Advertisement
E-Paper

সোনা জিতেও অভাব মেটেনি ওদের সংসারে

রাজ্য খো খো’তে সোনা জিতে বুধবার শহরে ফিরেলেন শিলিগুড়ির সালমা মাঝি, জ্যোতি বিশ্বকর্মা, মাম্পি সরকার, অঞ্জলি মুণ্ডারা। রুপো জিতেছে মনোজ সরকার, অনুকূল সরকার, রনি সাহাদের ছেলেদের দলটি। শিলিগুড়ি মহকুমার এই খো খো খেলোয়াড়দের অধিকাংশেরই পারিবারিক অবস্থা ভাল নয়। অভাবের সঙ্গে লড়াই করে খেলতে হচ্ছে তাদের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:০২
সোনাজয়ী খোখো দল। — নিজস্ব চিত্র

সোনাজয়ী খোখো দল। — নিজস্ব চিত্র

রাজ্য খো খো’তে সোনা জিতে বুধবার শহরে ফিরেলেন শিলিগুড়ির সালমা মাঝি, জ্যোতি বিশ্বকর্মা, মাম্পি সরকার, অঞ্জলি মুণ্ডারা। রুপো জিতেছে মনোজ সরকার, অনুকূল সরকার, রনি সাহাদের ছেলেদের দলটি। শিলিগুড়ি মহকুমার এই খো খো খেলোয়াড়দের অধিকাংশেরই পারিবারিক অবস্থা ভাল নয়। অভাবের সঙ্গে লড়াই করে খেলতে হচ্ছে তাদের। জোটে না পুষ্টিকর খাবার। এই পরিস্থিতির মধ্যে থেকেই লড়াই করে জাতীয় স্তরে খেলছেন অনেকে। জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন কেউ।

শালুগাড়ার সিংহিঝোড়ার বাসিন্দা সালমার সালমার বাবা দুমরা মাঝি, মা ইমনিয়া দেবী দু’জনেই শ্রমিকের কাজ করেন। এ বছরের সাফ গেমসে সোনা জয়ী ভারতীয় খো খো দলের অন্যতম সদস্য সালমা। ওই দলের ১৫ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৩ জনকে চাকরি দিয়েছেন এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া। তবে প্রাপ্ত বয়স্ক না-হওয়ায় সালমা এবং আরেক জনের ভাগ্য শিকে ছেড়েনি।

একই পরিস্থিতি জ্যোতি, অঞ্জলিদেরও। জ্যোতির বাবা সাফারি পার্কে নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করেন। অঞ্জলির মা মারা গিয়েছেন। বাবা কৃষক। বাড়ির কথা ভাবলেই মুখ ভার হয়ে আসে অঞ্জলির। মাম্পির বাবা নেই। মা লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান।

মনোজ, অনুকূলদের মতো খেলোয়ড়দেরও অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। মনোজের বাবা গ্যারাজে কাজ করেন। অনুকূলের বাবা মুদির দোকান চালান। দোকান ভাল চলে না। মনোজ এশিয়ান খো খো চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন। জাতীয় খো খো’তে অংশ নিয়েছেন চার বার। অনুকূলও সিনিয়র জাতীয় খো খো’তে অংশ নিয়েছেন একাধিকবার।

এ দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে শিলিগুড়ি মহকুমা খো খো অ্যাসোসিয়েশনের তরফে সংবর্ধনা জানানো হয় তাঁদের। তুলে দেওয়া হয় স্মারক উপহার ‘টি শার্ট’। অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ভাস্কর দত্ত মজুমদার বলেন, ‘‘সকলকে সাহায্য করা আমাদের পক্ষেও সম্ভব হয় না। খুবই গরিব পরিবারের খেলোয়াড়দের পড়াশোনার জন্য বই, পরীক্ষার খরচ দেওয়া হয়। রাজ্য সরকার সাহায্যের জন্য এগিয়ে এলে এরা উপকৃত হবে।’’

সংগঠনের সভাপতি নান্টু পাল জানান, খো খো-কে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁরা উদ্যোগী। স্কুলগুলিতে যাতে খো খো বাধ্যতামূলক করা হয় তা দেখতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘রেলমন্ত্রী থাকার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খো খো খেলোয়াড়দের চাকরির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলেছিলেন। আমরা সে ব্যাপারে রেলকে জানাব।’’

Kho Kho Players
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy