছেড়ে পালান। জুন্টা জমানাতেও রোহিঙ্গারা ধারাবাহিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ। কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলিতে রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার করা অভিযোগের ভিত্তিতে মায়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে আইসিজে-তে শুনানি শুরু হয়েছে। সেখানে জুন্টা প্রধান জেনারেল মিন আং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের দাবি, রাখাইন প্রদেশ (এই প্রদেশেই অধিকাংশ রোহিঙ্গার বাস) রোহিঙ্গা বা অন্য কোনও জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান হয়নি। অভিযান হয়েছে, সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে। মায়ানমারের মন্ত্রী কো কো হ্লাইং স্বয়ং নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে আইসিজে শুনানিতে হাজির হয়ে বলেন, ‘‘আমাদের প্রত্যাশা এই মামলার রায় প্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতেই হবে, ভিত্তিহীন অভিযোগের উপর নয়। আবেগপ্রবণ ভাষা ও অস্পষ্ট কাল্পনিক চিত্র কখনওই সঠিক তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের বিকল্প হতে পারে না।’’
মায়ানমার সরকার চুপচাপ বসে থাকলে রাখাইন প্রদেশ সে সময় ‘সন্ত্রাসবাদের মুক্তাঞ্চল’ হয়ে যেত বলেও দাবি করেন তিনি। জুন্টা সরকারের দাবি, সে সময় একাধিক হামলায় এক ডজনের বেশি সেনা নিহত হওয়ার পরে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের নির্মূল করতে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। এর আগে শুনানির শুরুতে আবেদনকারী দেশ শুনানিপর্বের শুরুতে আবেদনকারী গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জালো আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বলেন, ‘‘মায়ানমারের সেনাবাহিনী পরিকল্পিত ভাবে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের নির্মূল করার কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।’’ আইসিজে আগেই আগেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ষা করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মায়ানমার সেনা-জুন্টার সরকারকে। কিন্তু তা-ও পালিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।