Advertisement
E-Paper

আপাতত বন্ধ কাজ

গত সপ্তাহে শিলিগুড়ির স্টেট গেস্ট হাউসে জেলা টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, শিলিগুড়িতে দু’টি সেফ হাউজ় করা হবে। শিলিগুড়ি এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকা মিলিয়ে নতুন দু’টি সেফ হাউজ়ে ২৫০ শয্যা থাকবে।

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২০ ০২:১৫
ফাইল চিত্র

ফাইল চিত্র

দিন দিন শিলিগুড়ি শহরে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সম্প্রতি প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে করোনা লড়াইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সেফ হাউজকে। কিন্তু সেই শিলিগুড়িতেই সেফ হাউজ় তৈরি নিয়ে চাপানউতোর চলছে দুই রাজনৈতিক দলে। সম্প্রতি শিলিগুড়ির ইন্ডোর স্টেডিয়ামে করোনা রোগীদের সেফ হাউজ তৈরি নিয়ে এলাকাবাসীদের বিরোধ চরমে ওঠে। তা নিয়ে রবিবার সকালে মন্ত্রী গৌতম দেব শিলিগুড়ি পুর প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারপার্সন ও বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্যের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। আপাতত সেখানে দু’দিন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। গৌতম-অশোকের আলোচনায় ঠিক হয়েছে, আগামী দু’দিনের মধ্যে সবাইকে নিয়ে বৈঠক করবে পুরসভার আধিকারিকেরা। সেখানে এলাকার ওয়ার্ড কমিটি, কো-অর্ডিনেটর, প্রশাসনের আধিকারিকরা থাকবেন। ততক্ষণ ইন্ডোর স্টে়ডিয়ামের ১০০ জনের সেফ হাউজ় তৈরির পরিকাঠমো তৈরির কাজ বন্ধ থাকছে।

গত সপ্তাহে শিলিগুড়ির স্টেট গেস্ট হাউসে জেলা টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, শিলিগুড়িতে দু’টি সেফ হাউজ় করা হবে। শিলিগুড়ি এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকা মিলিয়ে নতুন দু’টি সেফ হাউজ়ে ২৫০ শয্যা থাকবে। বর্তমানে মহকুমার নকশালবাড়ি এবং খড়িবাড়িতে দু’টি সেফ হাউজ় রয়েছে। এরে পরে প্রশাসনের তরফে ইন্ডোর স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যেতেই এলাকার লোকজন নানা প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশকে এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে নামতে হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, এলাকা সিপিএম কো-অর্ডিনেটর, বামনেত্রীরা বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। বিক্ষোভে একজন পুরকর্মীও ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। মন্ত্রী গৌতম জানান, ‘‘টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে প্রশাসক বোর্ডের সদস্যও ছিলেন। তারপরেও বিক্ষোভ হল। প্রধাননগর একটি নার্সিংহোমকে করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র করার সময়েও প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল কিছু বাম নেতাকে। এগুলি দুর্ভাগ্যজনক।’’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘অশোকবাবুর সঙ্গে কথা বলেছি। পুরসভার বৈঠক হবে। উনি বলেছেন তাই দু’দিন সেফ হাউজ়ের কাজ বন্ধ থাকল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভাল নইলে আমরাও জানি রাস্তায় নেমে কী করে কাজ করাতে হয়।’’ তৃণমূলের নেতাদের দাবি, বামেরা পরিকাঠামো নিয়ে নানা কথা বলছেন। আর ওঁরাই কাজে বাধা দিচ্ছেন। প্রধাননগরে নার্সিংহোমগুলি নিয়ে সমস্যা তৈরি করা হল। অথচ করোনা আক্রান্ত বাম নেতাদের অনেকের চিকিৎসা প্রধাননগরের নার্সিংহোমেই হচ্ছে বলে অভিযোগ।

যদিও প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারপার্সন অশোকের দাবি, ঠিকমতো আলোচনা না করে কাজে নামায় সমস্যা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন নার্সিংহোমে করোনা চিকিৎসা নিয়ে প্রতিবাদ হওয়ার পরে স্থানীয় কো-অর্ডিনেটরকে আগাম ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সেফ হাউজ়ের বিষয়টি জানাতে হতো। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে আগাম আলোচনা করে পরিস্থিতি অনুকূল রাখতেন। তা করা হয়নি। করোনা নিয়ে মানুষ আতঙ্কে, এর জন্য সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন।

অশোক বলেন, ‘‘পুরসভায় বৈঠক হোক। মন্ত্রীকে আমি সেকথা বলেছি। আলোচনায় সব সমস্যা মেটে। ২০০১তে শহরে অজানা জ্বরের সময় আমরা শহরবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন পদক্ষেপ করেছিলাম। তাতে কাজে সুবিধা হয়েছিল।’’

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy