Advertisement
E-Paper

বাড়িতে ঢুকে দম্পতিকে কুপিয়ে খুন কালিম্পঙে

ভোর রাতে বাড়িতে ঢুকে এক দম্পতিকে কুপিয়ে খুন করল একদল দুষ্কৃতী। কালিম্পঙের গিদাবলিঙের বুদাবারায় এই ঘটনায় মৃত্যু হয় দমিনিক ভুটিয়া (৪৯) ও তাঁর স্ত্রী ক্রিস্টিনার (৩০)। তাঁদের ১২ বছরের মেয়ে রিনজের চোখেও ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। ঘটনার সময়ে তাঁদের ছোট মেয়ে ইংয়মু লুকিয়ে পড়েছিল। ঘটনার পরে ৭ বছরের ইয়াংমুই এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কথা জানায়। বৃহস্পতিবার ভোর তিনটে নাগাদ ওই ঘটনার পরে সন্ধ্যায় ওই গ্রামের বাসিন্দা পূরণ রাইকে গ্রেফতার করেছে কালিম্পং থানার পুলিশ। আহত রিনজ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০১৪ ০২:১৪

ভোর রাতে বাড়িতে ঢুকে এক দম্পতিকে কুপিয়ে খুন করল একদল দুষ্কৃতী। কালিম্পঙের গিদাবলিঙের বুদাবারায় এই ঘটনায় মৃত্যু হয় দমিনিক ভুটিয়া (৪৯) ও তাঁর স্ত্রী ক্রিস্টিনার (৩০)। তাঁদের ১২ বছরের মেয়ে রিনজের চোখেও ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। ঘটনার সময়ে তাঁদের ছোট মেয়ে ইংয়মু লুকিয়ে পড়েছিল। ঘটনার পরে ৭ বছরের ইয়াংমুই এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কথা জানায়। বৃহস্পতিবার ভোর তিনটে নাগাদ ওই ঘটনার পরে সন্ধ্যায় ওই গ্রামের বাসিন্দা পূরণ রাইকে গ্রেফতার করেছে কালিম্পং থানার পুলিশ। আহত রিনজ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, দমিনিক এলাকায় একশো দিনের কাজের একটি প্রকল্পের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি কাজ নিয়ে পূরণের সঙ্গে দমনিকের বচসা হয় বলে বাসিন্দারা জানান। তারপর থেকেই দু’জনের মধ্যে উত্তেজনা ছিল বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে। পূরণের সঙ্গে দমিনিকের পরিবারের একটি ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত পুরনো বিবাদও ছিল। দার্জিলিঙের পুলিশ সুপার অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, “তদন্তে অনেক তথ্য উঠে আসছে। বিষয়টি পরিষ্কার না হলে খুনের কারণ নিয়ে মন্তব্য ঠিক নয়।”

প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে দরজার কড়া নাড়ার শব্দ শুনে দম্পতির ঘুম ভাঙে। দরজা খুলতেই দুষ্কৃতীরা ঘরে ঢোকে। তবে কতজন দুষ্কৃতী ঘরে ঢুকেছিল তা নিয়েও ধন্দে রয়েছে পুলিশ। দম্পতির বড় মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রিনজা পুলিশকে একজন দুষ্কৃৃতীর কথা জানালেও, ছোট মেয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইয়ংমু দু’জন দুষ্কৃতী ছিল বলে জানিয়েছে। তাদের থেকে পুলিশ জেনেছে, রাত তিনটে নাগাদ মুখোশ পরে আসা এক দুষ্কৃতী ধারাল অস্ত্র নিয়ে প্রথমে দমিনিকের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। চিৎকার শুনে ক্রিস্টিনা চলে এলে, তাঁকেও কোপ মারা হয়। দু’জনেরই মাথা এবং বুকে কোপ মারা হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁরা লুটিয়ে পড়লে, রিনজের মুখে কোপ মারে দুষ্কৃতীও। পুলিশের অনুমান, সে সময়ে রিনজও শুয়ে পড়লে, তার মৃত্যু হয়েছে ভেবে দুষ্কৃতী পালিয়ে যায়।

ইয়ংমু খাটের নীচে লুকিয়ে পড়ায় দুষ্কৃতীর নজরে সে পড়েনি। ঘটনার পরে সেই পড়শি এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে খবর দেয় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুই শিশুই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সে কারণে তারা বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনমজুরি করেই চার জনের সংসার চালাতেন দমিনিক। সম্প্রতি একশো দিনের কাজে জলাধার তৈরির প্রকল্পে সুপারভাইজারের দায়িত্ব পান তিনি। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁর রিপোর্টের ভিত্তিতেই শ্রমিকরা কী পরিমাণ কাজ করেছে তা জানা যায়। সেই সুবাদেই কিছুদিন আগে কাজের সময় বিবাদের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ।

murder of couple kaliagang
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy