পাত্রের ভাল রোজগার, বাড়ি দেখে গুরগাঁওয়ে নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দিতে যাচ্ছিলেন মা। মঙ্গলবার সন্ধের পর সেই খবর পৌঁছয় নারী পাচার নিয়ে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে। পুলিশ, প্রশাসনকে নিয়ে সংগঠনের সদস্যরা নকশালবাড়ি ব্লকের ছোট মণিরাম এলাকায় গিয়ে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে শেষে আটকান নাবালিকাটির বিয়ে। গ্রেফতার করা হয়, গুরুগাঁও থেকে আসা পাত্র-সহ তিন জনকেও।
নকশালবাড়ির বিডিও কিংশুক মাইতি বলেন, ‘‘স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যৌথ ভাবে আমরা এলাকায় যাই। মেয়ের মা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে বুঝেছেন। আপাতত মেয়েটিকে একটি হোমে রেখে কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে। ধৃতদের সম্পর্কে পুলিশকে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। এখানকার পুলিশ দিল্লি পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে।’’ পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম কমল কুমার, সতপাল সিংহ এবং সতবীর সিংহ। কমলের সঙ্গেই মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয়েছিল। সে গুরগাঁওয়ে একটি জলের সংস্থার গাড়ি চালানোর কাজ করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে নাবালিকা বিয়ে রোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রের খবর, মেয়েটির বয়স ১৬ বছর। সে নকশালবাড়ির একটি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা দীর্ঘ দিন আগেই মারা গিয়েছেন। চার বোনের মধ্যে দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। দাদাও বিবাহিত। মা এলাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। মাঝেমধ্যে সুপারি ঝাড়াইয়ের কাজ করেন। পরিবারটির অবস্থা স্বচ্ছল নয়। কিছু দিন আগে এলাকার একটি মেয়ের দিল্লিতে বিয়ে হয়।
সেই সূত্র ধরেই নাবালিকার মায়ের কাছে গুরুগাঁও-এর পাত্রের খোঁজ আসে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির রাজ্য তথা উত্তর পূর্বের প্রধান দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দিল্লিতে আমাদের সংগঠনের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। সেখান থেকেই ধৃতদের সম্পর্কে খোঁজখবর করা হচ্ছে। শুধু মাত্র বিয়ে, না পাচারের উদ্দেশ্য ছিল তা দেখা হচ্ছে।’’