মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় অভিযুক্তদের জামিন বাতিলের আর্জি জানাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এই আর্জি জানিয়ে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। এনআইএ-র তরফে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
আদালতে এনআইএ-র বক্তব্য, বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হবে কি না, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্ত করে দেখছে তারা। অথচ সেই তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই নিম্ন আদালত হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত ১৫ জনকে জামিন দিয়ে দিয়েছে। সেই কারণে ওই ১৫ জনের জামিন খারিজের আর্জি জানায় এনআইএ। আগামী মঙ্গলবার মামলাটি শুনবে হাই কোর্ট। বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এনআইএ উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারলে অভিযুক্তদের জামিন বাতিল করা হবে।
বেলডাঙার হিংসার ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। সেই মামলায় রাজ্যের উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায় তবে এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে। একই সঙ্গে রাজ্যকে বলেছিল, প্রয়োজনে কেন্দ্রের থেকে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইতে পারে তারা। হাই কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যায় রাজ্য।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে রাজ্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে বলে, ‘‘প্রায় এক মাস আগে এনআইএ-কে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। তারা এফআইআর দায়ের করেছে। তবে ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা উচিত কি না, সে বিষয়ে আমরা এখনই কোনও মতামত দিচ্ছি না।’’ শীর্ষ আদালত জানায়, আপাতত হাই কোর্টে মুখবন্ধ খামে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে তদন্তকারী সংস্থাকে। সেই রিপোর্টে জানাতে হবে, প্রাথমিক ভাবে ইউএপিএ প্রয়োগের মতো উপাদান রয়েছে কি না! সেই রিপোর্ট এখনও জমা দেয়নি এনআইএ।
ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জানুয়ারি মাসে অশান্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। ভাঙচুর, রেল অবরোধ, জাতীয় সড়কে বিক্ষোভ, সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। ঘটনার পর পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অশান্তির ঘটনায় যুক্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হয়। তবে হাই কোর্টের নির্দেশের পর এই মামলার তদন্তভার যায় এনআইএ-র হাতে। এনআইএ-র তরফে অভিযোগ করা হয় যে, রাজ্য পুলিশ তাদের হাতে মামলার নথি তুলে দিচ্ছে না। রাজ্যের তরফে পাল্টা জানানো হয়, বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় পুলিশই পদক্ষেপ করেছে।