Advertisement
E-Paper

নিয়ন্ত্রণ নেই যান চলাচলে, ক্ষোভ

রাস্তার দু’ধার দখল করে মোটরবাইক, সাইকেল। সব রাস্তাতেই ঘুরে বেড়াচ্ছে টোটো। ছোট গাড়ি চলাচল করে গলি থেকে প্রধান সড়ক সর্বত্র। রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রীবাহী বাস। ট্রাফিক থেকেও যেন নেই কোথাও।

অরিন্দম সাহা

শেষ আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০১৫ ০২:২৫
কোচবিহার শহরে এমনই যান চলাচলের পরিস্থিতি। নিজস্ব চিত্র।

কোচবিহার শহরে এমনই যান চলাচলের পরিস্থিতি। নিজস্ব চিত্র।

রাস্তার দু’ধার দখল করে মোটরবাইক, সাইকেল। সব রাস্তাতেই ঘুরে বেড়াচ্ছে টোটো। ছোট গাড়ি চলাচল করে গলি থেকে প্রধান সড়ক সর্বত্র। রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রীবাহী বাস। ট্রাফিক থেকেও যেন নেই কোথাও।

অফিস টাইম শুরু হতেই যানজটের শহর হয়ে ওঠে কোচবিহার। অভিযোগ, শহরের বহু জায়গায় ট্রাফিক কর্মীদের দেখা যায় না। যে সব মোড়ে ট্রাফিক রয়েছে সেখানেও রোজ আইন ভাঙছেন গাড়ির চালকরা। ফলে কোচবিহারের শহরে যান চলাচলের গতি অনেক কমে গিয়েছে। শহরে যে যানজট হচ্ছে সে কথা অস্বীকার করছেন না শাসক দলের বিধায়ক থেকে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ শহরের উপরে চাপ কমাতে বাইপাস রাস্তার জন্য পূর্ত দফতরের সচিব ইন্দিবর পান্ডের সঙ্গে দেখা করেছেন। যানজট কমাতে মঙ্গলবার থেকে শহরে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

কোচবিহার পুলিশ সুপার রাজেশ যাদব জানান, কেউ ট্রাফিক আইন ভাঙলে বা আইন না মেনে চলাচল করলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রবীন্দ্রনাথবাবু জানান, ঘুঘুমারি, চার নম্বর হয়ে একটি রাস্তা কালজানি নদীর উপর দিয়ে তুফানগঞ্জ হয়ে অসমের দিকে যাবে। আরেকটি রাস্তা তোর্সার বাঁধের উপর দিয়ে হরিণচওড়া থেকে মধুপুর পর্যন্ত যাবে। তিনি বলেন, “সমস্ত গাড়ি শহরের উপর দিয়ে চলাচল করার জন্য যানজট তৈরি হচ্ছে। সে জন্যই বাইপাস রাস্তার চিন্তাভাবনা শুরু করা হয়েছে। সে ব্যাপারে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত হবে বলে আশা করছি।”

বিরোধীদের অবশ্য অভিযোগ, শহরের মধ্যে এখনও পরিকল্পিত ভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কোচবিহার পুরসভার বিরোধী দলের নেতা তথা সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মহানন্দ সাহা বলেন, “কোথাও ট্রাফিক ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। প্রতিদিন দুর্ঘটনা হচ্ছে। তাতেও কোনও হেলদোল নেই।”

কোচবিহারে শহরে যানজট নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। যানজট কমাতে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বড় গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে একমুখী রাস্তা করা হয়। তাতেও সমস্যা মেটেনি বলে দাবি। অভিযোগ, ক্রমশ শহরে ছোট গাড়ির সংখ্যা বেড়ে চলেছে। টোটোর সংখ্যাও দেড় হাজারের উপরে। সকাল থেকে ওই গাড়িগুলি সুনীতি রোড, এনএন রোড, বিশ্বসিংহ রোড, কেশব রোড, ব্যাংচাতড়া রোড-সহ বাজারে যাওয়ার সমস্ত রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ায়।

সাধারণ মানুষ হেঁটে চলাচল করতেও সমস্যার মুখে পড়ে যান। সুনীতি রোডে হরিশপাল মোড়ে সারা দিন যানজট লেগে থাকে। অথচ সেখানে ট্রাফিক পুলিশের একাধিক কর্মী থাকেন। ট্রাফিক সিগন্যালিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে। তার পরেও বহু বাস যাত্রী তোলার জন্য ওই মোড় আটকে দাঁড়িয়ে পড়ে। ওই রাস্তার তিনটি মোড়ে একই ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালের সামনেও রাস্তা দাঁড়িয়ে থাকে টোটো, অটো গাড়ি। প্রায় সব রাস্তাতেই একটি অংশ দখল করে রাখে বাইক, স্কুটার, সাইকেল। রাস্তার ধারেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেগুলি পার্কিং করে রাখা হয়। সম্প্রতি এনএন রোডে একটি যাত্রীবাহী গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক স্কুটার আরোহী স্কুল শিক্ষক মৃত্যু হয়। রাস্তা পার হওয়ার সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। যানজট না হলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব বলে অনেকেই দাবি করেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy