মালদহের মানিকচকে গুলি চলার অভিযোগ উঠেছে। গুলি লেগে প্রাণ গিয়েছে ১০ বছরের বালকের। সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত নাবালকের বাবা সমীর দাশগুপ্তকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
বুধবার রাতে মালদহের মানিকচকে মথুরাপুর কাহাড়পাড়া এলাকায় গুলি চালানোর অভিযোগ উঠে। গুলিবিদ্ধ হয় ১০ বছরের বালক-সহ তিন জন। অভিযোগের আঙুল ওঠে এক নাবালকের দিকে। অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর করেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁর বাবা সমীরকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় মানিকচক থানার পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির কাছে রজক পাড়ার কয়েক জন তরুণের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে ওই নাবালক। অভিযোগ, সে মত্ত ছিল। কয়েক জনকে মারধর করে। এরপর সেখান থেকে বাইক নিয়ে চম্পট দেয় সে। তাকে ধাওয়া করে তার বাড়ি পর্যন্ত যায় সেই তরুণ ও তাঁর পরিবারের লোকজন। অভিযুক্তের বাড়ির সামনে আবার শুরু হয় বচসা। বচসার সময় সমীরের বন্দুক থেকে তাঁদের লক্ষ্য করে নাবালক গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ। বন্দুকটির লাইসেন্স রয়েছে। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। সেই গুলিতে আহত হয় ১০ বছরের সমর রজক, ৪৫ বছরের ঘিশু রজক এবং ৫০ বছরের অরুণ মণ্ডল। স্থানীয়েরা আহত তিন জনকেই চিকিৎসার জন্য মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন:
ঘটনার পরই অভিযুক্ত পলাতক। লোকজন অভিযুক্তের বাবা সমীরের উপর চড়াও হন। পুলিশের তৎপরতায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ১০ বছরের সমরের মৃত্যু হয়। তার পরেই অভিযুক্তের বাড়ি ঘিরে রাখেন স্থানীয়দের একাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। মালদহের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দু’টি মামলা রুজু হয়েছে। তিন জন গ্রেফতার হয়েছে। অস্ত্রও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বাইক চালানোকে কেন্দ্র করে বচসার জেরে এই ঘটনা হয়েছে বলে শোনা গিয়েছে।