Advertisement
E-Paper

পাত্রের বাবা পজ়িটিভ, মানিকচকে বাতিল হল বৌভাত

বাসিন্দারা জানান, পাত্রের বাড়ি খয়রাবাদেই। আর পাত্রী থাকতেন ইংরেজবাজার ব্লকের খাসখোলে। পাত্রের বাবা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের মথুরাপুর শাখার অস্থায়ী কর্মী।

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২০ ০১:৪৯
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আইনি বিয়ে আগেই হয়েছিল। রবিবার সন্ধ্যায় ছিল আনুষ্ঠানিক বিয়ে। আর সোমবার বৌভাত। কিন্তু শনিবার রাতে স্বাস্থ্য দফতর মারফত খবর পৌঁছয় যে পাত্রের বাবা করোনা আক্রান্ত। ফলে সামাজিক মতে বিয়ে কার্যত ভেস্তে যাওয়ার জোগাড় হয়। শেষ পর্যন্ত দুই পরিবারের সিদ্ধান্তে পাত্রীকে পাত্রের বাড়িতে নিয়ে এসে রবিবার সকাল ছ’টায় সম্পন্ন হল বিয়ে ও সিঁদুরদান পর্ব। বাড়িতেই মাস্ক পরে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনেকটা দূর থেকে ছেলের বিয়ে দেখলেন ‘আক্রান্ত’ বাবা। সিঁদুরদান শেষে দূর থেকেই তাঁর আশীর্বাদ নিলেন নব দম্পতি। সকাল সাতটার মধ্যেই বিয়ে শেষে নববধূকে নিয়ে পাত্রপক্ষ গৃহ নিভৃতবাসে গেলেন। আর আক্রান্তকে নিয়ে যাওয়া হল সেফ হোমে। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে মালদহের মানিকচক ব্লকের মথুরাপুরের খয়রাবাদে। পাত্রপক্ষ জানায়, বাতিল হয়েছে সোমবারের বৌভাতের অনুষ্ঠান।

বাসিন্দারা জানান, পাত্রের বাড়ি খয়রাবাদেই। আর পাত্রী থাকতেন ইংরেজবাজার ব্লকের খাসখোলে। পাত্রের বাবা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের মথুরাপুর শাখার অস্থায়ী কর্মী। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে ওই ব্যাঙ্কের ম্যানেজার করোনা আক্রান্ত হন। তারপরেই, ওই ব্যাঙ্কের সমস্ত কর্মীদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। শনিবার রাতে মালদহ জেলায় যে ৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ওই ব্যাঙ্কের দুই কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন পাত্রের বাবা। পাত্র জানান, বাবার সংক্রমিত হওয়ার খবরটি শনিবার রাতে জানার পরই পাত্রীপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। তারপরই এ দিন সকালে থেকে সামাজিক মতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক হেমনারায়ণ ঝা বলেন, ‘‘পাত্রের বাবাকে এ দিনই মথুরাপুরেই থাকা মডেল স্কুলের সেফ হোমে ভর্তি করা হয়েছে।’’

এ দিনই মালদহে করোনা আক্রান্ত আরও এক রোগীর মৃত্যু হল। ফলে জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হল ১১। স্বাস্থ্য দফতর জানায়, ইংরেজবাজার শহরের বাঁধ রোডের ৬১ বছরের ওই বাসিন্দা এ দিন বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ জেলা কোভিড হাসপাতালে মারা যান। তারা জানায়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন, পাশাপাশি শ্বাসকষ্টের সমস্যাও ছিল। এ ছাড়া জেলায় এ দিন নতুন করে ৩৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাঁদের মধ্যে ১০ জনেরই বাড়ি ইংরেজবাজার শহরে। সব মিলিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ২০২০ জন। সুস্থ হয়ে মোট বাড়ি ফিরেছেন ৮৫০ জন।

Coronavirus Health COVID-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy