মাঝেমধ্যেই কেমন যেন চুপচাপ হয়ে পড়ছে। চারদিকে ঘুরে উঁকিঝুঁকিও দিচ্ছে। জলদাপাড়ায় সদ্য মা-হারা একরত্তি গন্ডার শাবকটির দিন কাটছে এমন ভাবেই।
এই ভাবে বাচ্চাটিকে দেখে কষ্ট হচ্ছে বলে বনকর্মীদের অনেকেই এ দিন জানান। তবে শাবকটিকে একটু ছুঁয়ে আদর করার সুযোগ নেই তাঁদের। দূর থেকেই দেখতে হচ্ছে। যিনি বোতলে দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাঁকেও শাবকটিকে স্পর্শ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বন দফতর জানিয়েছে, মানুষের স্পর্শ পেলে বন্যপ্রাণীদের জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশে ফেরানো মুশকিল। বন্যপ্রাণীদের সংসারে শাবকটিকে ফেরানোর কথা মাথায় রেখেই তাই ওই বাড়তি সতর্কতা।
কোচবিহার বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও কুমার বিমল বলেন, “মা হারানো শাবকটির যত্নে যাতে কোনও খামতি না রয়ে যায়, তা বিশেষ ভাবে দেখা হচ্ছে। আমরা চাইছি ওই শাবকটি ফের জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরুক। তাই বনকর্মীদের কেউ যাতে সেটিকে স্পর্শ না করেন তাও বলা হয়েছে।”
মঙ্গলবার জলদাপাড়া লাগোয়া শিধাবাড়ি এলাকায় ওই মা গন্ডার ও শাবকটি দেখতে পান গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরা গিয়ে শাবকটিকে উদ্ধার করেন। পরে ক্রেন দিয়ে মা-কে উদ্ধার করা হয়। পরে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হলে মা গন্ডারটির মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই শাবকের দেখভালের পুরো দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বনকর্মীরা। জলদাপাড়ার মালঙ্গি বিটে বিশেষ ঘেরাটোপের ব্যবস্থা করে এই শাবকটিকে রাখা হয়েছে। পশু চিকিৎসকেরা সেটির স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই বাজার থেকে কেনা প্যাকেটজাত দুধ বোতলে ভরে শাবকটিকে খাওয়ানো হচ্ছে।
ডিএফও কুমার বিমল এ দিন বলেন, “সারাদিনে বেশ কয়েকবার বাইরে থেকে আনা দুধ খাচ্ছে ওই শাবকটি। তবে সবসময় তার প্রতি সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। তবে মাঝেমধ্যে একটু আনমনা হয়ে পড়ছে, এই যা।” ডিএফও আরও জানিয়েছেন, গন্ডার শাবকটির বয়স দু থেকে আড়াই মাসের মধ্যে। সেই মতোই সব ব্যবস্থা হয়েছে।