ভিআইপি গ্যালারির অধিকাংশ চেয়ারই ভাঙা। ভিআইপি বক্সের মাথার উপরে থাকা প্রেস বক্স এত ছোট যে তাতে ১০ জনের বেশি একসঙ্গে বসা যায় না। স্টেডিয়ামে ড্রেসিংরুম যেখানে সে’দিক দিয়ে মাঠে ঢোকার গেটের মাথা থেকে বৃষ্টি হলেই জল চুঁইয়ে পড়ে। স্টেডিয়ামের অনেক জায়গা থেকেই জল পড়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় তিরিশ বছর আগে তৈরির পর থেকে মাঠের নিকাশি নালা পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে জল ঠিকমত বার হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই অবস্থায় বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের সাক্ষী কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে ভবিষ্যতে কোনও বড় ম্যাচ পেতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রীড়া পরিষদের সদস্যদের একাংশ।
স্টেডিয়ামের দশা ফেরানোর ব্যাপারে চিন্তা করছেন বলে জানান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি বলেন, ‘‘স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। এটির সংস্কারে অনেকগুলি পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুত তা রূপায়ণ করা হবে।’’
শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মাঠ, গ্যালারি সহ পরিকাঠামোর দ্রুত উন্নতি প্রয়োজন বলে স্বীকার করেছেন শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের সচিব অরূপরতন ঘোষ। তিনি জানান, বেশ কয়েকটি জায়গা দ্রুত মেরামতি করা দরকার। কিছু জিনিস নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে। এগুলো না থাকাটা বড় ম্যাচ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায়। এগুলো সময়মত করতে পারলে যুব বিশ্বকাপের ম্যাচও শিলিগুড়িতে আনা যেতে পারে বলে আশা তাঁর। এ বিষয়ে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন(এআইএফঅফ)-এর সহ সভাপতি সুব্রত দত্তের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক ম্যাচের ক্ষেত্রে ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ফিফা)-এর আওতাভুক্ত। তাই কোনও প্রতিযোগিতার অনেক আগেই তাঁরা প্রস্তাবিত মাঠ ঘুরে দেখেন। দেশের ৬ টি মাঠ যুব বিশ্বকাপের জন্য মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বলে জানি। তাঁর মধ্যে বাংলার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণ ছাড়া আর কোনও মাঠ নেই।’’ তবে মাঠ ও পরিকাঠামো ঠিক করা না হলে ভবিষ্যতে জাতীয় স্তরের ম্যাচও করতে অসুবিধা হতে পারে বলে ফেডারেশন সূত্রে জানানো হয়েছে।
আটের দশকে তৈরি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের অবস্থা খুব খারাপ বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের তহবিল থেকে ফ্লাডলাইট লাগানো হলেও বাকি পরিকাঠামো নিয়ে কোনও চিন্তাভাবনাই করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। স্টেডিয়ামের দর্শকাসনের সংখ্যা ৩৫ হাজার। তবে পরিকাঠামোগত সমস্যার জন্য ২৭ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি করে না ক্রীড়া পরিষদ। ভিআইপি গ্যালারিতে এখন মোট আসন রয়েছে প্রায় ৫০০টি। তার মধ্যে নব্বই শতাংশ আসনই ভাঙা। খেলা থাকলে সামনের দিকের ফাঁকা জায়গায় আলাদা করে কিছু চেয়ার পেতে দেওয়া হয়। এর ঠিক উপরে রয়েছে প্রেস বক্স। সেটি একেবারেই ব্যবহারের অযোগ্য। সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নিম্ন মানের। এমনকী সেখানে ইন্টারনেটও কাজ করে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই বক্সটিকে ভেঙে তার আকার বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দরকার একটি অত্যাধুনিক ড্রেসিংরুম। বর্তমানে যে ড্রেসিংরুম রয়েছে, তা জাতীয় মানেরও নয় বলে অভিযোগ। নতুন যে ড্রেসিং রুমের প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা বক্স করার কথা। প্রতিটি খেলোয়াড়ের নাম লেখা আলাদা আলমারি, দেরাজ ও কাবার্ড থাকবে। এ ছাড়া নিকাশি ব্যবস্থাকেও আধুনিক করার দরকার বলে ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আপাতত যে নিকাশি নালাটি রয়েছে তা স্টেডিয়াম তৈরির সময়কার। তাতে আর হাত পড়েনি বলে ক্রীড়া পরিষদ কর্তারা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন পরিস্কার না করায় নালার মুখ সরু হয়ে গিয়েছে। এটিও দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
মেরামতি ও পুনর্গঠন করতে খরচও প্রচুর। পরিষদ সূত্রে জানানো হয়েছে, অন্তত ১০ কোটি টাকা দরকার। অরূপরতনবাবু বলেন, ‘‘ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতর থেকে আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে বড় অঙ্কের তহবিল পাওয়া যাবে বলে। সে ব্যপারে যুব কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান সচিবকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানি। সেটা মঞ্জুর হলেই কাজ শুরু করে দেওয়া হবে।’’ ক্রীড়া দফতর থেকে ইতিমধ্যেই প্রথম পর্যায়ের টাকা মঞ্জুর হয়েছে বলে জানান ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের সংস্কার দ্রুত শুরু হবে। বেশ কিছু টাকাও মঞ্জুর হয়েছে। তবে কত টাকা পরে নথি দেখে জানাতে পারব।’’