৫০টিরও বেশি রিসোর্ট, পর্যটনের মরসুমে দেড় হাজারেরও বেশি পর্যটক রাত্রিবাস করেন। অথচ এলাকায় কোনও হাসপাতাল নেই। আপৎকালীন পরিস্থিতি তৈরি হলে কমপক্ষে ২৫ কিলোমিটার দূরত্ব পেরোতেই হবে। ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবা না থাকায় এমনই অবস্থায় পড়ে আছে পর্যটন কেন্দ্র লাটাগুড়ি। গরুমারা জাতীয় উদ্যান লাগোয়া পুরো লাটাগুড়ি পঞ্চায়েতেই হাসপাতাল নেই।
লাটাগুড়ি পঞ্চায়েতের দক্ষিণে মৌলানি পঞ্চায়েতের ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধার ঘেসে মৌলানি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও সেখানে রোগী ভর্তির ব্যবস্থা নেই। এক জন চিকিৎসক কোনও ক্রমে বহির্বিভাগ সামলান মাত্র। মৌলানি আর লাটাগুড়ি মিলিয়ে ৬০ হাজারেরও বেশি জনবহুল দুই পঞ্চায়েতে কেন শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল গড়ে উঠছে না কেন তা বুঝতে পারছেন শাসকদলের নেতা কর্মীরাও।
লাটাগুড়িতে ভাল মানের হাসপাতাল গড়ে তুলতে রাজ্য সরকারের নানা মহলে আর্জি জানিয়েছে লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সমস্যা থাকলে লাটাগুড়ি থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে মৌলানির বেহাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকেই পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের আকারে গড়ে তোলার দাবিও করে রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু কোনও দাবিতেই ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে ক্ষোভ সংগঠনের। রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব দিব্যেন্দু দেবের কথায়, ‘‘রাতবিরেতে পর্যটকদের শরীর খারাপ হলে আমরাই অস্বস্তিতে পড়ে যাই। গুরুতর অবস্থায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেকটাই সময় চলে যায়।’’
লাটাগুড়ি এবং মৌলানি এলাকার তৃণমূল নেতা তথা জলপাইগুড়ি জেলাস্তরের প্রবীণ তৃণমূল নেতা করুণাময় চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘প্রশাসনিক স্তর থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে এখন গ্রামের লোকেদের নিয়ে বড় আন্দোলন শুরুর কথা ভাবছি।’’ তৃণমূলের দখলে থাকা মৌলানি পঞ্চায়েতের প্রধান মহাদেব রায় জানালেন, একমাত্র চিকিৎসক বহির্বিভাগ কোনও রকমে সামলান। তিনি ছুটিতে গেলে তাও বন্ধ। সাপের কামড়, কুকুরের কামড়ের ইঞ্জেকশনও অমিল এখানে।’ লাটাগুড়ি ও মৌলানি এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবাও নেই বলে অভিযোগ। নিকটবর্তী হাসপাতাল মালবাজার এবং ময়নাগুড়ি যথাক্রমে ২৬ এবং ২৩ কিলোমিটারের দূরত্বে রয়েছে। তবু রোগীদের কথা ভেবে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা শুরু হয়নি।
সরকারি স্তরে সদিচ্ছার অভাবেই এই দুই এলাকা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদেরও। লাটাগুড়ি, মৌলানির জন্য আপাতত যে কোনও পরিকল্পনা নেই, তা জানিয়েছেন জলপাইগুড়ির মুখ্য স্বাস্থ্যআধিকারিক প্রকাশ মৃধাও। তিনি বলেন, ‘‘ডামডিমে নতুন প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ হাঁসখালির প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা যায় কিনা তা নিয়েও ভাবনা চিন্তা চলছে।’’ সামসিং-এও একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মালবাজারের ৩০০ শয্যার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল মার্চের পর শুরু হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।