Advertisement
E-Paper

ছোট হোটেলেও আবাসিক সুরক্ষা মেনে চলার নির্দেশ

ব্যয় বহুল হলেও, ছোট হোটেল-লজগুলিকেও আবাসিকদের সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে। শুক্রবার শিলিগুড়ির হোটেল এবং লজের মালিক-প্রতিনিধিদের ডেকে এমনই জানালেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার। এ দিন বর্ধমান রোডের একটি ভবনে শিলিগুড়ি পুলিশের তরফে হোটেল মালিকদের আলোচনার জন্য ডাকা হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ অগস্ট ২০১৫ ০১:৫৭

ব্যয় বহুল হলেও, ছোট হোটেল-লজগুলিকেও আবাসিকদের সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে। শুক্রবার শিলিগুড়ির হোটেল এবং লজের মালিক-প্রতিনিধিদের ডেকে এমনই জানালেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার। এ দিন বর্ধমান রোডের একটি ভবনে শিলিগুড়ি পুলিশের তরফে হোটেল মালিকদের আলোচনার জন্য ডাকা হয়। সেই বৈঠকে হোটেল মালিকদের সংগঠনের তরফে এক আর্জিতে জানানো হয়, আগুন প্রতিরোধের ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা অথবা অনলাইনে আবাসিকদের তথ্য সংগ্রহের মতো ব্যয়বহুল পরিকাঠামো ছোট হোটেলগুলির পক্ষে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সে কারণে ছোট হোটেলের ক্ষেত্রে বিকল্প কী করা যায়, তা পুলিশ কমিশনারের কাছে জানতে চান সংগঠনের প্রতিনিধি। যার উত্তরে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা জানিয়ে দেন, ছোট বা বড় সব হোটেল নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস বরদাস্ত করা হবে না। বৈঠকের শেষে কমিশনার বলেন, ‘‘বিভিন্ন হোটেলে কী ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখা হয়। এরপরেও বিভিন্ন হোটেলে পরিদর্শন হবে। কোথাও গাফিলতি দেখলে বরদাস্ত করা হবে না।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, আবাসিকদের নিরাপত্তা এবং তথ্য রাখা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে হোটেলগুলিতে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এর আগে শিলিগুড়ির হোটেলে গুলি চালানো থেকে শুরু করে অসামাজিক কাজকর্মের একাধিক অভিযোগ পুলিশের কাছে এসেছে। গত বছর প্রধাননগরের একটি হোটেলে আগুন লেগে দুই আবাসিকের মৃত্যুও হয়। এ দিনের বৈঠকে সে সব উদাহরণ পুলিশ কমিশনার নিজেই তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে আবাসিকদের তথ্য না রাখার কারণে বহু অপরাধী হোটেলগুলিতে এসে আশ্রয় নিচ্ছে বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে বলে কমিশনার জানান। সম্প্রতি একটি দুষ্কৃতীদল দক্ষিণ দিনাজপুরে ডাকাতি করে শিলিগুড়ির একটি হোটেলে ঘাঁটি গেড়েছিল। বেশ কয়েকদিন হোটেলে থাকার পরে শিলিগুড়ি ছেড়ে চলে যায় দলটি। কুখ্যাত এক দুষ্কৃতী দল শহরে বসে থাকলেও, পুলিশ বিষয়টি টের পায়নি। পরে পুলিশ জেনেছে, শহরের কিছু হোটেলে আবাসিকদের যথাযথ পরিচয়পত্র ছাড়াই ঘর দিয়ে দেয়। তার জেরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে পুলিশের দাবি।

এ দিন পুলিশের তরফে হোটেলের প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে, সব হোটেলে আগুন প্রতিরোধের ব্যবস্থা এবং আপৎকালীন বের হওয়ার রাস্তা থাকতে হবে। হোটেলের ঘর ভাড়া নিতে এলে ‘রিসেপশনে’ আবাসিকদের ছবি তোলার ব্যবস্থা থাকতে পারে। এতে আবাসিকের সাম্প্রতিকতম ছবি কর্তৃপক্ষের কাছে থাকবে। আবাসিকের নাম ঠিকানা, নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র এবং ছবি অনলাইনে জমা করতে হবে, যাতে কোনও প্রয়োজনে পুলিশ সহজেই তা পেতে পারে। এই ব্যবস্থা চালু হলে অপরাধীরা নাম ভাঁড়িয়েও কোনও হোটেলে আশ্রয় নিতে পারবেন না বলে পুলিশের দাবি। সেই সঙ্গে হোটেলের ভিতরে এবং বাইরেও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ নির্দেশ মতো পদক্ষেপ করেছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখতে পুলিশের দল হোটেলে যাবে বলেও জানানো হয়। এ দিনের সভার প্রশ্নোত্তর পর্বে বৃহত্তর শিলিগুড়ি হোটেল মালিকদের সংগঠনের সহ সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ কমিশনারের কাছে ছোট হোটেলগুলির আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘ছোট হোটেলগুলির আর্থিক সঙ্গতিও কম। প্রথাগত অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স বা অন্য পদক্ষেপ অনেক ব্যয়বহুল। নিরাপত্তার বিকল্প কোনও ব্যবস্থা করা গেলে ভাল হতো।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy