Advertisement
E-Paper

মানিকচকে দুর্ঘটনায় আহত ১৪

যে রাস্তা দিয়ে বাস কম চলাচল করে, সোমবার মাধ্যমিকের দিনও সে রাস্তায় বাস কিন্তু বাড়েনি। ছোট গাড়িতেও কোনওমতে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াত করেছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। তাতে সমস্যাও কিছু কম হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:৪৬
 মানিকচকে দুর্ঘটনায় আহত ছাত্রীরা। নিজস্ব চিত্র।

মানিকচকে দুর্ঘটনায় আহত ছাত্রীরা। নিজস্ব চিত্র।

যে রাস্তা দিয়ে বাস কম চলাচল করে, সোমবার মাধ্যমিকের দিনও সে রাস্তায় বাস কিন্তু বাড়েনি। ছোট গাড়িতেও কোনওমতে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াত করেছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। তাতে সমস্যাও কিছু কম হয়নি। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ মানিকচকের বাকিপুর গ্রামে মোটর চালিত ভ্যান উল্টে জখম হল ১৪ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা রয়েছে আশঙ্কাজনক। ঘটনায় অন্য ছাত্ররা পরীক্ষা দিলে পারলেও পরীক্ষা দিতে পারল না ইন্দ্রজিৎ মহলদার। সে মানিকচকের মথুরাপুরের কাকরি বাঁধ গ্রামের বাসিন্দা। চিকিৎসাধীন রয়েছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।

এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের উপরেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন সাধারন মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে প্রতি নিয়ত ছোট গাড়িগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে চলাচল করে। অনেক সময় ছোট গাড়ির ছাদেও যাত্রী তোলা হয়। পুলিশ প্রশাসন নজরদারি চালালে একটি মোটর চালিত ভ্যানে এক সঙ্গে ১৪ জন পরীক্ষার্থীকে নিয়ে চলাচল করার সাহস দেখাতো না চালকেরা। মালদহের অতিরিক্ত জেলা শাসক দেবতোষ মন্ডল বলেন, ‘‘এই ভাবে যাতায়াতের উপরে নজরদারি চালানো হবে। একই সঙ্গে আইননত পদক্ষেপও নেওয়া হবে।’’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকচক থানার মথুরাপুর গ্রামপঞ্চায়েতের কাকরি বাঁধের বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ মহলদার সহ ১৪ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে মোটর চালিত ভ্যানে করে এনায়েতপুরে আসছিল। তারা মথুরাপুর বিএসএস হাই স্কুলের ছাত্র। আসন পড়েছে পাঁচ কিলোমিটার দূরে এনায়েতপুরে। মথুরাপুরের বাকিপুরের কাছে মালদহ-মানিকচক রাজ্য সড়কের উপরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বোঝাই মোটর চালিত ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা আহত পরীক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিয়ে যান মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে। এই ঘটনায় রাজ্য সড়কের উপরে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইন্দ্রজিতের দু’পায়ে ভ্যানের গরম জল পরে পুড়ে যায় এবং মাথায় আঘাত লাগে। ইন্দ্রজিতের বাবা রমেশ মহলদার বলেন, ‘‘দিনমজুরি করে সংসার চালাই। পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে কি না, বুঝতে পারছি না।’’ এনায়েতপুর কেন্দ্রের পরিদর্শক সুনন্দ মজুমদার অবশ্য বলেন, ‘‘ছাত্রটি পরবর্তী পরীক্ষা গুলিতে দিতে চাইলে আমরা সব রকম সাহায্য করব।’’

এদিন জেলার বিভিন্ন রুটে পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন ছোট গাড়িতে চাপাচাপি করে এবং গাড়ির ছাদে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে দেখা যায়। ইংরেজবাজার অমৃতি, হবিবপুরের আইহো থেকে শ্রীরামপুর, বুলবুলচন্ডী থেকে কানতুর্কা প্রভৃতি রুটে এমনই চিত্র দেখা যায়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রুটগুলিতে হাতে গোনা কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি বাস রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত ছোট গাড়ি রয়েছে। গাড়ির ছাদে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌচ্ছানোর বিষয়ে নজরদারি চালানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy