Advertisement
E-Paper

শিশু শ্রমিক উদ্ধারে গিয়ে প্রহৃত কর্তারা

বিড়ি কারখানায় বেশ কিছু শিশু শ্রমিক কাজ করছে, এই খবর পেয়ে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে গিয়ে প্রহৃত হলেন মুর্শিদাবাদ শ্রম দফতরের কর্তারা। উত্তেজিত গ্রামবাসীর মারের হাত থেকে রেহাই পায়নি পুলিশও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০১৫ ০২:৪৩

বিড়ি কারখানায় বেশ কিছু শিশু শ্রমিক কাজ করছে, এই খবর পেয়ে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে গিয়ে প্রহৃত হলেন মুর্শিদাবাদ শ্রম দফতরের কর্তারা। উত্তেজিত গ্রামবাসীর মারের হাত থেকে রেহাই পায়নি পুলিশও।

বুধবার দুপুরে বেলডাঙার কাপাসডাঙায় শ্রম দফতরের কর্তারা গোপন অভিযানে গিয়ে দেখেন, জনা কুড়ি শ্রমিকের সঙ্গে অন্তত পাঁচ জন শিশু শ্রমিক বিড়ি বাঁধার কাজ করছে। তা দেখে, শুরু হয় একের পর এক প্রশ্ন। দফতরের ডেপুটি কমিশনার (বহরমপুর) চন্দন দাশগুপ্ত নিজে কারখানায় ঢুকে জানতে চান, শিশুরা কেন কাজ করছে? এরা কি পড়াশোনা করে না? — কাগজ বের করে লেখালিখিও শুরু করে দেন তাঁর জনা কয়েক সহকারী। কর্মরত ছেলেরা শিশু শ্রমিক নিশ্চিত হয়ে তাদের গাড়িতে তুলতে শুরু করেন উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা। বিপত্তি সেখানেই।

‘বাইরের লোক পুলিশ নিয়ে এসে তোমাদের ছেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে গো...’— এই বলে চিৎকার শুরু করেন বিড়ি কারখানার মালিক আজমাইল শেখ। তা শুনে মুহূর্তে বহু লোক জড়ো হয়ে যান। চার পুলিশ-সহ জনা বারো কর্মীর উপরে বাঁশ, রড নিয়ে চড়াও হন তাঁরা। রেয়াত করেননি শ্রম দফতরের ডেপুটি কমিশনারকেও। দফতরের দু’টি গাড়ির কাচ গুড়িয়ে দেওয়া হয়। তিন কর্মীকে কিল, চড়, ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগ। জামা, গেঞ্জিও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি দেখে শিশুদের ফেলে পালিয়ে বাঁচেন তাঁরা। পরে প্রহৃতদের প্রাথমিক চিকিৎসা হয়।

গোটা ঘটনায় আজমাইল ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মীকে মারধর, গাড়ি ভাঙচুর-সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছে শ্রম দফতর। তবে বুধবার রাত পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সি সুধাকর জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দফতরের ডেপুটি কমিশনার চন্দন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘শিশুশ্রম দণ্ডনীয় অপরাধ। এমনটা রুখতে আমাদের নানা এলাকায় তল্লাশিতে যেতে হয়। তবে, এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি!’’ তাঁর দাবি, কারখানায় অন্তত পাঁচ শিশু শ্রমিককে কাজ করতে দেখেছেন।

এ দিন বিকেলে এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, তখনও উত্তেজনা রয়েছে। কারখানার সামনে বহু লোকের ভিড়। নিজেকে আজমাইলের পরিবারের সদস্য বলে দাবি করে এগিয়ে আসেন বিল্লাল শেখ নামে এক যুবক। তাঁর দাবি, ‘‘কারখানায় কোনও শিশু শ্রমিক কাজ করে না।’’ তা হলে শ্রম দফতরের লোকজন এসে কাদের দেখলেন? আমতা আমতা করে ওই যুবকের সাফাই, ‘‘ওরা কারখানায় কাজ করে না। দুপুরের খাবার নিয়ে এসেছিল।’’ সকলে এক সঙ্গে? জবাব না দিয়ে ভিড়ে মিশে যান তিনি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy