Advertisement
E-Paper

বাড়িতে পুলিশের হামলা, অভিযোগ

রবিবার গভীর রাতে এক রেশন ডিলারের ছোট ছেলের খোঁজে গিয়ে ওই রেশন ডিলার ও তাঁর তিন ভাইয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পুলিশ বাড়ির পুরুষ-মহিলাদের উপরে নির্বিচারে লাঠি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠল আলিপুরদুয়ার থানার কয়েকজন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০১:৩৭

রবিবার গভীর রাতে এক রেশন ডিলারের ছোট ছেলের খোঁজে গিয়ে ওই রেশন ডিলার ও তাঁর তিন ভাইয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পুলিশ বাড়ির পুরুষ-মহিলাদের উপরে নির্বিচারে লাঠি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠল আলিপুরদুয়ার থানার কয়েকজন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে। বাড়ির কর্তা সহ দু’জনকে পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ।

আলিপুরদুয়ার থানার বড় চৌকি গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই রেশন ডিলারের নাম তাজল রায়। পুলিশের মারে তাজলবাবু ছাড়াও তাঁর স্ত্রী তিল্কেশ্বরী, দুই মেয়ে পিঙ্কি ও বাণী ছাড়াও তাঁর তিন ভাই মাধব রায়, সুজন রায় ও দুলাল রায় এবং রবীন্দ্র দাস নামে এক প্রতিবেশী গুরুতর জখম হয়েছেন। বিরোধীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফর কালের মধ্যে অভিযুক্তের খোঁজে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে এমন হামলার অভিযোগ ওঠায় রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছেন পুলিশ কর্তারাও।

আলিপুরদুয়ারের আইসি দেবাশিস চক্রবর্তী বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘‘এই ঘটনার ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জানাব।’’ যদিও আলিপুরদুয়ারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুব্রুমনিয়ম সিলভা মরুগন জানান, ‘‘এমন একটি ঘটনার কথা শুনেছি। এ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী আলিপুরদুয়ারে রয়েছেন।আমরা ব্যস্ত রয়েছি। স্থানীয় থানায় ঠিক কী হয়েছে আমার জানা নেই। তবে দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সাদা পোশাকে তাজলবাবুদের বাড়ি গিয়েছিলেন ওই পুলিশকর্মীরা। পায়ে হাওয়াই স্যান্ডেল ছিল। তাঁদের অধিকাংশ নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ। পুলিশ ওই গ্রামের চারটি বাড়িতে ঢুকে মারধর করা ছাড়াও তিনটি টিভি, একটি ফ্রিজ, তিনটি আলমারি, চারটি শোকেস ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ।

তাজলবাবুর বড় ছেলে বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘‘এদিন রাত ১২টার পরে কয়েকজন এসে বাবার নাম ধরে ডাকতে থাকেন। আমরা বের হতেই নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন তাঁরা। আমার ছোট ভাই প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে তাঁকে বের করে দিতে বলেন। সাদা পোশাক পরা থাকায় আমরা তাঁদের পরিচয়পত্র দেখতে চাই। ভাই বাড়িতে নেই বলে জানাই। তা ছাড়া ভাইয়ের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তা-ও জানতে চাই। গ্রেফতারি পরোয়ানার কাগজ দেখতে চাইতেই বাবাকে মারধর শুরু করেন তাঁরা। আমি দুই বোন ও মা বাধা দিলে আমাদেরও লাঠি দিয়ে নির্বিচারে মারতে শুরু করেন। গ্রামের লোকজন ও আমার তিন কাকা ডাকাত ভেবে তাঁদের ধরে ফেলেন। তিন জন পালিয়ে যান। আমরা থানায় ফোন করি। কিছু ক্ষণের মধ্যে এক দল পুলিশ এসে গোটা বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে। টিভি ফ্রিজ আলমারি মেঝেতে ফেলে ফেলে ভাঙে। বাধা দিলে আমাদের সবাইকে মারধর করে। এর পর কাকাদের বাড়িতে ভাঙচুর করে। তাঁদেরও মারধর করে।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমার বাবা ও পিসতুতো ভাই মনোজিৎকে তুলে নিয়ে যায়।’’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‘আমার ভাই কী এমন অপরাধী যে মধ্য রাতে এ ভাবে ভাইকে ধরতে আসতে হবে? ঘরের আসবাব পত্র ভাঙা ছাড়াও আমাদের ঘরের জানলা দরজার সমস্ত কাচ ভেঙে দিয়েছে। প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার জিনিসের ক্ষতি হয়েছে। আমরা এর সুবিচার চাই। শীঘ্রই পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হব।’’

তাজলবাবুর বড় মেয়ে পিঙ্কির অভিযোগ, ‘‘কোনও মহিলা পুলিশ ছিল না। পুরুষ পুলিশরা আমার উপর নির্বিচারে লাঠি চালায়। সারা শরীরে কালসিটে পড়েছে। ওই পুলিশদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।’’ তাজলবাবুর ভাই সুজন রায় বলেন, ‘‘ভাইপোর খোঁজে এসে এ ভাবে আমাদের উপর পুলিশ হামলা চালায়। এর বিচার চাই।’’

এই ঘটনার খবর জেনে, বিজেপির আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতি গুণধর দাস জানান, পুলিশ দিয়ে তৃণমূল সরকার যে রাজ্য জুড়ে গুন্ডারাজ চালাচ্ছে সেটা ফের প্রমাণ হল। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। বাড়ির পুরুষ মহিলাদের উপর হামলাকারী অভিযুক্ত ওই পুলিশদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’’ সিপিএম নেতা,অসীম সরকার বলেন, ‘‘এমন ঘটনা মানা যায় না। এই ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy